টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার

টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার কাপড় ও পোশাক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের ডিজাইন, ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের দায়িত্বে থাকেন। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এ পেশার চাহিদা অনেক।

এক নজরে একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার

সাধারণ পদবী: টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার
বিভাগ: গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল
প্রতিষ্ঠানের ধরন: প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা: ০ – ২ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন: ৳১৫,০০০ – ৳৪০,০০০
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: ২৫ বছর
মূল স্কিল: ক্যাড (CAD), পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কিত জ্ঞান, ফ্যাব্রিকের উপর সম্যক ধারণা, আঁকাআঁকির দক্ষতা
বিশেষ স্কিল: ব্যবসায়িক ধারণা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, প্রজেক্ট ব্যবস্থাপনা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা

একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার কোথায় কাজ করেন?

  • টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস কারখানা;
  • বায়িং হাউজ;
  • ট্রেডিং হাউজ।

একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার কী ধরনের কাজ করেন?

  • কাপড় ও পোশাক তৈরির সামগ্রিক প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা তৈরি করা;
  • কাপড় ও পোশাক তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ পরীক্ষা করা;
  • কাপড় ও পোশাক তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া;
  • কাপড় ও পোশাক উৎপাদনের হিসাব রাখা;
  • পোশাক ও কাপড়ের মান নিয়মিত পরীক্ষা করা;
  • পোশাক ও কাপড় উৎপাদনে জড়িত সবার সাথে যোগাযোগ করা;
  • পোশাক ও কাপড়ের মার্কেটিংয়ের ব্যাপারে সহায়তা দেয়া;
  • পণ্যের মান ঠিক আছে কিনা সে ব্যাপারে ক্লায়েন্টের মতামত নেয়া।

একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যাচেলর ডিগ্রি থাকলেই যে কেউ চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে নিয়োগদাতাদের কাছে পূর্ব অভিজ্ঞতা ও নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি (যেমন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং) থাকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বয়সঃ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়। সাধারণত আপনার বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর হতে হবে।

অভিজ্ঞতাঃ এ পেশায় অভিজ্ঞদের প্রাধান্য রয়েছে। সাধারণত ১-২ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে আসে।

একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • কাপড় ও পোশাক তৈরির সামগ্রিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভালো ধারণা;
  • বিভিন্ন ধরনের ফ্যাব্রিক সম্পর্কে টেকনিক্যাল জ্ঞান;
  • কাপড় ও পোশাক উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চালানোর দক্ষতা;
  • কাপড় ও পোশাক তৈরির ব্যবসায়িক দিক সংক্রান্ত ধারণা;
  • বিশ্লেষণী ক্ষমতা, যা খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে সাহায্য করতে পারে;
  • কারখানায় কাজ করার মানসিকতা থাকা;
  • সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যা কারখানার জটিল কাজ সামলানোর ক্ষেত্রে জরুরি;
  • যোগাযোগের দক্ষতা, যা দর কষাকষি বা নেতিবাচক পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজে দেবে।

কোথায় পড়বেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং?

বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেয়ার ব্যবস্থা আছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সটাইলস (BUTEX) সবচেয়ে ভালো প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিবেচিত হয়।

একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের মাসিক আয় কেমন?

এন্ট্রি লেভেলে একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের মাসিক বেতন সাধারণত ৳১৫,০০০ – ৳৪০,০০০ হতে পারে। এক্ষেত্রে মাসিক আয় কাজ, অভিজ্ঞতা ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ।

একজন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

সাধারণত সরাসরি ইঞ্জিনিয়ার বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে আপনার ক্যারিয়ার শুরু হবে। পদোন্নতির জন্য ২-৩ বছর সময় লাগা স্বাভাবিক। কাজ ভালো হলে এক সময় আপনি প্ল্যান্ট ম্যানেজার, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর বা এমনকি কান্ট্রি ম্যানেজার পর্যন্ত পদোন্নতি পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে মাসিক আয়ও বেশ বড় পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।

বিশেষ কৃতজ্ঞতাঃ হাসিব উদ দিন আহমাদ, ট্রেইনি মার্চেন্ডাইজার, হা-মীম গ্রুপ
Loading

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।