আইনজীবী

আইনজীবী: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

দেশে-বিদেশে সবচেয়ে পরিচিত ও চ্যালেঞ্জিং পেশাগুলোর একটি হলো আইন পেশা। আইনজীবী শব্দটি অবশ্য সাধারণ অর্থে ব্যবহৃত হয়। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে সলিসিটর (Solicitor) ও ব্যারিস্টার (Barrister) শব্দের প্রচলন রয়েছে। কাজের ধরন আলাদা হবার কারণে এমনটা হয়েছে। অন্যদিকে আমাদের দেশে অ্যাডভোকেট বা উকিল নামের প্রচলন বেশি। তবে এ উপাধি ব্যবহার করার আনুষ্ঠানিক কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে।

এক নজরে একজন আইনজীবী

সাধারণ পদবী: অ্যাডভোকেট
বিভাগ: আইন ও আদালত
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, আধা সরকারি, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড, টপ
অভিজ্ঞতা সীমা: প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বেতন সীমা: ৳৩০,০০০ – কাজ, অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
সম্ভাব্য বয়স সীমা: প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
মূল স্কিল: বিশ্লেষণী ক্ষমতা, যুক্তিসহ বক্তব্য উপস্থাপনে দক্ষতা
বিশেষ স্কিল: গবেষণা করার দক্ষতা

কোন ধরনের শিল্প বা ইন্ডাস্ট্রিতে একজন আইনজীবী কাজ করে থাকেন?

যেহেতু সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে আইনের প্রয়োগ রয়েছে, সেহেতু একজন আইনজীবীর কাজকে কখনো এক শিল্প বা ইন্ডাস্ট্রিতে ফেলা যাবে না।

বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা বা বিজেএস পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী জজ হবার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আমাদের দেশের আইনজীবীদের একটি বড় অংশ আদালতে প্র্যাকটিস করে থাকেন। এর বাইরে প্রাইভেট ফার্ম বা কোম্পানির মাধ্যমে আইনি সহায়তাও দিয়ে থাকেন তারা।

একজন আইনজীবী কী ধরনের কাজ করেন?

ক্লায়েন্ট ও কাজের জায়গার ভিত্তিতে আইনজীবীদের কাজ আলাদা হয়ে থাকে। সাধারণত তাদের কাজের তালিকায় পড়েঃ

  • মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট, সহকর্মী ও বিচারকদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা;
  • আইনি সমস্যা নিয়ে গবেষণা করা;
  • ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য আইনকানুন ও নীতিমালা অনুধাবন করা;
  • বিভিন্ন আইনি নথি (উদাঃ আপিল, দলিল, চুক্তি) তৈরি করা;
  • ক্লায়েন্টের পক্ষে যুক্তি সরবরাহ করা ও যথাযথ আইনি পরামর্শ দেয়া।

কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয় একজন আইনজীবীর?

আমাদের দেশে আইনজীবী হবার জন্য আপনাকে বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রাথমিক দুইটি শর্ত হলোঃ

  • বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া আবশ্যক;
  • বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে।

এ দুইটি শর্ত পূরণ হলে বাকি ধাপগুলো প্রযোজ্য হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা: আইন বিষয়ে পড়াশোনা বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা বার কাউন্সিল স্বীকৃত বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি গ্রহণযোগ্য। আপনার গ্র্যাজুয়েশন যদি আইন ছাড়া অন্য কোন বিষয়ে হয়ে থাকে, তাহলে এলএলবি কোর্স সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ: আবেদন ফর্ম জমা দেবার পর কমপক্ষে ৬ মাস একজন শিক্ষানবিশ হিসাবে সিনিয়র কোন অ্যাডভোকেটের অধীনে কাজ করতে হবে। এরপর মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হলে অ্যাডভোকেট হবার যোগ্যতা অর্জন করবেন।

বার কাউন্সিলের সনদ পাবার মাধ্যমে আপনি মূলত নিম্ন আদালতে কাজ করার সুযোগ পাবেন। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে কাজ করার জন্য আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য। অভিজ্ঞতার শর্তগুলো হলো –

  • হাইকোর্ট বিভাগ: নিম্ন আদালতে কমপক্ষে ২ বছর;
  • আপিল বিভাগ: হাইকোর্ট বিভাগে কমপক্ষে ৫ বছর।

লক্ষ করুন যে আপিল বিভাগে কাজ করার সুযোগ পেতে বিচারপতিদের স্বীকৃতি প্রয়োজন। বিশেষ ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতি একজন আইনজীবীকে আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনার অনুমতি দিতে পারেন।

কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয় একজন আইনজীবীর?

যে কোন আইনি সমস্যাকে বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা ও যুক্তির সাহায্যে সমাধান উপস্থাপনা করার দক্ষতা থাকা এ পেশায় অপরিহার্য। এছাড়া আইনের যে শাখায় (উদাঃ মানবাধিকার আইন, কর্পোরেট আইন) আপনি কাজ করছেন, তার উপর নিয়মিত জ্ঞান অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ। আইনি পরামর্শ দেয়া বা মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি কাজে দেবে।

অন্যান্য যে বিষয়ে স্কিল থাকা দরকারঃ

  • গবেষণা
  • কথা বলা ও লেখা
  • ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও যোগাযোগ

একজন আইনজীবীর কাজের সুযোগ কেমন?

একজন আইনজীবীর কাজের ক্ষেত্র আদালতে সীমাবদ্ধ নয়। জুডিশিয়াল সার্ভিসের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আইনি পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন আপনি। বিশেষ করে ব্যাংক, বীমা ও বড় কোম্পানিগুলোর কাছে আইনজীবীদের বেশ মূল্য রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি সংস্থার (উদাঃ মানবাধিকার বা পরিবেশ রক্ষা সংস্থা) হয়েও কাজ করতে পারেন চাইলে।

স্বাধীনভাবে কাজ করার ইচ্ছা থাকলে নিজেই আইনি উপদেশ দেবার ফার্ম প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।

একজন আইনজীবীর মাসিক আয় কেমন?

একজন আইনজীবীর আয় কাজের ধরন ও অভিজ্ঞতার উপর নির্ভরশীল। বার সনদ নেবার শুরুতে হয়তো আপনি মাসে ৩০,০০০ – ৪০,০০০ টাকা উপার্জন করতে পারবেন। সিনিয়র আইনজীবীদের ক্ষেত্রে আয় কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে একজন আইনজীবীর?

আদালতভিত্তিক কাজের বেলায় আইনজীবীদের পদোন্নতির ধারা সুনির্দিষ্ট। ধাপে ধাপে নিম্ন আদালত থেকে আপিল বিভাগে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করবেন আপনি।

সরকারি পর্যায়ে সহকারী জজ হিসাবে শুরু হবে আপনার ক্যারিয়ার। এরপর সিনিয়র জজ, যুগ্ম জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ ও জেলা জজে পদোন্নতি পাবার সুযোগ রয়েছে।

আইনি উপদেষ্টা বা পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ করলে প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে আপনার পদ বদলে যাবে।

প্রতিযোগিতামূলক ও সম্মানজনক পেশার মাধ্যমে ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করার ইচ্ছা থাকলে আইনজীবী হতে পারেন।

তথ্যসূত্র

১. ‘আইন পেশায় স্বাগত’, ২০ মে ২০১৫, দৈনিক কালের কণ্ঠ।

২. ‘আইন পেশায় ক্যারিয়ার’, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, দৈনিক সমকাল।

৩. বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন।

৪. বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

Loading

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।