ইলেকট্রিশিয়ান

ইলেকট্রিশিয়ান: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক সমস্যার সমাধান – একজন ইলেকট্রিশিয়ান বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ করেন। এ পেশায় সরকারি-বেসরকারি চাকরি যেমন করা যায়, তেমনি উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও আছে। এছাড়া দক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশে যাওয়া সম্ভব।

এক নজরে একজন ইলেকট্রিশিয়ান

সাধারণ পদবী: ইলেকট্রিশিয়ান
বিভাগ: টেকনিক্যাল
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি, উদ্যোগ
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা: ৪ – ৬ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন: ৳১০,০০০ – ৳১৫,০০০
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: ১৮ – ৩০ বছর
মূল স্কিল: বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সম্পর্কিত জ্ঞান
বিশেষ স্কিল: সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, গভীর মনোযোগ, ধৈর্য

একজন ইলেকট্রিশিয়ান কোথায় কাজ করেন?

  • সরকারি প্রতিষ্ঠানে, যেমনঃ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড;
  • বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে;
  • ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিতে;
  • শিল্প কারখানায়;
  • বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে, যেমনঃ সেতু নির্মাণ প্রকল্প।

একজন ইলেকট্রিশিয়ান কী ধরনের কাজ করেন?

  • বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে সাধারণ বৈদ্যুতিক সমস্যার সমাধান করা ও ত্রুটিযুক্ত সরঞ্জাম মেরামত করা;
  • বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া;
  • বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নির্মাণ, স্থাপন ও পরীক্ষা করা;
  • শিল্প কারখানায় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা।

একজন ইলেকট্রিশিয়ানের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ এসএসসি (ভোকেশনাল) বা ডিপ্লোমা কোর্স।

বয়সঃ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়। সাধারণত এ সীমা ১৮ – ৩০ বছর।

অভিজ্ঞতাঃ এ পেশায় অভিজ্ঞদের প্রাধান্য রয়েছে। সাধারণত ৪ – ৬ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে আসে।

একজন ইলেকট্রিশিয়ানের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • বিল্ডিংয়ের ব্লু প্রিন্ট ও টেকনিক্যাল ডায়াগ্রাম পড়ার দক্ষতা;
  • বৈদ্যুতিক সংযোগ ও সরঞ্জাম স্থাপনের কাজে দক্ষতা;
  • ট্রান্সফর্মার ও সার্কিট ব্রেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র পরীক্ষা করতে জানা;
  • বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির সমস্যা নির্ণয় ও সমাধান করতে পারা;
  • বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানাসহ বিভিন্ন পরিবেশে ইলেকট্রনিক্সের ব্যবহার জানা।

ইলেকট্রিশিয়ান হবার কাজ কোথায় শিখবেন?

এসএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা কোর্সে ইলেকট্রিশিয়ান হবার জন্য পড়ালেখার সুযোগ থাকে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে জেলাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মেয়াদের কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। এছাড়া বেসরকারিভাবেও কিছু প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক্স সংক্রান্ত শিক্ষা দিয়ে থাকে।

উল্লেখ্য যে, দেশে দক্ষ কর্মী সৃষ্টির লক্ষ্যে সার্টিফিকেট স্তরে (Basic Skill, NSS III, NSS II and NSS I) ৬৪টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে ৩১টি ট্রেডে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (ভোকেশনাল) প্রোগ্রাম চলমান রয়েছে।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নিয়ন্ত্রণে নিচের প্রতিষ্ঠানসমূহে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজিতে বিএসসি ডিগ্রি দেয়া হয়ঃ

  • ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
  • সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
  • ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ
  • বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

একজন ইলেকট্রিশিয়ানের মাসিক আয় কেমন?

সরকারি গ্রেডে (স্কেল ১৭) বেতন ৳৯,০০০ – ৳১৫,০০০ পর্যন্ত হয়। বেসরকারি পর্যায়েও আয়ের ধরন প্রায় এক। দেশের বাইরে বেতন ৳২৫,০০০ – ৳৪০,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রি ও মেরামতের ব্যবসা করে মাসে ৳৩৫,০০০ – ৳৪০,০০০ পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।

একজন ইলেকট্রিশিয়ানের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

চাহিদার তুলনায় আমাদের দেশে ইলেকট্রিশিয়ানের সংখ্যা এখনো কম। তাই ক্যারিয়ারের নির্দিষ্ট কোন ধাপ না থাকলেও কাজ পেতে খুব বেশি সমস্যায় পড়তে হয় না।

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।