জেন্ডার কোঅর্ডিনেটর

ক্যারিয়ার কন্টেন্ট - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

বাংলাদেশের বেসরকারি সংস্থা ও অন্যান্য সামাজিক সংগঠনগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত যে প্রতিষ্ঠানগুলো নারীদের নিয়ে কাজ করে সেগুলোতে জেন্ডার কোঅর্ডিনেটর পদটি দেখা যায়। নারীদের অধিকার আদায়, বৈষম্য দূরীকরণ, লিঙ্গ বৈষম্য প্রশমনসহ কিছু ক্ষেত্রে মেয়েশিশুদের নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটর বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটর কোথায় কাজ করেন?

সব ধরনের নারী অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে গঠিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতেই সাধারণত জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরদের কাজ করতে দেখা যায়। তবে নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটর বেশ পরিচিত এবং প্রচলিত একটি পদ –

১। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা।

২। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।

৩। ত্রাণ বা সহায়তা সংস্থা।

৪। নাগরিক অধিকার ও আইন বিষয়ক সংস্থা।

৫। বিভিন্ন প্রজেক্টভিত্তিক কাজ ও প্রতিষ্ঠান।

একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটর কী ধরনের কাজ করেন?

১। মাঠ পর্যায়ে একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরকে কাজ করতে হয় নারীদের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যাপারে। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ সাধারণত কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর স্থির করা হয়। যেমন – নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য নকশী কাঁথা সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় কিছু জায়গায়। এমন প্রশিক্ষণের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা করতে হয় একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরকে।

২। নির্যাতিত কিংবা প্রান্তিক অবস্থায় বিরাজমান নারীদেরকে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করতে হয় একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরকে। এক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে সরাসরি যোগাযোগ ও তথ্য সংগ্রহের কাজ পালন করতে হয় একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরকে।

৩। কীভাবে টার্গেট গোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করবেন তার পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা সাজাতে হবে এবং সে অনুযায়ী আপনার সময় ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করতে হবে।

৪। পারিবারিক এবং সামাজিক ক্ষেত্রে নির্যাতিত নারীর অধিকার আদায় ও দাবি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আইনী প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করতে হয়।

৫। সামাজিক ক্ষেত্রে নারীরা যে সকল বৈষম্যের শিকার হয় সেগুলো দূরীকরণ ও প্রশমনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পরিকল্পনা সাজাতে হয় একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরকে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা লক্ষ্য ঠিক করে দেন এবন তা অনুযায়ী পরিকল্পনা সাজাতে হয়।  

৬। তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও বিশ্লেষণের কাজ করতে হয়।  

৭। নিয়মিত কাজের রেকর্ড রাখতে হয়।

৮। নারীদের ক্ষেত্রে জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়া থেকে শুরু করে সামাজিক ব্যাধির বিরূপ প্রভাব প্রশমন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরকে তার কাজের পরিকল্পনা সাজাতে হয় এবং প্রতিষ্ঠানকে পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে সুপারিশ করতে হয়।

একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

১। এক্ষেত্রে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। সাধারণত উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ (অথবা শুধু জেন্ডার স্টাডিজ), ম্যানেজমেন্ট বা ব্যবস্থাপনা অথবা অন্য সামাজিক বিজ্ঞানসংক্রান্ত কোন বিষয়ের উপর মাস্টার্স ডিগ্রি আছে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয় জেন্ডার কোঅর্ডিনেটর হিসেবে। জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরের অধস্তন পদ প্রোগ্রাম অফিসার বা জেন্ডার অফিসার হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে মাস্টার্স ডিগ্রি প্রয়োজন হলেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যাচেলর ডিগ্রি আছে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

২। জেন্ডার কোঅর্ডিনেটর হিসেবে কাজ করতে চাইলে সাধারণত ৩ থেকে ৫ বছরের পূর্ব অভিজ্ঞতা নিয়োগের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতেও সাধারণত এ ব্যাপারে স্পষ্ট উল্লেখ করা থাকে।

