চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

সিএ বা চাটার্ড একাউন্টেন্ট সম্পূর্নই একটি প্রফেশনাল কোর্স। সারা বিশ্বেই পেশা হিসাবে সি.এ অত্যন্ত জনপ্রিয়। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা অর্থ ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক পরামর্শ প্রদানের সাথে জড়িত। তারা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড আইন অনুযায়ী যাচাই করেন এবং কোম্পানির অডিট পরিচালনা করে।

এক নজরে একজন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

সাধারণ পদবী:সম্পুর্ণ সিএ শেষ হলে ম্যানেজার বা এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার। আংশিক শেষ হলে ফিন্যান্স এন্ড একাউন্টিং এক্সিকিউটিভX
বিভাগ:ব্যবসা ও নিরীক্ষণ

প্রতিষ্ঠানের ধরন:দেশি-বিদেশি ব্যাংক, বীমা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এনজিও থেকে শুরু করে প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের চাহিদা রয়েছে।
ক্যারিয়ারের ধরন:ফুল টাইম
লেভেল:মিড
অভিজ্ঞতা সীমা:সিএ কোর্সে পড়াশোনার পাশাপাশি কোন নিবন্ধিত সিএ ফার্মে কাজের অভিজ্ঞতা বা আর্টিকেলশীপ থাকতে হয়। উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের ডিগ্রিধারীদের জন্য এ সময় ৪ বছর,তবে ইংরেজী মাধ্যমের এ লেভেল পরীক্ষায় কমপক্ষে ৩ টি বিষয়ে এ গ্রেড থাকলে আর্টিকেল পিরিয়ড সাড়ে ৩ বছর। স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ৩ বছর এবং ACMA/FCMA বা ACCA/FCCA কোর্স কমপ্লিট থাকলে এ সময় ২ বছর। এই ডিগ্রীধারীদের প্রোফেশনাল এক্সাম-১ দেবারও প্রয়োজন পড়েনা। একজন সিএ ডিগ্রীধারী যথেষ্ট অভিজ্ঞ বিধায় এন্ট্রি লেভেলের পোস্ট এর জন্য তেমন অভিজ্ঞতা না থাকলেও হয়। ( সূত্রঃ দ্যা ইন্সটিটিউট অব চ্যাটার্ড একাউন্টেন্টস অব বাংলাদেশ

সম্ভাব্য বেতনসীমা:প্রতিষ্ঠান সাপেক্ষ। আংশিক সম্পন্ন হলে সাধারণত মাসিক ৩০-৬০ হাজার টাকা বেতন হয়। সম্পুর্ণ শেষ হলে মাসিক ৬০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকাও পাওয়া সম্ভব।
সম্ভাব্য বয়সসীমা:প্রতিষ্ঠান সাপেক্ষ। সাধারণত ২৫-৩৫ বছরের মধ্যে চাওয়া হয়।
মূল স্কিল:হিসাববিজ্ঞান, অডিট, আর্থিক প্রশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ট্যাক্স এন্ড কর্পোরেট ল, অফিস ব্যবস্থাপনা, বাজারের চরিত্র, আমদানি-রপ্তানি ও নীতিমালা
বিশেষ স্কিল:ভালো অর্থনৈতিক বিশ্লেষণী ক্ষমতা থাকতে হবে, ভালো যোগাযোগের দক্ষতা থাকতে হবে, কম্পিউটারের সাধারণ এপ্লিকেশন গুলোতে পারদর্শী হতে হবে, প্রচুর পরিশ্রমী হতে হবে, পুরো দলের সাথে মিলেমিশে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে।

কোন ধরণের প্রতিষ্ঠানে একজন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কাজ করেন?

দেশী-বিদেশী ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও,কন্সাল্টেন্সি ফার্ম, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সর্বত্রই চ্যাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের চাহিদা আছে। চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মে সর্ব স্তরে চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা কাজ করেন। এছাড়া নিজ উদ্যোগে সিএ ফার্ম খোলার সুযোগ আছে। তবে এক্ষেত্রে অনেক শর্ত বিদ্যমান এবং প্রচুর অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। যদিও এটা অনেক চ্যালেঞ্জিং তবে এতে কাজের স্বাধীনতা আছে।

একজন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট কী ধরনের কাজ করেন?

