গাইনিকোলজিস্ট

ক্যারিয়ার কন্টেন্ট - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

স্ত্রীপ্রজননতন্ত্রের (ওভারি,জরায়ু,যোনি) যে কোন প্রকার রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের জন্য চিকিৎসা করে থাকেন একজন গাইনিকোলজিস্ট এছাড়া মাতৃত্বকালীন যে কোন সমস্যায় পরামর্শ এবং নবজাতকের প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে থাকেন একজন গাইনি ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ।

সাধারণ পদবী: গাইনিকোলজিস্ট/গাইনি, স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ

বিভাগ:  স্বাস্থ্য ও সেবা

প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারী-বেসরকারী হাসপাতাল, রোগ ও চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র

ক্যারিয়ারের ধরন: পার্ট-টাইম, ফুল টাইম

লেভেল: মিড

অভিজ্ঞতা সীমা: অন্তত ৫/৬ বছর হাসপাতালে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে

সম্ভাব্য বেতন সীমা: সরকারি চাকুরিতে সহকারী অধ্যাপক/জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে গ্রেড-৬ অনুযায়ী বেতন ৩৭-৬৭ হাজার টাকা হয়ে থাকেএছাড়া প্রাইভেট প্র্যাকটিসে রোগী প্রতি ফি অভিজ্ঞতা ও স্থানভেদে ৫০০ থেকে ২০০০ হয়ে থাকে এবং প্রত্যেক অপারেশন বাবদ ফি ২৫০০-৩০০০০ টাকা হয়ে থাকে।   

সম্ভাব্য বয়স সীমা: নির্দিষ্ট বয়স-সীমা নেই

মূল স্কিল: স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের নিরাময় সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে, সার্জারিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে

বিশেষ স্কিল: সিজারিয়ান সেকশন সহ চিকিৎসার অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি সম্বন্ধে জ্ঞান, ক্যান্সার নিরাময়ে দক্ষতা

লিঙ্গঃ মূলত নারী

একজন গাইনিকোলজিস্ট কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন?

প্রায় সব সরকারি/বেসরকারি হাসপাতাল, চিকিৎসা কেন্দ্র, মা ও শিশু হাসপাতাল, মাতৃ সদনে গাইনিকোলজিস্ট প্রয়োজন

একজন গাইনিকোলজিস্ট কী ধরনের কাজ করেন?

  • স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের যেকোন প্রকার রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন
  • স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের ক্যান্সার হলে তার চিকিৎসাও করেন, প্রয়োজন হলে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেন
  • প্রয়োজন হলে নবজাতকের প্রসবের জন্য অস্ত্রোপচার করেন
  • প্রয়োজন হলে গর্ভপাত ঘটাতে অস্ত্রোপচার করেন
  • ঋতুস্রাবের বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসা করেন
  • হিস্টেরেক্টমি অপারেশন করেন (জরায়ু ছেদ করা হয়)
  • জন্মনিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে পরামর্শ দেন
  • ওফেরক্টমি অপারেশন (ওভারি ছেদ করা হয়) করেন
  • বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণ সম্পর্কে পরামর্শ দেন

একজন গাইনিকোলজিস্ট এর শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?

গাইনিকোলজিস্ট হতে চাইলে অবশ্যই এমবিবিএস পাশের পর গাইনিকোলজিতে এফসিপিএস/এফআরসিএস/এমএস/এমডি/পিএইচডি ডিগ্রী থাকতে হবে

একজন গাইনিকোলজিস্ট এর কী কী দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • গাইনিকোলজি সংক্রান্ত আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান ও চর্চা রাখতে হবে
  • স্ত্রীপ্রজননতন্ত্রের ক্যান্সার চিকিৎসায় পারদর্শী হতে হবে
  • গবেষণায় মনোনিবেশ করতে হবে এবং জার্নাল থাকতে হবে
  • প্রসব সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ন্ত্রণে দক্ষ হতে হবে
  • জন্ম নিয়ন্ত্রণ ও বন্ধ্যাত্বের সমস্যা দূরীকরণ সংক্রান্ত জ্ঞান রাখতে হবে

কোথায় পড়াশোনা করবেন গাইনিকোলজিস্ট হতে চাইলে?

এমবিবিএস পাশের পর গাইনিকোলজিতে এমএস ( মাস্টার অব সার্জন) পড়বার সুযোগ আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (BSMMU) মূলত ২ ধাপে এমএস সম্পূর্ণ করতে হয় প্রথম ধাপে ২ বছর প্রয়োজন হয় এবং দ্বিতীয় ধাপে ৩ বছর

 

একজন গাইনিকোলজিস্ট এর কাজের ক্ষেত্র ও সুযোগ কেমন?

বাংলাদেশের প্রায় সব সরকারি/বেসরকারি হাসপাতালে আলাদা গাইনিকোলজি বিভাগ আছে অবস্টেট্রিকস ও গাইনিকোলজি জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল যেমন অবস্টেট্রিকাল ও গাইনিকোলজিকাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ হাসপাতাল, ওজিএসবি মেটারনিটি হাসপাতালে কাজের সুযোগ রয়েছে সেনাবাহিনীতে মেডিকেল কোরেও কাজের সুযোগ আছে সিটিকর্পোরেশন, বিভিন্ন এনজিও ও অন্যান্য সংস্থার অধীনস্ত মা ও শিশু হাসপাতালে গাইনিকোলোজিস্টদের কাজের সুযোগ আছে। মোট কথা সমগ্র বাংলাদেশেই গাইনিকোলজিস্টের চাহিদা বিদ্যমান।

একজন গাইনিকোলজিস্ট এর মাসিক আয় কেমন?

সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা জেলা সদর হাসপাতালে কর্মরত একজন গাইনিকোলজিস্ট অধ্যাপক হিসেবে গ্রেড-৩, সহযোগী অধ্যাপক বা সিনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে গ্রেড-৪ ও সহকারী অধ্যাপক বা জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে গ্রেড- ৬ এর বেতন পান। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে সাময়িকভাবে রোগী দেখে ও অস্ত্রোপচার করে অনেক টাকা উপার্জন সম্ভব। প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করে অনেক উপার্জনের অর্থ সুযোগ আছে।

ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে একজন গাইনিকোলজিস্টের ?

এমবিবিএস পাশের পর গাইনিকোলজিতে বিশেষজ্ঞ হতে চাইলে গাইনিকোলজিতে উচ্চতর ডিগ্রী নিতে হবে। বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার হিসেবে সরকারি হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগদানের পর গাইনিকোলজিতে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করে মেডিকেল কলেজের গাইনিকোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অথবা জেলা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট হওয়া যায়। সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অন্তত ৫/৬ বছর দায়িত্ব পালন করলে দক্ষতার ভিত্তিতে সহযোগী অধ্যাপক বা সিনিয়র কনসালট্যান্ট হওয়া সম্ভব। সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক হতে দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দেওয়া লাগে। তবে একাধিক গবেষণা পত্র থাকা বাধ্যতামূলক।এছাড়া অবস্ট্রেটিকাল ও গাইনিকোলজিকাল সোসাইটির অধীনস্থ হাসপাতালের বিভিন্ন ট্রেইনিং প্রোগ্রামে কাজ করার সুযোগ রয়েছে । এছাড়া অনেক সময় সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে কাজের সুযোগ থাকে। বেসরকারি হাসপাতাল বা প্রাইভেট প্র্যাক্টিসের মাধ্যমেও সফল ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব।

 

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।