ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার

ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ার: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার একটি কারখানার পণ্য উৎপাদন ব্যবস্থার তদারকি করে থকেন। অন্যভাবে বলা যায়, একটি কারখানার সামগ্রিক অপচয় কমিয়ে উৎপাদনের গতি বাড়ানোই হলো তার কাজ। এর জন্য তিনি শ্রমিক, যন্ত্র, কাঁচামাল, বিদ্যুৎসহ সব বিষয়ের সমন্বয় করে থাকেন।

এক নজরে একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার

সাধারণ পদবী: ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার
বিভাগ: ইঞ্জিনিয়ারিং
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা: ০ – ২ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন: ৳২০,০০০ – কাজ, প্রতিষ্ঠান ও অভিজ্ঞতাসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: ২৫ বছর
মূল স্কিল: উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান, অটোক্যাড (CAD), ম্যাটল্যাব (MATLAB), প্রজেক্ট ব্যবস্থাপনা
বিশেষ স্কিল: সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা

ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারের পেশা সম্পর্কিত প্রশ্ন

একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার কোথায় কাজ করেন?

বিভিন্ন ধরনের কারখানায় একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার কাজ করতে পারেনঃ

  • টেক্সটাইল
  • ঔষধ
  • চামড়া প্রক্রিয়াকরণ
  • সিমেন্ট
  • গ্লাস বা সিরামিক
  • ফুড ও বেভারেজ
  • সার
  • গৃহ নির্মাণ সামগ্রী
  • গাড়ি নির্মাণ
  • খেলনা

একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার কী ধরনের কাজ করেন?

যে কোন খাতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারের সাধারণ দায়িত্বের মধ্যে পড়েঃ

  • উৎপাদিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ করা;
  • উৎপাদন ব্যাহত হয় এমন সমস্যার সমাধান করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা;
  • পণ্যের সঠিক মান অর্জনের জন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নকশা ও বাস্তবায়ন করা;
  • মূল কারখানায় উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত ভারি যন্ত্র পরিবহনের ব্যবস্থা নেয়া;
  • কর্মীদের মজুরি নির্ধারণ ও বিতরণ;
  • কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন;
  • ভোক্তা ও ব্যবস্থাপকের সাথে আলোচনার মাধ্যমে পণ্যের সঠিক মান নির্ধারণ;
  • কাঁচামাল সরবারহকারীদের সাথে যোগাযোগ রাখা ও কাঁচামালের যোগান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা;
  • পণ্য সম্পর্কে ভোক্তার বিশেষ কোন চাহিদা সম্পর্কে জানা ও তা নতুন পণ্যে নিয়ে আসা।

একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ সাধারণত চার বছর মেয়াদি ব্যাচেলর ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারের ডিগ্রি নিয়ে এ চাকরির জন্য আবেদন করা যায়। তবে অনেক মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ও ম্যানুফ্যাকচার ইঞ্জিনিয়াররাও এ পদে কাজ করে থাকেন।

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউট থেকে নিবন্ধিত হলে সার্টিফাইড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আপনার গ্রহণযোগ্যতা আরো বাড়বে।

বয়সঃ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়। সাধারণত আপনার বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে।

অভিজ্ঞতাঃ এ পেশায় অভিজ্ঞদের প্রাধান্য রয়েছে। সাধারণত ১-২ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে আসে।

একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

চাকরিদাতারা আশা করেন যে, একজন এন্ট্রি লেভেলের আইপি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আপনি ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের খুব মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে ভালোভাবে জানবেন। যেমনঃ

  • প্রডাকশন সিস্টেম প্ল্যানিং (Production System Planning)
  • ম্যানুফ্যাকচারিং সিস্টেমস ডিজাইন (Manufacturing Systems Design)
  • অ্যাডভান্সড কন্ট্রোল সিস্টেমস (Advanced Control Systems)
  • পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য (Occupational Safety and Health)
  • স্ট্যাটিস্টিক্যাল প্রসেস কন্ট্রোল (Statistical Process Control)
  • কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন (CAD/CAM)
  • সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট (Supply Chain Management)
  • অ্যাপ্লাইড থার্মোডায়নামিক্স (Applied Thermodynamics)
  • ফ্লুইড মেকানিক্স ও ফ্লুইড ডায়নামিক্স (Fluid Mechanics and Fluid Dynamics)

এর বাইরে দরকার –

  • উৎপাদন ব্যবস্থার সব ধাপ সম্পর্কে সম্যক ধারণা;
  • বাজার ও ভোক্তা সংক্রান্ত পরিষ্কার ধারণা;
  • কারখানার যন্ত্রপাতি সম্পর্কিত জ্ঞান।

নন-টেকনিক্যাল জ্ঞানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো –

  • সৃজনশীল উপায়ে ও যৌক্তিকভাবে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা;
  • বিশ্লেষণী ক্ষমতা, যা খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে সাহায্য করতে পারে;
  • অন্যদের সাথে কাজ করার মানসিকতা থাকা;
  • বিভিন্ন ধরনের কাজ একসাথে সামলানোর দক্ষতা;
  • বড় কারখানায় ভারি যন্ত্রপাতি নিয়ে মানসিকতা থাকা;

কোথায় পড়বেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং?

বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হয়। সেখানে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স, এমনকি পিএইচডি ডিগ্রিও নেবার সুযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত “Certified Manufacturing Technologist Certificate (CMfgT)” একটি অনলাইন ভিত্তিক পরীক্ষা, যাতে অংশ নিলে পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে সার্টিফাইড আইপি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করা সম্ভব।

একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারের মাসিক আয় কেমন?

শুরুতে একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার মাসিক ৳২০,০০০ আয় করতে পারেন। বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ, কাজের অভিজ্ঞতা, প্রতিষ্ঠান ও পদোন্নতি সাপেক্ষে মাসে লক্ষাধিক টাকাও উপার্জন করা যায়।

একজন ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

এন্ট্রি লেভেলে আপনি সরাসরি আইপি ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে যোগ দিতে পারবেন। পরবর্তীতে প্ল্যান্ট ম্যানেজার পদেও উন্নীত হতে পারেন।

Loading

4 thoughts on “ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার

    1. ধন্যবাদ! আমরা আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?

        1. স্যরি, আমরা পড়ালেখার বিষয় নিয়ে নির্দিষ্ট কোন তথ্য দিতে পারবো না। আমাদের এ কন্টেন্টের উদ্দেশ্য হলো আইপিইর পেশা সম্পর্কে জানানো।

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।