অর্থোপেডিক ডাক্তার

অর্থোপেডিস্ট (অর্থোপেডিক ডাক্তার): ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অর্থোপেডিক ডাক্তারের চাহিদা বেশ ভালো। অস্থিসংক্রান্ত সমস্যা দেশব্যাপী অনেক মানুষেরই থাকে বিধায় প্রয়োজনে অর্থোপেডিক ডাক্তারকে দেশের মানুষের বেশি প্রয়োজন হয়।

এক নজরে একজন অর্থোপেডিক ডাক্তার

সাধারণ পদবী: অর্থোপেডিক ডাক্তার
বিভাগ: স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল টাইম, চুক্তিভিত্তিক
লেভেল: মিড
অভিজ্ঞতা সীমা: ২ – ৩ বছর
বেতনসীমা: ৳২০,০০০ – ৳৭০,০০০
সম্ভাব্য বয়সসীমা: ২৬ – ৩৫ বছর
মূল স্কিল: হাড়ের সমস্যা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞান, রোগীকে উপযুক্ত চিকিৎসা দিতে পারা, ঔষধ ও চিকিৎসা প্রযুক্তি সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখা
বিশেষ স্কিল: সেবার মানসিকতা থাকা, যোগাযোগের দক্ষতা

একজন অর্থোপেডিক ডাক্তার কোথায় কাজ করেন?

    সরকারি পর্যায়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে টারশিয়ারি পর্যায়ের হাসপাতাল পর্যন্ত সব ধরনের হাসপাতালেই একজন অর্থোপেডিক ডাক্তার কাজ করতে পারেন। সরকারি এবং বেসরকারি – দুই ধরনের হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানেই অর্থোপেডিক ডাক্তার নিযুক্ত থাকেন। এক্ষেত্রে তাই একজন অর্থোপেডিক ডাক্তারের কর্মক্ষেত্র বেশ বিস্তৃত।

একজন অর্থোপেডিক ডাক্তার কী ধরনের কাজ করেন?

অর্থোপেডিক ডাক্তার হিসেবে আপনাকে সাধারণত নিম্নলিখিত কাজগুলো করা লাগবে –

  • ড্রেসিং করা বা করানো;
  • প্লাস্টার করা;
  • অস্থি সংক্রান্ত সার্জারি সম্পন্ন করা;
  • পেশেন্ট বা রোগী মনিটর করার দায়িত্বও পালন করতে হয়।

একজন অর্থোপেডিক ডাক্তার কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

সাধারণত এমবিবিএস ডিগ্রি পাস করলেই আপনি অর্থোপেডিক ডাক্তার হিসেবে কাজ করতে পারবেন। এর পাশাপাশি আপনার অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়ার সাথে সাথে আপনার কাজের সুযোগ বাড়বে। এফসিপিএস, এমএস, এফআরসিএস অথবা ডি-অর্থো ডিগ্রি থাকলে আপনার কাজের পরিধি বাড়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং ধীরে ধীরে আপনার পদোন্নতি হয়।

একজন অর্থোপেডিক ডাক্তারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • ইমার্জেন্সি অবস্থা সামাল দেয়ার মত মানসিকতা থাকতে হবে;
  • লম্বা সময় ধরে সার্জারি করার ধৈর্য থাকতে হবে;
  • এন্টিবায়োটিক এবং ড্রেসিং সম্পর্কে ভালো জ্ঞান থাকতে হবে;
  • কৃত্রিম অঙ্গ, বায়োনিক অঙ্গ ও রোগীর পুনর্বাসন সম্পর্কিত সম্যক জ্ঞান থাকা আবশ্যক;
  • রেগুলার ফলোআপ এবং পেসেন্ট মনিটরিং জানতে হবে;
  • নতুন নতুন সার্জিকাল পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ ও অতঃপর প্রয়োগ করতে হবে;
  • বিভিন্ন অর্থোপেডিক কনফারেন্স-এ অংশগ্রহণ করতে হবে। এতে আপনার শিক্ষাগত ধারণা বাড়বে যা আপনাকে ক্যারিয়ার উন্নয়নে সাহায্য করবে পরবর্তীতে;
  • জুনিয়রদের কাজ শেখানোতে পারদর্শিতা থাকতে হবে।

একজন অর্থোপেডিক ডাক্তারের মাসিক আয় কেমন?