৩। জেন্ডার কোঅর্ডিনেটর হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে সাধারণত কোন নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই।

৪। নারীদের নিয়ে কাজ করতে হয় বলে সাধারণত জেন্ডার কোঅর্ডিনেটর হিসেবে নারী ব্যতীত অন্য লিঙ্গের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হয় না।

একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

১। জেন্ডার কোঅর্ডিনেটর হিসেবে আপনাকে স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবেসাধারণত যেসকল নারীরা সুবিধাবঞ্চিত কিংবা নির্যাতিত হয়েছেন তাদের নিয়ে কাজ করতে হয় বলে প্রশ্ন, পরামর্শ ও কথোপকথনের সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরকে। কোনভাবে যাতে কেউ আঘাত না পান সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এক্ষেত্রে আপনাকে।

২। নারীদের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থাপনায় পারদর্শী হতে হবে। যাদের নিয়ে কাজ করা হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় বাস্তবিক অভিজ্ঞতার কারণে তারা খুব একটা মন খুলে কথা বলতে চান না। সেক্ষেত্রে তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে সমস্যা নির্ণয় ও সমাধানের ব্যাপারে পারদর্শী হতে হবে আপনাকে।

৩। মাইক্রোসফট ওয়ার্ড, এক্সেল ও তথ্য বিশ্লেষণের সফটওয়্যার এর কাজে পারদর্শী হতে হবে।

৪। ধৈর্যশীল ও অধ্যবসায়ী হতে হবে।

৫। দ্রুত সমস্যা সমাধানের দক্ষতা থাকতে হবে।  

৬। নতুন যেখানে আপনি কাজ করতে যাবেন মাঠ পর্যায়ে সেখানকার মানুষ, পরিস্থিতি ও পরিবেশের সাথে খাপ খাইতে নিতে জানতে হবে আপনাকে।  

৭। বাংলা এবং ইংরেজী উভয় ভাষায় দক্ষ হতে হবে।

৮। সামাজিক যোগাযোগ বা সোশাল নেটওয়ার্কিং ওয়েবসাইটগুলোর কাজ সম্পাদনের ব্যাপারে পারদর্শিতা থাকতে হবে।

একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরের মাসিক আয় কেমন?

মাসিক সম্মানী বা আয়ের বিষয়টি কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ হলেও এ পদে নিয়োগ পেলে সাধারণত আপনাকে মাসিক ৩০০০০ থেকে ৬০০০০ টাকা সম্মানী দেওয়া হতে পারে।

একজন জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

এখানে বিষয়টি কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। সাধারণত জেন্ডার কোঅর্ডিনেটরের কাজের ক্ষেত্র দুই ধরনের হয় – চুক্তিভিত্তিক ও স্থায়ী। অধিকাংশক্ষেত্রেই চুক্তিভিত্তিক কাজ থাকে এক্ষেত্রে। নতুন উদ্ভূত সমস্যার ভিত্তিতে প্রজেক্ট তৈরি করা হয় বলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থায়ী ভিত্তিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয় না। আবার কিছু ক্ষেত্রে আপনি স্থায়ী ভিত্তিতেও নিয়োগ পেতে পারেন। প্রথমত জেন্ডার কোঅর্ডিনেটর থেকে আপনি প্রজেক্ট ম্যানেজার অথবা প্রোগ্রাম ম্যানেজার পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। অতঃপর আপনি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হতে পারেন সময়ের সাথে অভিজ্ঞতা লাভের মাধ্যমেপ্রোগ্রাম ডিরেক্টর থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে কিছুক্ষেত্রে অ্যাডমিন কোঅর্ডিনেটর এবং প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে আপনাকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

 

কেন নেবেন ক্যারিয়ার টেস্ট?

  • সরাসরি ইন্টারভিউর কল পেতে
  • সরাসরি চাকরির পরীক্ষা দিতে
  • চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে
  • চাকরির জন্য দরকারি স্কিল অর্জন করতে
ক্যারিয়ার টেস্টে যান

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।