কীভাবে করবেন নেটওয়ার্কিং?

কীভাবে করবেন নেটওয়ার্কিং? - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

বিভিন্ন রকম মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়তে আমাদের যে দক্ষতাটির প্রয়োজন সেটিই হচ্ছে নেটওয়ার্কিং। চাকরি জীবনে নেটওয়ার্কিংয়ের গুরুত্ব যে কত বেশি, তা আমরা সবাই জানি। তাহলে, চলুন এই আর্টিকেলটি পড়ে জেনে নিই কীভাবে করবেন নেটওয়ার্কিং।

কীভাবে কথা শুরু করবেন: কোন একজন ব্যক্তির সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে চাইলে,তার সাথে আপনারও মিলে যায় এমন কোন বিষয় খুঁজে বের করুন, এবং শুরু করে দিন সে বিষয়ে কথা বলা। খুব দ্রুতই সখ্যতা গড়ে উঠবে এতে। যেমন ধরুন, দুজনই হয়তো ফেদেরার এর ভক্ত। তার সাথে ফেদেরার নিয়েই কথা বলা শুরু করে দিতে পারেন; দেখবেন, জমে উঠেছে আড্ডা।

উচ্চপদস্থ কোন ব্যক্তির সাথে সখ্যতা তৈরী: কোন কোম্পানির উচ্চপদস্থ ব্যক্তির সাথে কিংবা কোন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এর সাথে সখ্যতা গড়ে তুলতে চাচ্ছেন। কীভাবে সহজেই পারবেন? তার শৈশবের কোন সুখস্মৃতি জেনে নিন আগেই। হতে পারে, হয়তো তিনি কলেজে থাকতে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতেন এবং তুখোড় বিতার্কিক ছিলেন।শুরু করে দিন তার সাথে বিতর্ক নিয়ে কথা কিংবা বিতর্ক নিয়ে তার সাথে অতীত স্মৃতি রোমন্থন। দেখবেন, কত সহজেই জমে উঠেছে আড্ডা। এভাবেই করে ফেলতে পারেন বড় কোন ব্যক্তির সাথে নেটওয়ার্কিং।

ফেসবুক-লিঙ্কড ইন এ সংযুক্ত হওয়া: যাদের সাথে নিজেকে সংযুক্ত রাখার ইচ্ছা, তাদের সাথে লিঙ্কড ইন এ কিংবা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে যেতে পারেন। এটি আপনাকে সহজেই সেই ব্যক্তির চোখের সামনে রাখবে এবং আপনি গড়ে তুলতে পারবেন সুসম্পর্ক।

নিজের যেকোন পারদর্শিতা সম্পর্কে মানুষকে অবগত রাখা: যে বিষয়টিতে আপনি অভিজ্ঞ, সেটি যেন সবাই জানে, তা নিশ্চিত করুন। তবে, সে বিষয়ে কোন দরকারে আপনি হবেন তার প্রথম পছন্দ। যেমন ধরুন, একটি কোম্পানিতে একজন কন্টেন্ট রাইটার দরকার এবং সে কোম্পানিতে আপনার একজন পরিচিত লোক চাকুরী করেন। তিনি জানেন, আপনি লেখালেখি ভালো করেন। এক্ষেত্রে ঐ কন্টেন্ট রাইটার পদের জন্য ঐ ব্যক্তি সবার আগে যার কথা চিন্তা করবেন,সেটি হচ্ছেন আপনি। তাই, নিজের বিশেষ গুণগুলো সম্পর্কে মানুষ যেন জানে তা নিশ্চিত করুন।

বাসায় দাওয়াত দেওয়া: অফিসের সহকর্মীদের সাথে সম্পর্ক গভীর করতে চান? তাদের বাসায় দাওয়াত দিয়ে একসাথে বসে রাতের খাবার খেতে পারেন, গল্প করতে পারেন। এতে ব্যক্তিগত সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটবে এবং সেটি আপনার নেটওয়ার্কটিকেও বড় করে তুলবে।

অভ্যাসে পরিণত করা: নেটওয়ার্কিং কে অভ্যাসে পরিণত করুন। প্রতি সপ্তাহে কিংবা প্রতি মাসে অন্তত দুইজন নতুন মানুষের সাথে নিজের সখ্যতা গড়ে তুলুন। এটি আপনাকে অনেক বেশী মানুষের সাথে নিজেকে যুক্ত রাখার সুযোগ দিবে এবং আপনার নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করে তুলবে।

ইতিবাচকতা ছড়ানো: নিজের ইতিবাচকতা যেন অন্য মানুষের সাথে যোগাযোগের শুরু থেকেই ছড়িয়ে পড়ে,তা নিশ্চিত করুন। ইতিবাচক মনোভাবের মানুষকে সবাই পছন্দ করে এবং যোগাযোগ রাখতে চায়। তাই, নিজের মধ্যে এই গুণটি না থাকলে তা আনতে হবে এবং মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে নিজের নেটওয়ার্ককে বড় করতে হবে।

যোগাযোগ রাখা: নতুন মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ার পাশাপাশি,পূর্বের পরিচিত মানুষদের সাথে যোগাযোগ রাখাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কোন স্থান ত্যাগের সাথে সাথে সেই স্থানের মানুষগুলোকেও ত্যাগ করলে নেটওয়ার্ক ছোট হয়ে যেতে থাকে। নেটওয়ার্ক বড় রাখতে তাই পূর্বের পরিচিত মানুষদের সাথেও যোগাযোগ রাখতে হবে। কোন অফিস ছেড়ে হয়তো নতুন অফিসে যোগ দিয়েছেন। তবু পূর্বের সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। নিশ্চিতভাবেই এটি আপনার নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করে রাখবে।

কথা বলার বিষয়ে পরিবর্তন: কর্মজীবনের মধ্যেই যখন সম্পর্কটি আবদ্ধ থাকে,তখন সম্পর্কটির গভীরতা থাকে না। কর্মজীবনের বাইরে, জীবনের অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলুন। দেখবেন সম্পর্ক গভীর হচ্ছে।

কথা শোনার অভ্যাস করা: মানুষের সাথে কথা বলার পাশাপাশি, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার অভ্যাস করুন। এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নয়ন সাধন করে।

মনোভাবের পরিবর্তন আনা:   কারো সাথে কথা বলার সময়, শুধু নিজের লাভ ঝটপট আদায়ের চেষ্টা করা কখনোই উচিত না। সময় নিয়ে নিজেদের সম্পর্কের উন্নয়ন করা উচিত,তার কোন দরকারেও সাহায্য করা উচিত। তবেই সম্পর্কটি হয়ে ওঠে গাঢ়।

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।