এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট

ক্যারিয়ার কন্টেন্ট - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

হরমোনসংক্রান্ত সমস্যা বাংলাদেশে খুব পরিচিত না হলেও ডায়াবেটিস একটি বেশ পরিচিত রোগের নামডায়াবেটিসসহ হরমোনসংক্রান্ত যে কোন সমস্যা নির্ণয় ও সমাধানের কাজ করে থাকেন একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট।

একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট কোথায় কাজ করেন?

সরকারি পর্যায়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে টারশিয়ারি পর্যায়ের হাসপাতাল পর্যন্ত সব ধরনের হাসপাতালেই একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট কাজ করতে পারেন। সরকারি এবং বেসরকারি – দুই ধরনের হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানেই এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট নিযুক্ত থাকেন। এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট হিসেবে আপনি কাজ করতে পারবেন এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হল –

১। উপজেলা, সদর, জাতীয় ও সরকারি মেডিকেল কলেজ অথবা হাসপাতাল।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

যে কোন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ডায়াবেটিস বা হরমোনের উপর বিশেষায়িত কোন প্রতিষ্ঠান। যেমন – বারডেম, সিলেট ডায়াবেটিক হাসপাতাল, দিনাজপুর ডায়াবেটিস ও স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতাল প্রভৃতি।

একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট কী ধরনের কাজ করেন?

এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট হিসেবে আপনাকে সাধারণত নিম্নলিখিত কাজগুলো করা লাগবে –

১। এন্ডোক্রাইনের হরমোনসংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট

২। ডায়াবেটিস রোগ নির্ণয় করা।

৩। ডায়াবেটিস রোগের সমস্যার প্রতিকার হিসেবে সমাধান দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ইনসুলিনের ব্যাপারেও পরামর্শ দেওয়া।

৪। থাইরয়েড সংক্রান্ত সমস্যা নির্ণয় করা এবং এর প্রতিকার দেওয়া। তবে থাইরয়েড সমস্যার অপারেশন বা সার্জারির মাধ্যমে সমাধান করে থাকেন একজন নাক, কান ও গলা বা ইএনটি সার্জন। এক্ষেত্রে থাইরয়েড সংক্রান্ত সমস্যা নির্ণয় করার কাজ একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের।

৫। হরমোন ইমব্যালান্স বা ডিফেক্ট অর্থাৎ হরমোন ভারসাম্যহীনতা থাকলে কোন ব্যক্তির শরীরে তা নির্ণয় করা এবং এর প্রতিকার দেওয়া। এক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতার উদাহরণ হতে পারে এমন – নারী ও পুরুষের শরীরে ভিন্ন ধরনের হরমোনের অস্তিত্ব থাকে যার কারণে পুরুষ ও নারীর আচার-আচরণ একে অপরের চেয়ে ভিন্ন ধরনের হয়। কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় কোন পুরুষ বা নারীর ক্ষেত্রে গতানুগতিক হরমোনগুলোর এক বা একাধিক সংখ্যক হরমোনের অভাব বা ঘাটতি আছে। এ ধরনের সমস্যা নির্ণয় ও প্রতিকার দিতে হয় এন্ডোক্রাইনোলজিস্টকে।

৬। এন্ডোক্রাইন সিস্টেমের হরমোনের ঘাটতি বা সমস্যা দেখা দিলে তার প্রতিকারে হরমোন থেরাপি সম্পন্ন করতে হয়।

৭। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে সাধারণত নারী শরীরের হরমোন নিয়ে কাজ করেন গাইনিকোলজিস্ট। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্টকে পুরুষ রোগীদের সমস্যার সমাধানে অধিক নিয়োজিত থাকতে দেখা যায়।

৮। পিটুইটারী, মূত্রগ্রন্থি ও ডিম্বাশয়ের হরমোন এবং অস্টিওপোরসিস সমস্যার চিকিৎসা করা।

একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট হিসেবে কাজ করতে চাইলে আপনাকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভের পরে এমডি, এফসিপিএস, ডিপ্লোমা, এমসিপিএস প্রভৃতি ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। চিকিৎসাশাস্ত্রের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতই এন্ডোক্রাইনোলজির ক্ষেত্রেও গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী ডিগ্রি ও অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে পদোন্নতি হয় এবং উপরের পদগুলোতে প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

