নার্স

নার্স - সেবিকা: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে একজন নার্স রোগীর চিকিৎসা সেবা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচর্যার কাজ করে থাকেন। যারা সেবামূলক পেশায় যেতে চান, তাদের জন্য নার্সিং একটি আকর্ষণীয় পেশা হতে পারে। দেশের প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি ক্লিনিকে নার্সদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সরকারের সেবা পরিদপ্তর প্রতি বছর প্রচুর নার্স নিয়োগ দিয়ে থাকে। সম্মানের পাশাপাশি এ পেশায় রয়েছে আকর্ষণীয় উপার্জনের সুযোগ।

এক নজরে একজন নার্স

সাধারণ পদবী: নার্স, সেবিকা
বিভাগ: স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা – নার্সিং
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট
ক্যারিয়ারের ধরন: পার্ট-টাইম, ফুল টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
অভিজ্ঞতা সীমা: কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন: ৳৮,০০০ – ৳১৪,০০০
সম্ভাব্য বয়স: কাজসাপেক্ষ
মূল স্কিল: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিকভাবে রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়া
বিশেষ স্কিল: সেবার মানসিকতা থাকা, ধৈর্য, গভীর মনোযোগ, যোগাযোগের দক্ষতা

একজন নার্স কোথায় কাজ করেন?

  • সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে;
  • বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে;
  • আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীর চিকিৎসা বিভাগে;
  • ব্যক্তিগত ক্লিনিকে।

কাজের ক্ষেত্র ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী আপনি অ্যাসিস্ট্যান্ট নার্স, স্টাফ নার্স, ওটি সিস্টার বা নার্সিং সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি নার্সিং কলেজে ইন্সট্রাক্টর বা ডেমোনস্ট্রেটর ইনচার্জ হিসেবেও অনেকে নিয়োগ পান। এছাড়া, নার্সিং অধিদপ্তরে প্রজেক্ট অফিসার, সহকারী পরিচালক পদেও কাজ করতে পারেন।

একজন নার্স কী ধরনের কাজ করেন?

  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা (যেমনঃ রক্তচাপ মাপা) করা;
  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীকে সঠিকভাবে ঔষধ খাওয়ানো;
  • রোগীর স্বাস্থ্যের অগ্রগতি বা অবনতি সম্পর্কে ডাক্তারকে নিয়মিত জানানো;
  • অপারেশনের আগে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ওটি (Operation Theater) প্রস্তুত করা;
  • রোগীকে অপারেশন টেবিলে নিয়ে যাওয়া;
  • অপারেশনের সময় চিকিৎসকে সহায়তা করা;
  • রোগীর সার্বিক পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়া।

একজন নার্সের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল অনুমোদিত যেকোন সরকারি বা বেসরকারি নার্সিং কলেজ বা নার্সিং ইন্সটিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং বা বিএসসি ইন নার্সিং কোর্স সম্পন্ন করে যে কেউ নার্সিং পদের জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রতিষ্ঠানভেদে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরে নার্সদের আরো দক্ষ করে তোলা হয়।

একজন নার্সের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার খুঁটিনাটি জানা;
  • স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ব্যবহৃত সাধারণ যন্ত্রপাতি (যেমনঃ রক্তচাপ মাপার যন্ত্র বা স্ফিগমোম্যানোমিটার)ব্যবহার করতে পারা;
  • ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ও পরামর্শ সঠিকভাবে বোঝা ও সে অনুযায়ী রোগীর পরিচর্যা করা;
  • রোগীর সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও ডাক্তারকে জানানো;
  • রোগীর স্বাস্থ্যের অগ্রগতি ও অবনতি সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন তৈরি করতে পারা;
  • অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা ও প্রয়োজনে ডাক্তারকে সহায়তা করা;

কোথায় পড়বেন নার্সিং?

সেবা পরিদপ্তরের অধীনে নার্সিং কলেজ ও ইনিস্টিটিউটে নার্সিং পড়তে পারেন। সারা দেশের সরকারি ৭টি ও বেসরকারি ২১টি নাসিং কলেজ ও সরকারি ৪৩টি নার্সিং ও বেসরকারি ৭০টি ইনিস্টিটিউটে তিন বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি ও ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি এবং চার বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ইন নার্সিং কোর্সে পড়ানো হয়।

কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নার্সিং বিষয়ক ডিপ্লোমা পড়ানো হয়। এছাড়া অর্থোপেডিকস, সাইকিয়াট্রিক, পেডিয়াট্রিক, সিসিইউ, আইসিইউ ও কার্ডিয়াক নার্সিংসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর এক বছর মেয়াদী কোর্স চালু আছে।

নার্সিংয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে কোর্সের শেষে ছয় মাসের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ নার্সিং কাউন্সিল আয়োজিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এতে উত্তীর্ণ হবার মাধ্যমে নিবন্ধিত হলেই পেশা হিসাবে নার্সিং নিতে পারবেন।

একজন নার্সের মাসিক আয় কেমন?

ক্যারিয়ারের শুরুতে অ্যাসিস্ট্যান্ট নার্স বা ওটি সিস্টার হিসেবে সরকারি হাসপাতালে যোগ দিলে একজন নার্স সরকারি বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৳৮,০০০ – ৳১৬,৫৪০ মাসিক বেতন পেয়ে থাকেন।

বেসরকারি ক্লিনিকে সাধারণত মাসিক ৳১৪,০০০ থেকে বেতন শুরু হয়। তবে প্রতিষ্ঠানভেদে কমবেশি হতে পারে আয়।

একজন নার্সের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

আমাদের দেশে প্রয়োজনের তুলনায় নার্সের সংখ্যা এখনো কম। তাই নার্স হিসাবে নিবন্ধন পাবার পর তুলনামূলকভাবে কম সময়ে চাকরি পাওয়া সম্ভব।

বিদেশেও দক্ষ ও অভিজ্ঞ নার্সের চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাতেও বাংলাদেশের নার্সরা কাজ করছেন বেশ সুনামের সাথে। সম্ভাবনাময় এ পেশায় রয়েছে আর্থিক স্বচ্ছলতা ও মর্যাদার জীবন।

নার্স থেকে পদোন্নতি পেয়ে সিনিয়ার স্টাফ নার্স ও সুপারিন্টেনডেন্ট বা নার্সিং ট্রেনিং কলেজের প্রশিক্ষক হওয়ার জন্য প্রয়োজন অভিজ্ঞতা ও বিশেষায়িত কারিগরি দক্ষতা। এছাড়াও সরকারের সেবা পরিদপ্তরের উচ্চ পদে যেতে পারেন নার্সরা। সেবাধর্মী এ পেশায় আপনিও অর্জন করতে পারেন সামাজিক মর্যাদা ও ভালো আয়ের সুযোগ।

Loading

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।