কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার

কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা ও অন্যান্য সামাজিক সংগঠনগুলোর ক্ষেত্রে কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার পদটি সবখানেই দেখা যায়। সাধারণত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে একটি ইস্যু বা মানুষের অধিকার আদায়ের বিষয়ে অধিকারবঞ্চিত লোকদের যথাযথ কাজ ও সরাসরি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সম্পৃক্ত করতে একজন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এক নজরে একজন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার

সাধারণ পদবী: কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার
বিভাগ: সমাজকর্ম
প্রতিষ্ঠানের ধরন: বেসরকারি
ক্যারিয়ারের ধরন: চুক্তিভিত্তিক
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
অভিজ্ঞতা সীমা: ১ – ৪ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বেতনসীমা: ৳৩০,০০০ – ৳৩৫,০০০
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়সসীমা: ২৩ – ২৮ বছর
মূল স্কিল: বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, যোগাযোগের দক্ষতা, মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা, ধৈর্য
বিশেষ স্কিল: বিশ্লেষণী ক্ষমতা, রিপোর্টিংয়ের দক্ষতা

একজন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার কোথায় কাজ করেন?

সব ধরনের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা অধিকারবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতেই সাধারণত কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসারদের কাজ করতে দেখা যায়। তবে নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত একজন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার বেশ পরিচিত এবং প্রচলিত একটি পদ –

  • বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা;
  • বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা;
  • ত্রাণ বা সহায়তা সংস্থা;
  • নাগরিক অধিকার ও আইন বিষয়ক সংস্থা;
  • বিভিন্ন প্রজেক্টভিত্তিক কাজ ও প্রতিষ্ঠান।
  • সবগুলো প্রতিষ্ঠানই ভিন্ন ভিন্ন ইস্যু ও বিষয়ে মানুষদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে চায়। কিছু প্রতিষ্ঠান হয়তো কৃষকদের নিয়ে কাজ করে আবার কিছু প্রতিষ্ঠান দেখা যায় অভিবাসী বা উদ্বাস্তুদের নিয়ে কাজ করে। এক্ষেত্রে কৃষক কিংবা উদ্বাস্তুদের সাথে সংযোগ স্থাপনের কাজ করেন একজন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার। যদি আপনার প্রতিষ্ঠান যে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করে তাদেরকে আপনি আপনার প্রতিষ্ঠানের কাজে সরাসরি ও সরবভাবে সম্পৃক্ত না করতে পারেন তবে আপনার প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য সাধন হওয়া বেশ কষ্টকর।

একজন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার কী ধরনের কাজ করেন?

  • মাঠ পর্যায়ে একজন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসারকে কাজ করতে হয় কারণ কোন সম্প্রদায় বা গোষ্ঠীকে আপনি সম্পৃক্ত করতে চাইলে আপনাকে সরেজমিন তা অবলোকন ও বাস্তবায়ন করতে হবে;
  • কাজের সাইটে আপনাকে থাকতে হবে এবং মানুষকে আপনার কাজের সাথে সম্পৃক্ত করতে নানা উপায় খুঁজে বের করতে হবে;
  • কীভাবে টার্গেট গোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করবেন তার পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা সাজাতে হবে এবং সে অনুযায়ী আপনার সময় ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে হবে;
  • গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় ফোকাসড গ্রুপ ডিসকাশন করতে হবে এবং সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনায় অভীষ্ট সমাধান বের করতে হবে;
  • তাদের সাথে কথা বলে কী পদক্ষেপ নিলে তাদের সমস্যার সমাধান হতে পারে এবং তাদের চাহিদার কথা জানতে হবে;
  • গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধান করতে হবে আপনাকে;
  • আপনার প্রতিষ্ঠানের টার্গেট গোষ্ঠীর সংবেদনশীলতার বিষয়টি আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। তাদের প্রশিক্ষণ এবং তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক বাস্তবায়ন করতে হবে;
  • আশেপাশের এলাকায় যারা অনেকদিন ধরে বসবাস করে আসছেন তাদের সাথে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় করতে হবে।

একজন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসারের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ এক্ষেত্রে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। সাধারণত ডিপ্লোমা ডিগ্রি আছে এমন কাউকেই নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার হিসেবে। মানবিক অথবা সামাজিক বিজ্ঞান কিংবা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিগ্রি আছে এমন প্রার্থীরা নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়ে থাকেন। কিছু ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলোতে ডিপ্লোমা বা ব্যাচেলর ডিগ্রি বাধ্যতামূলক হতে পারে নিয়োগ লাভের জন্য।