১। ইনসুলিন নিয়ে যথাযথ জ্ঞান থাকতে হবে।

২। ডায়াবেটিস রোগের কোন প্রতিষেধক বা নির্মূল করার সমাধান না থাকায় যত্নের সাথে রোগীকে প্রয়োজনীয় সমাধান দিতে হবে।

৩। এন্ডোক্রাইন সিস্টেম নিয়ে গভীর ধারণা থাকতে হবে।

৪। হরমোন নিঃসরণ নিয়ে যথাযথ ধারণা থাকতে হবে এবং এন্ডোক্রাইন গ্ল্যান্ডগুলো নিয়ে জানতে হবে ভালোমত।

৫। হরমোন থেরাপি সম্পন্ন করার বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।

৬। নবাগত ওষুধ নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করতে হবে।

৭। এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট হিসেবে কাজ করতে চাইলে অভিজ্ঞতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের মাসিক আয় কেমন?

আপনি যদি একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট হন সেক্ষেত্রে বেসরকারি খাতে মাসিক সম্মানীর পরিমাণ বাংলাদেশে হতে পারে ৫০০০০ টাকা থেকে ৮০০০০ টাকার মতসময় ও অভিজ্ঞতার সাথে আপনার মাসিক আয় বেড়ে দুই লাখ টাকা কিংবা তার অধিকও হতে পারে। তবে বিষয়টি কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ।

সরকারি কর্মক্ষেত্রে আপনার মাসিক সম্মানী নির্দিষ্ট করা থাকবে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী। এক্ষেত্রে আপনার মাসিক সম্মানী শুরু হবে ৬ষ্ঠ স্কেল বা ৪৩০০০ টাকা থেকে। আপনি আলাদাভাবে নিজের চেম্বারে রোগী দেখার ব্যবস্থা রাখলে সেক্ষেত্রে আপনার মাসিক আয় আরও বেশি হবে যেহেতু ডায়াবেটিসের সমস্যা বাংলাদেশে অহরহ দেখা যায়। এছাড়া থাইরয়েডসহ অন্যান্য হরমোনসংক্রান্ত সমস্যায়ও বহুসংখ্যক ব্যক্তিকে আক্রান্ত হতে দেখা যাওয়ায় এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের চাহিদা বেশ ভালো

কোথায় পড়বেন এন্ডোক্রাইনোলজি?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেশ কিছু সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজেও এন্ডোক্রাইনোলজি বিষয়ের উপর গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী ডিগ্রি (যেমন – ডিপ্লোমা, এমডি, এমসিপিএস প্রভৃতি) প্রদান করা হয়। অন্যান্য বিশেষায়িত বিষয়গুলোর মত এন্ডোক্রাইনোলজিতেও এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করতে হয় বিসিপিএস বা বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস থেকে। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ উল্লেখযোগ্য। বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে বারডেম বা ইবরাহিম মেডিকেল কলেজের নাম।

একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

হাসপাতালের ক্ষেত্রে একজন এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের ক্যারিয়ারের পদবিন্যাস সাধারণত নিম্নলিখিত পদগুলো অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এগোয় –

১। জুনিয়র কনসালট্যান্ট

২। সিনিয়র কনসালট্যান্ট  

এক্ষেত্রে নিয়োগের পরে আপনার প্রথম পদ হবে জুনিয়র কনসালট্যান্টসাধারণত অল্প অভিজ্ঞতা আছে এবং অন্তত একটি ব্যাচেলর পরবর্তী ডিগ্রি আছে এমন ব্যক্তিদেরকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে হলে অবশ্যই আপনাকে বিশেষজ্ঞ হতে হবে। কিছু সময় অভিজ্ঞতা লাভের পরে এবং নতুন কোন উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রি লাভের মাধ্যমে আপনি সিনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে পদোন্নতি পাবেন।

মেডিকেল কলেজ, বারডেম ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে (কিংবা যে কোন জায়গায় শিক্ষকতার ক্ষেত্রে) আপনার পদবিন্যাস সহকারী অধ্যাপক থেকে শুরু হয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ অধ্যাপক পর্যন্ত যেতে পারে।

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।