  • হিসাবের ব্যাখ্যা, তত্ত্বাবধায়ন, নিয়ন্ত্রণ এবং আয় ও ব্যয় সংগঠিত করা। দৈনিক,মাসিক ও বাৎসরিক হিসাব ব্যবস্থাপনার সংকলন করা;
  • পারিশ্রমিক এবং বেতন বন্টন;
  • কর ব্যবস্থাপনার কাজ করা এবং প্রতিষ্ঠানের কাঠামো পরিবর্তিত হলে সেখানে করের প্রভাব যাচাই করা;
  • প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ও রেকর্ড সঠিক কিনা তা যাচাই এর জন্য অডিট করা;
  • প্রতিষ্ঠানের বাজেট তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ করা;
  • প্রতিষ্ঠানের সকল অংশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অতীত ও বর্তমান আর্থিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে সমালোচনা করা এবং ভবিষ্যতের জন্য বিশ্লেষণ করা;
  • কোম্পানির গঠন এবং কাঠামো, ধার পরিশোধ এবং আর্থিক দিক সংক্রান্ত কর্পোরেট আইন নিয়ে পরামর্শ দেওয়া;
  • স্টক মার্কেট থেকে শেয়ার উত্তোলনের জন্য শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ, ক্যাপিটাল শেয়ার ইস্যু, অন্য সংস্থার সাথে মিলিত হবার ক্ষেত্রে পরামর্শ প্রদান;
  • সম্প্রসারণ, মুনাফা বিশ্লেষণ, মুনাফা বৃদ্ধি, জয়েন্ট ভেঞ্চার প্রোগ্রাম সংক্রান্ত ব্যবসায়িক পরামর্শ দান।

কীভাবে হবেন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট?

ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টস অব বাংলাদেশের (ICAB) অধীনে প্রায় ১৭০টির মতো তালিকাভুক্ত সিএ ফার্ম আছে।( সূত্রঃ প্রথম আলো, ১৯জুন ২০১৬ http://www.prothomalo.com/education/article/892234 )। দ্যা ইন্সটিটিউট অব চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ(ICAB) এর ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত ফার্মগুলোর তালিকা আছে। প্রথমেই তালিকাভুক্ত যে কোনো একটি কনসালট্যান্সি ফার্মে যুক্ত হয়ে কাজ করতে করতে হবে। তারপর ফার্মের নীতিমালা অনুযায়ী ফার্মে যোগদানের পরবর্তী ২/৩ মাস প্রোবেশন পিরিয়ডে কাজ করতে হয় এবং ঐ ফার্মের মাধ্যমে ICAB তে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হয়। নিবন্ধিত হবার পর কাজের এ পিরিয়ডকে আর্টিকেলশীপ বলে।
আর্টিকেলশীপ চলাকালীন বা শেষে মোট ২ টি ধাপের পরীক্ষা শেষ করলে একজন শিক্ষার্থী কোয়ালিফাইড চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হন। ধাপ ২ টি হচ্ছে প্রোফেশনাল স্টেজ এবং অ্যাডভ্যান্সড স্টেজ। প্রোফেশনাল স্টেজে আবার ২ টি ধাপে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়- নলেজ লেভেল ও এপ্লিকেশন লেভেল। পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে সবকিছু সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্বে থাকে ICAB। বাংলাদেশে একমাত্র ICAB চার্টার্ড একাউনট্যান্টের স্বীকৃতিস্বরূপ শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত সনদ দিয়ে থাকে।

ICAB এর সদস্য পদ

তিনটি লেভেল সম্পূর্ণ করার পর একজন সিএ অ্যাসোসিয়েট মেম্বারশিপের জন্য আবেদন করতে পারে। অ্যাসোসিয়েট মেম্বারদের বলা হয় এসিস্ট্যান্ট চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট(এসিএ)

একজন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এর কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • কর্পোরেট ল এবং ট্যাক্স ল নিয়ে সম্যক ধারণা থাকতে হবে;
  • ভালো যোগাযোগ ও সাংগঠনিক দক্ষতা থাকতে হবে;
  • কাজের জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার সফটওয়ার ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে;
  • অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করবার দক্ষতা প্রয়োজন;
  • দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা-বাণিজ্য ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে ধারণা রাখতে হবে;
  • কার্যকরী পরিকল্পনা ও বাজেট তৈরিতে দক্ষ হতে হবে;
  • ধৈর্যশীল, পরিশ্রমী ও মানসিক চাপ নেবার ক্ষমতা থাকতে হবে;
  • বাস্তব পরিস্থিতিতে তাত্বিক জ্ঞান প্রয়োগের দক্ষতা থাকতে হবে

একজন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এর কাজের ক্ষেত্র এবং সুযোগ কেমন?