বেসরকারি খাতে অর্থোপেডিক ডাক্তারের মাসিক সম্মানীর পরিমাণ বাংলাদেশে বেশ ভালো। সাধারণত অভিজ্ঞতা ব্যতীত নিয়োগ পেলে আপনার মাসিক সম্মানী হবে ২০,০০০ টাকা থেকে ৭০,০০০ টাকার মত। অভিজ্ঞতা আছে এমন ব্যক্তিদের মাসিক সম্মানী শুরু হয় এক লাখ টাকা থেকে। সময় ও অভিজ্ঞতার সাথে আপনার মাসিক আয় বেড়ে পাঁচ লাখ টাকা কিংবা তার অধিকও হতে পারে। কনসালট্যান্ট পদে নিযুক্ত ব্যক্তিদের সাধারণত মাসিক দেড় থেকে দুই লাখ টাকা সম্মানী দেওয়া হয়ে থাকে। অস্থিসংক্রান্ত কাজে রোগীদের আনাগোনা বেশি এবং এই কাজে চাপের পরিমাণও বেশ বেশি। এক্ষেত্রে তাই অর্থোপেডিক ডাক্তারের চাহিদা অনেক এবং মাসিক সম্মানীও সেই চাহিদার উপর নির্ভর করেই বেশ ভালো।
সরকারি কর্মক্ষেত্রে আপনার মাসিক সম্মানী নির্দিষ্ট করা থাকবে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী। এক্ষেত্রে আপনার মাসিক সম্মানী শুরু হবে ৯ম স্কেল বা ২২০০০ টাকা থেকে। আপনি আলাদাভাবে নিজের চেম্বারে রোগী দেখার ব্যবস্থা রাখলে সেক্ষেত্রে আপনার মাসিক আয় আরও বেশি হবে যেহেতু অর্থোপেডিক বা অস্থিসংক্রান্ত সমস্যা বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

একজন অর্থোপেডিক ডাক্তারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

বেসরকারি খাতে একজন অর্থোপেডিক ডাক্তারের ক্যারিয়ারের পদবিন্যাস সাধারণত নিম্নলিখিত পদগুলো অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এগোয় –
১। জুনিয়র মেডিকেল সার্জন
২। সিনিয়র মেডিকেল সার্জন
৩। রেজিস্ট্রার
৪। অর্থোপেডিক কনসালট্যান্ট
৫। অধ্যাপক (অর্থোপেডিক)
এক্ষেত্রে নিয়োগের পরে আপনার প্রথম পদ হবে জুনিয়র মেডিকেল সার্জন। সাধারণত অভিজ্ঞতা নেই এমন ব্যক্তিদেরকেই জুনিয়র মেডিকেল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিছু সময় অভিজ্ঞতা লাভের পরে এবং নতুন কোন উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রি লাভের মাধ্যমে আপনি সিনিয়র মেডিকেল অফিসার হিসেবে পদোন্নতি পাবেন। পরবর্তী পদোন্নতির ক্ষেত্রেও আপনি নতুন কোন ডিগ্রি অর্জন করেছেন কিনা এই ব্যাপারটি মুখ্য। অভিজ্ঞতা লাভ করলেও আপনি যদি নতুন কোন উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে ডিগ্রিপ্রাপ্ত না হোন সেক্ষেত্রে আপনার পদোন্নতি হবে না। তাই এক্ষেত্রে পড়াশোনা চলমান রাখতে হবে এবং প্রতিনিয়ত আপনাকে আপনার বিষয় নিয়ে জানতে হবে। চিকিৎসক হিসেবে আপনাকে অবশ্যই অস্থিসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে সম্যক ধারণা রাখতে হবে।
সরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে আপনার পদবিন্যাস মেডিকেল অফিসার থেকে শুরু হয়ে প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ অধ্যাপক পর্যন্ত যেতে পারে।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা

১. শাইখ সিরাজ (এমবিবিএস, এমআরসিপি – পার্ট ১), প্রাক্তন অনারারি মেডিকেল অফিসার – ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জুলাই ২০১৭ থেকে জানুয়ারী ২০১৮

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।