এমএস এক্সেলের গুরুত্বপূর্ণ ফাংশন: দ্বিতীয় পর্ব

এমএস এক্সেলের গুরুত্বপূর্ণ ফাংশন: দ্বিতীয় পর্ব - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

এমএস এক্সেলে কাজ করতে করতে অনেক সময় কিছু উচ্চতর লেভেলের ফাংশন ব্যবহারের দরকার হয়। এতে অনেক তথ্য নিয়ে কাজ করলেও খুব সহজে এবং নির্বিঘ্নে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া যায়।

যাদের এক্সেলে কাজ করার অল্পবিস্তর অভিজ্ঞতা আছে, মূলত তাদের জন্যে এই লেখা। মৌলিক ফাংশন ব্যতীত এখানে বহুল ব্যবহৃত ৭টি পেশাদার ফাংশন নিয়ে আলোচনা হবে।

১। ‘ইফ’ (IF) ফাংশন

মনে করুন একটি কোম্পানির কর্মকর্তাদের মধ্যে যাদের বেতন ৯০০০ এর বেশি তারা সিনিয়র অফিসার এবং যাদের বেতন এর কম, তারা জুনিয়র অফিসার। এখন যদি শর্ত দেয়া হয় =IF(B2>9000,”SeniorOfficer”,”JuniorOfficer”) তাহলে B2 সেলের অফিসারের বেতন হিসাব করে কম্পিউটার ফলাফল দিবে তিনি সিনিয়র নাকি জুনিয়র। যেহেতু উক্ত ব্যক্তির বেতন ৯৫০০ তাই তিনি সিনিয়র অফিসার।

২। ‘অ্যান্ড’ (AND) ফাংশন

এই ফাংশন দ্বারা একটি তথ্য সত্য না মিথ্যা- তা নির্ণয় করা যায়। এটি বিপুল তথ্য নিয়ে কাজ করার সময় একটি নির্দিষ্ট তথ্যের সত্যতা বের করতে সহায়তা করে। যেমন সেলে =AND(B4=8500) লিখলে এটি FALSE বা মিথ্যা দেখাবে যেহেতু B4 এর মান 10000।

৩। ‘কাউন্টইফ’ (COUNTIF) ফাংশন

এই ফাংশন দ্বারা একটি নির্দিষ্ট শর্তের অধীনে কতটি তথ্য রয়েছে তা জানা যায়। আমরা যদি শর্ত দেই, =COUNTIF(B1:B4,”>9000″) তাহলে আমরা মোট কতজন কর্মকর্তার বেতন ৯০০০ অপেক্ষা বেশি তা জানতে পারব। এক্ষেত্রে সেলে ফলাফল দেখাবে 2।

৪। ‘কনক্যাটেনেট’ (CONCANATE) ফাংশন

একটি সেলে নির্দিষ্ট দুটি টেক্সট একত্র করতে এই ফাংশনের ব্যবহার হয়। বিপুল তথ্য নিয়ে কাজ করবার সময় এই ফাংশনটি অপরিহার্য। যদি এখানে A Rahman এর ডাকনাম AR হয় তবে সেলের নির্দিষ্ট অবস্থান লিখে ঊর্ধ্বকমার মধ্যে প্রয়োজনীয় ক্যারেকটার লিখলে দুটি টেক্সট একত্র হয়ে ফলাফল প্রদর্শন করবে। এখানে =A1&”,”&C1 লেখায় ফলাফল দেখাবে A Rahman,AR.

৫। ‘কারেন্সি কনভার্ট’ (CURRENCY CONVERT) ফাংশন

আমরা যদি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকাকে ডলার বা অন্য কোনো কারেন্সিতে করভার্ট করতে চাই তবে এই ফাংশন ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে আমরা ডলারের রেট ৮০ টাকা ধরলে টাকা থেকে ডলারের মান আসবে ০.০১২৫ গুণ। এখন B1 সেলের টাকাকে ডলারে রূপান্তর করতে চাইলে C1 সেলে রেট বসিয়ে =DOLLAR(B1*$C$1) সূত্র বসালে $106.25 ফলাফল আসবে। অন্য কারেন্সিতে নিতে চাইলে DOLLAR বাদ দিয়ে একই সূত্র বসিয়ে শুধু রেট পরিবর্তন করতে হবে তবে সেক্ষেত্রে কারেন্সির চিহ্ন আসবেনা।

৬। ‘ইনডেক্স’ (INDEX) ফাংশন

ইনডেক্স ফাংশনটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও অনেকে এর ব্যবহারকে জটিল মনে করেন বলে এড়িয়ে যান। যদিও এটির ব্যবহার খুব একটা কঠিন নয়। ইনডেক্স ফাংশন অনেক তথ্য নিয়ে কাজ করার সময় নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজে বের করতে দরকার হয়। যেমন  =INDEX(A1:A4,3) লেখার পর A1 থেকে A4 সেলের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তির নাম ফলাফলে আসবে। ইনডেক্স ফাংশনের সাথে ‘ম্যাচ’ (MATCH) ফাংশন মিলে অনেক জটিল তথ্য সহজে বের করা সম্ভব।

৭। ‘ম্যাচ’ (MATCH) ফাংশন

‘ম্যাচ’ ফাংশন মূলত ইনডেক্সের বিপরীত। এখানে একটি তথ্য দিয়ে এর অবস্থান বের করা হয়। =MATCH(8000,B1:B4,0) বসালে B1 থেকে B4 এর মধ্যে কত নাম্বার সেলে ৮০০০ রয়েছে তা নির্ণয় হবে। 0 দ্বারা যথাযথ মান বোঝানো হয়। এখানে ফলাফল আসবে ৩ যেহেতু B3 সেলে ৮০০০ রয়েছে।

Loading

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।