প্রতিটি বড় প্রতিষ্ঠানেই হিসাব বিবরণী সুষ্ঠু রাখতে চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্ট নিয়োগ দেওয়া হয়। দেশে ও বিদেশে নামকরা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে চার্টার্ড অ্যাকাউনট্যান্টদের। বাংলাদেশ ব্যাংক, HSBC ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক প্রচুর পরিমাণ সিএ নিয়োগ দেয়। এছাড়া অন্যান্য সরকারী-বেসরকারি ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গুলোতে চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা কাজ করেন। ঢাকা, খুলনা, চট্রগ্রাম, সিলেটে অবস্থিত মোট ১৭০ টির মত নিবন্ধিত ফার্মে কাজের সুযোগ আছে। সরকারী দপ্তরসমূহে ট্যাক্স অডিটর হিসেবে চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা করদাতাদের একাউন্ট অডিটের কাজ করেন। আইসিএবি থেকে প্রকাশিত এক হিসেব অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশে ফেলো সিএ সদস্য আছেন ৯৭৩ জন। আর অ্যাসোশিয়েট সিএ সদস্য আছেন ৬১০ জন। আর নিবন্ধিত শিক্ষার্থী আছেন ২৫ হাজারেরও বেশি।

একজন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এর মাসিক আয় কেমন?

আর্টিকেলশীপের সময় থেকেই একজন শিক্ষার্থী ICAB থেকে মাসিক বৃত্তি পায়। ১ম বর্ষে ৩ হাজার, দ্বিতীয় বর্ষে সাড়ে ৩ হাজার, ৩য় বর্ষে ৪ হাজার ও ৪র্থ বর্ষে সাড়ে ৪ হাজার। শুধুমাত্র আর্টিকেলশীপ শেষ হলে একজনকে বলা হয় CA(CC)। CA(CC) হিসেবে মাসে ৩০-৬০ হাজার টাকা উপার্জন সম্ভব। যেমন ম্যাক-নেলস বাংলাদেশ এক্সিকিউটিভ অ্যাকাউন্ট্যান্ট পদের জন্য CA-CC দের অগ্রাধিকার দিবে এবং বেতন মাসিক ৩০ হাজার টাকা। ইউনিলিভারের মত মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে এসিট্যান্ট ম্যানেজার পদে বেতন মাসিক ৭০ হাজার টাকা। একজন CA(CC) হিসেবে এ পদের জন্য আবেদন করা যায়। সিএ কোর্স শেষ হলে একজন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে মাসে ৬০ হাজার থেকে দেড় লাখ পর্যন্ত উপার্জন করা সম্ভব।

ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে একজন চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এর?

সিএ কোর্সে হিসাবরক্ষণ, হিসাব নিরীক্ষা হাতে-কলমে শেখার সুযোগ আছে। বলা যেতে পারে এটি একটি ব্যবহারিক শিক্ষা। এজন্য একজন সিএ ডিগ্রীধারী কর্মজীবনে অন্যদের থেকে অনেক এগিয়ে থাকেন। নির্বাহী থেকে একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে যাওয়ার পথটি দীর্ঘ। কিন্তু একজন শিক্ষার্থী কয়েক বছরের মধ্যে সিএ সনদধারী হয়ে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পদে যোগ দেন। এছাড়া ব্যক্তিগত চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম ও কন্সাল্ট্যান্সি ফার্ম খুলে স্বাধীনভাবে কারিয়ার গড়ে তোলার সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে আপনি কারোর অধীনে কাজ না করে উল্টো অন্যদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবেন। তবে এজন্য প্রয়োজন কয়েক বছরের কাজের অভিজ্ঞতা।

Loading

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।