বয়সঃ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়।

অভিজ্ঞতাঃ কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার হিসেবে কাজ করতে চাইলে সাধারণত পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। কিছু ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৯ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরুষ নিয়োগের কথা উল্লেখ করা থাকে। যেহেতু কাজটি মাঠ পর্যায়ের এবং শারীরিকভাবে বেশ কষ্টকর তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীদের নিয়োগ দেওয়া হয় না। নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত কোন নির্দিষ্ট বয়সসীমার কথা উল্লেখ করা থাকে না।

একজন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসারের কাজ বেশ কষ্টসাধ্য। তাই কঠোর পরিশ্রমী ও মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে কোন সমস্যা নেই এমন মানসিকতার হতে হবে আপনাকে। বাসায় বসে কাজ সম্পাদনের কোন সুযোগ এক্ষেত্রে আপনার থাকবে না;
  • মানুষ ও দলের সাথে যোগাযোগ স্থাপন ও ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী হতে হবে;
  • মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল ও তথ্য বিশ্লেষণের সফটওয়্যার এর কাজে পারদর্শী হতে হবে;
  • ধৈর্যশীল ও অধ্যবসায়ী হওয়া বাঞ্ছনীয়;
  • আপনার প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। একইসাথে নতুন যেখানে আপনি কাজ করতে যাবেন মাঠ পর্যায়ে সেখানকার পরিস্থিতি ও পরিবেশের সাথেও খাপ খাইতে নিতে জানতে হবে আপনাকে;
  • বাংলা এবং ইংরেজী উভয় ভাষায় দক্ষ হতে হবে। এক্ষেত্রে দক্ষভাবে ভাষা লিখতে ও বলতে পারা – উভয়ই জরুরী। এর পাশাপাশি আঞ্চলিক ভাষা বলতে জানলে আপনি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবেন;
  • আপনার প্রতিষ্ঠানের নীতি জানতে হবে এবং সে অনুযায়ি কাজ সম্পাদন করতে হবে। নীতিবহির্ভূত কাজ আপনার সংস্থার জন্য বেশ লজ্জাজনক ব্যাপার হবে যা আপনার নিজের ব্যাপারেও মানুষ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বেশ বাজে প্রভাব ফেলবে।

কোথায় পড়বেন?

আপনি যে খাতের কাজ করতে চান, সে খাতের উপর ন্যূনতম ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকা প্রয়োজন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিচের বিষয়গুলোর উপর পড়াশোনা করতে পারেন –

  • সমাজকর্ম ও সমাজকল্যাণ
  • অর্থনীতি
  • আইন
  • শান্তি ও সংঘর্ষ
  • গণস্বাস্থ্য বা পাবলিক হেলথ
  • ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ
  • জেন্ডার স্টাডিজ
  • পরিবেশবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা
  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা

একজন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসারের মাসিক আয় কেমন?

বিষয়টি কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। সাধারণত একজন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসারের মাসিক আয় ৳৩০,০০০ – ৳৬০,০০০ পর্যন্ত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার হিসেবে আপনাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হবে।

একজন কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

এখানে বিষয়টি কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। সাধারণত কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসারের কাজের ক্ষেত্র দুই ধরনের হয় – চুক্তিভিত্তিক ও স্থায়ী। অধিকাংশক্ষেত্রেই চুক্তিভিত্তিক কাজ থাকে এক্ষেত্রে। নতুন উদ্ভূত সমস্যার ভিত্তিতে প্রজেক্ট তৈরি করা হয় বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থায়ী ভিত্তিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয় না। আবার কিছু ক্ষেত্রে আপনি স্থায়ী ভিত্তিতেও নিয়োগ পেতে পারেন। অভিজ্ঞতা ব্যতীত নিয়োগ দেওয়া হয় বলে কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসারের পদোন্নতির বিষয়টি বেশ বৈচিত্র্যময়। প্রথমত কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অফিসার থেকে আপনি প্রজেক্ট ম্যানেজার অথবা প্রোগ্রাম অফিসার পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। অতঃপর আপনি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হতে পারেন সময়ের সাথে অভিজ্ঞতা লাভের মাধ্যমে। প্রোগ্রাম ডিরেক্টর থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে কিছুক্ষেত্রে এডমিন কোঅর্ডিনেটর এবং চেয়ারম্যান পদে আপনাকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

Loading

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।