কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার: পোশাক শিল্প

কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

একজন কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার মার্চেন্ডাইজার নির্ধারিত মান অনুযায়ী শ্রমিকের কাজ পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করেন পোশাকের গুণগত মান বজায় রেখে ফ্যাক্টরি শ্রমিক দ্বারা পোষাক তৈরির কাজগুলো সম্পাদন করে থাকেন।

এক নজরে একজন কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার

সাধারণ পদবী: কোয়ালিটি কন্ট্রোলার, কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার/এক্সিকিউটিভ, কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স অফিসার
বিভাগ: টেক্সটাইল
প্রতিষ্ঠানের ধরন: কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল টাইম
লেভেল: এন্ট্রি
অভিজ্ঞতা সীমা: ০ – ১ বছর
সম্ভাব্য বেতনসীমা: ৳১৫,০০০ – ৳২৫,০০০
সম্ভাব্য বয়সসীমা: ২৩ – ৩০ বছর
মূল স্কিল:কোয়ালিটি কন্ট্রোল প্রসেসে দক্ষতা, কোয়ালিটি কন্ট্রোল নীতিমালা সম্পর্কে জ্ঞান, গার্মেন্টস প্রোডাক্ট সম্পর্কিত ধারণা
বিশেষ স্কিল: বিশ্লেষণী ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা

কোন ধরণের প্রতিষ্ঠানে একজন কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার কাজ করেন?

একজন কোয়ালিটি কন্ট্রোলার পোশাক শিল্পের বিভিন্ন খাত যেমন স্পিনিং মিল, ফ্যাব্রিকেশন মিল, ডাইয়িং মিল, গার্মেন্টস, নিটিং মিলে কাজ করেন। টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির সুতা তৈরি থেকে শুরু করে একদম ফাইনাল প্রোডাক্টের ওয়াশিং পর্যন্ত প্রতিটি বিভাগে কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার প্রয়োজন হয়।

একজন কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার কী ধরনের কাজ করেন?

  • উৎপন্ন দ্রব্য যেন মানসম্মত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা;
  • উৎপাদিত সকল দ্রব্যের উৎপাদন প্রক্রিয়া লিপিবদ্ধ করা এবং মানদণ্ড যাচাই করা;
  • উৎপাদন প্রক্রিয়ার খরচ, অপচয় কমানো এবং উৎপাদন ব্যবস্থা আরো কার্যকরী করা;
  • উৎপাদিত দ্রব্যে কোন সমস্যা আছে কিনা, তা খুঁজে বের করা;
  • উৎপাদিত দ্রব্যে সমস্যা থাকলে তা দূর করার ব্যবস্থা নেয়া;
  • মান যাচাইয়ের জন্য বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করা এবং ফলাফল সংরক্ষণ করা;
  • কাস্টমার ও বায়ারদের অভিযোগের সুরাহা করা;
  • টেকসই পণ্যের উৎপাদন নিশ্চিত করা;
  • বায়ারদের শর্ত ও স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী পণ্য প্রস্তুত করা;
  • মানসম্মত পণ্য উৎপাদনের জন্য মেশিনের সেটিংসে পরিবর্তন আনা;

একজন কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসারের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

কাজে দক্ষ ও অভিজ্ঞ হলে যে কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেই এ পদে কাজ করা যায়। তবে ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ পেতে হলে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। অনেক প্রতিষ্ঠান টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং/ম্যানেজমেন্টে ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকলেও নিয়োগ দেয়। তবে উচ্চ পদে কাজ করতে চাইলে এমবিএ ডিগ্রি থাকা ভালো।

একজন কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • কোয়ালিটি কন্ট্রোলের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা;
  • টেক্সটাইল ল্যাবে কাজ করার দক্ষতা;
  • টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির ম্যানুফেকচারিং প্রসেস সম্বন্ধে ধারণা;
  • তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ করার দক্ষতা;
  • কোয়ালিটি কন্ট্রোলের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান;
  • ভালো যোগাযোগের দক্ষতা, যা পোশাকের অর্ডারদাতা ও কর্মীদের সাথে কাজ করার সময় কাজে দেবে;
  • ধৈর্যের সাথে মানসিক চাপ সামলানোর ক্ষমতা।

কোথায় পড়বেন কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার হতে চাইলে?

