ডায়েটিশিয়ান

ডায়েটিশিয়ান: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

একজন ডায়েটিশিয়ান সাধারণত হাসপাতাল, মেডিকেল সেবাদান প্রতিষ্ঠান, পশুপালন প্রতিষ্ঠান, পোল্ট্রি ফার্ম – এই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করে আপনি কী ধরনের কাজ করবেন একজন ডায়েটিশিয়ান হিসেবে। এক্ষেত্রে আপনার পড়াশোনার বিশেষত্বের ভিত্তিতে আপনি কী ধরনের প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে চান তা মনস্থির করতে পারেন।

এক নজরে একজন ডায়েটিশিয়ান

সাধারণ পদবী: ডায়েটিশিয়ান (DBA)
বিভাগ: খাদ্য ও পুষ্টি
প্রতিষ্ঠানের ধরন:সরকারি, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল টাইম, চুক্তিভিত্তিক
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
অভিজ্ঞতা সীমা: ২ – ৩ বছর
বেতনসীমা: ৳২০,০০০ – ৳৩০,০০০
সম্ভাব্য বয়সসীমা: ২৬ – ৩৫ বছর
মূল স্কিল: খাদ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত জ্ঞান, সুস্বাস্থ্য বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা
বিশেষ স্কিল: যোগাযোগের দক্ষতা

একজন ডায়েটিশিয়ান কোথায় কাজ করেন?

ডায়েটিশিয়ান বা ডায়েটিশিয়ান হলে আপনার কাজের ক্ষেত্র হতে পারে নিম্নরূপ –

  • হাসপাতাল;
  • মেডিকেল সেবাদান প্রতিষ্ঠান;
  • চিড়িয়াখানা;
  • পশুপালন প্রতিষ্ঠান;
  • পোল্ট্রি ফার্ম ও ডেইরী ফার্ম;
  • এগ্রো ফিশারিজ কোম্পানি;
  • নিউট্রিশন ভিত্তিক কোম্পানি;
  • স্বাস্থ্যভিত্তিক বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা;
  • কমিউনিটি নিউট্রিশন নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠান।

তবে একজন ডায়েটিশিয়ান চাইলে নিজের আলাদা করে চেম্বার দিতে পারেন চিকিৎসকদের মত। যদি তিনি মনে করেন তার যোগ্যতা ও যথেষ্ট সামর্থ্য আছে তাহলে সেক্ষেত্রে তিনি নিজ উদ্যোগে ব্যক্তিগত পুষ্টি বা নিউট্রিশন পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে একটি চেম্বার দিতে পারেন। তবে দূরদর্শীতা পরিমাপে কিছুটা গরমিল হলে কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই যদি আপনি নিজের চেম্বার দিয়ে দেন সেক্ষেত্রে এর পরিণাম বেশ ভয়াবহ হতে পারে এবং আপনাকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে।

একজন ডায়েটিশিয়ান কী ধরনের কাজ করেন?

  • পুষ্টি ঘাটতিজনিত সমস্যার সমাধান দেওয়া ;
  • পরিমিত খাদ্য পরিকল্পনা নির্দিষ্ট করা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া;
  • গরু-ছাগল, মাছ, মুরগি সহ অন্যান্য গবাদি পশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টির জন্য খাদ্যতালিকা তৈরি করা এবং এই বিষয়ে যথাযথ পরামর্শ দেওয়া;
  • চিড়িয়াখানা অথবা পশুপালন প্রতিষ্ঠানে বিরল প্রজাতির প্রাণীসহ সকল ধরনের জীবের পুষ্টির বিষয় খেয়াল রাখা এবং খাদ্যের তালিকা সে অনুযায়ী নির্দিষ্ট করা;
  • স্বাস্থ্যভিত্তিক বেসরকারি সংস্থার ক্ষেত্রে খাদ্য ও পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ এবং সে অনুযায়ী অনুদান ও ত্রাণসংক্রান্ত সহায়তার ক্ষেত্রে মান নিশ্চিত করা;
  • কারো কোন পুষ্টি ঘাটতি আছে কিনা তা পরীক্ষা কিংবা কথাবার্তার মাধ্যমে অনুমান করা এবং সেই অনুযায়ী পথ বাতলে দেয়া।

একজন ডায়েটিশিয়ান কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ ডায়েটিশিয়ান হওয়ার জন্য সাধারণত নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রির প্রয়োজন হয়। তবে এক্ষেত্রে বিষয়টি কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। যেমন – উইনিং এগ্রো লিমিটেড-এর ক্ষেত্রে নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স এর কোন ডিগ্রির প্রয়োজন নেই। যে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি থাকলেই চলবে। আবার খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজে ও হাসপাতাল-এর নিয়োগের ক্ষেত্রে নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স-এ মাস্টার্স ডিগ্রি আবশ্যক। আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নিয়োগের জন্য শুধুমাত্র নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স-এ অনার্স ডিগ্রি থাকা জরুরী। পূর্ব অভিজ্ঞতা সাধারণত জরুরী কোন বিষয় নয় একজন ডায়েটিশিয়ানের জন্য।

একজন ডায়েটিশিয়ানের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • পুষ্টি ও নিউট্রিশন বিষয়ে সম্যক ধারণা থাকতে হয়;
  • যে ধরনের ইন্ডাস্ট্রিতে আপনি কাজ করছেন সেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ও জ্ঞান থাকা জরুরী;
  • বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানের জন্য কীভাবে আপনার পুষ্টি বিষয়ক জ্ঞান কাজে লাগানো যায় সে ব্যাপারে চিন্তা করা জরুরী;
  • আপনার কাছে পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ চাইতে এসেছেন এমন কারো সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করা জরুরী।

একজন ডায়েটিশিয়ানের মাসিক আয় কেমন?

কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। তবে নিয়োগের শুরুতে সাধারণত ২০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানী দেওয়া হবে আপনাকে। এক্ষেত্রে মাসিক আয় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যেই সাধারণত হয়ে থাকে।

একজন ডায়েটিশিয়ানের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

ডায়েটিশিয়ানের চাকরির ক্ষেত্রে পদোন্নতির ব্যাপারটি খুব একটা প্রচলিত নয়। বরং সময়ের সাথে আপনার অভিজ্ঞতা বাড়তে থাকলে এক্ষেত্রে মাসিক আয় সময়ের সাথে বাড়ানো হয়। নিউট্রিশন কনসালট্যান্ট হিসেবে চাকরি শুরু করার পরে সর্বোচ্চ কোন পদ আর নেই। যদি আপনার মনে হয় আপনি পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ও নামযশ লাভ করেছেন সেক্ষেত্রে আপনি ব্যক্তিগত চেম্বারের দিকে এগোতে পারেন যা হতে পারে খুবই লাভজনক। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একজন ডায়েটিশিয়ানকে পদোন্নতির মাধ্যমে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অথবা হেলথ পলিসি অ্যাডভাইজর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। অনেকে পুষ্টি বিষয়ে নিজের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কোন খাদ্যপণ্য তৈরি ও পুষ্টিসম্মত খাদ্য বিক্রয়ের ব্যবসায় নিয়োজিত হতে পারেন।

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।