বাংলাদেশে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সবচেয়ে পরিচিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং (BUTex)। এ প্রতিষ্ঠান থেকে ও এর অধীনে ঝিনাইদহ, নোয়াখালী, পাবনা, চট্রগ্রাম ও বরিশাল টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি দেওয়া হয়। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (KUET), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (DUET), মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ আছে।

বাংলাদেশে মোট ১৩ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াশোনা করা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (AUST), বিজেএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং বিটিএমএ দ্বারা পরিচালিত ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চ (NITER) বর্তমানে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেক্সটাইল শিক্ষাবিষয়ক ইনস্টিটিউট। এছাড়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রির জন্য রয়েছে অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি ইন্সটিটিউট।

একজন কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসারের কাজের ক্ষেত্র এবং সুযোগ কেমন?

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিল্প খাত হচ্ছে পোষাক শিল্প। রপ্তানি আয়ের শতকরা ৮৬ ভাগ আসে পোশাক খাত থেকে। জিডিপিতে এ খাতের অবদান শতকরা ১৩ ভাগ। ২০১২ সালের হিসাব মতে বিটিএমএ-এর অধীনে গার্মেন্টস, স্পিনিং, ফ্যাব্রিক ম্যানুফেকচারিং, ডাইয়িং, নিটিং, প্রিন্টিং সহ অন্যান মিল ছিল প্রায় ৭ হাজার। ২০১৫ সালে এসে শুধু গার্মেন্টস এর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ হাজারে। বাংলাদেশে এখন আনুমানিক ১২ হাজারের উপর টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি আছে। এসব ইন্ডাস্ট্রির সব শাখাতেই প্রসেস ও উৎপাদিত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার প্রয়োজন। এছাড়া স্কয়ার, নোমান গ্রুপ, ডিবিএল গ্রুপ, আকিজ, এনভয়, বেক্সিমকোর মতো বড় বড় কোম্পানির টেক্সটাইল মিলে ভালো ভালো মানের বেতনে কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার পদে কাজের সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশনের অধীনস্ত ২৪টি টেক্সটাইল মিলে সরকারি চাকরি করার সুযোগ আছে।

একজন কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসারের মাসিক আয় কেমন?

স্নাতক পাশের পর পর সাধারণত ১৫-২৫ হাজার টাকা বেতনে কোয়ালিটি কন্ট্রোল এক্সিকিউটিভ হিসেবে চাকরি পাওয়া যায়। দেড় থেকে দুই বছর পর সিনিয়র এক্সিকিউটিভে পদোন্নতি হলে বেতন মাসিক ২৫-৪০ হাজার হয়। এর পর এসিট্যান্ট ম্যানেজার আর কর্মক্ষেত্রে নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে পরিচয় দিতে পারলে ৫-৭ বছরের মধ্যে কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার পদে কাজ করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ৮-৯ বছরও লেগে যায় কোয়ালিটি ম্যানেজার হতে। একজন কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজারের বেতন ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার হয়ে থাকে। বহু প্রতিষ্ঠানে দেড়-দুই লাখ টাকাও মাসিক বেতন দেয়।

ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে একজন কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসারের?

একজন কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার হিসেবে প্রতিষ্ঠানভেদে কাজে যোগদানের ৫-৯ বছরের মধ্যে কোয়ালিটি কন্ট্রোল ম্যানেজার হওয়া সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে মাঝে আরো ২/৩টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। দক্ষতার সাথে কাজ করলে আর অফিস ম্যানেজমেন্ট ও নির্বাহী কাজে দক্ষ হলে কোম্পানির এক্সিকিউটিভ লেভেলে কাজ করা সম্ভব। একজন কোয়ালিটি ম্যানেজার যোগ্য হলে প্রতিষ্ঠানে এজিএম বা জিএম পদে কাজ করতে পারেন।

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।