পাবলিশিং এডিটর

পাবলিশিং এডিটর: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

একজন পাবলিশিং এডিটর লেখা মনোনয়ন থেকে শুরু করে লেখার প্রয়োজনীয় সম্পাদনা, প্রকাশক ও লেখকের মাঝে সমন্বয় সাধন, বইয়ের প্রচারণা, বিজ্ঞাপন ও প্রকাশনা উৎসব আয়োজনসহ বিভিন্ন কাজ করে থাকেন।

এক নজরে একজন পাবলিশিং এডিটর

সাধারণ পদবী: পাবলিশিং এডিটর/প্রিন্টিং এডিটর
বিভাগ: প্রকাশনা
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল টাইম, পার্ট টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
অভিজ্ঞতা সীমা: কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
সম্ভাব্য বেতনসীমা: ৳১৫,০০০ – ৳১৮,০০০
সম্ভাব্য বয়সসীমা: কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
মূল স্কিল: ভাষা ও ব্যাকরণের উপর দক্ষতা, প্রকাশনা শিল্প সম্পর্কিত জ্ঞান, দেশ-বিদেশের সাহিত্য ও মানুষের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা
বিশেষ স্কিল: অনুবাদের দক্ষতা, যোগাযোগের দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, ধৈর্য

কোন ধরনের প্রতিষ্ঠানে একজন পাবলিশিং এডিটর কাজ করেন?

  • সরকারি প্রকাশনা সংস্থা;
  • বেসরকারি প্রকাশনা সংস্থা;
  • প্রাইভেট প্রকাশনা ফার্ম বা কোম্পানি;
  • তথ্য ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।

একজন পাবলিশিং এডিটর কী ধরনের কাজ করেন?

  • বই/আর্টিকেল পড়ে ছাপাবার জন্য মনোনীত করা;
  • কোন লেখার বানান ও ব্যাকরণের ভুল সংশোধন করা;
  • ভাষার প্রয়োগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে পরিবর্তন/পরিমার্জন প্রয়োজন হলে তা করা;
  • প্রকাশক ও লেখকের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করা এবং প্রকাশকের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা;
  • প্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন, প্রচারণা, প্রকাশনা উৎসব ও রিভিউর আয়োজন করা;
  • ছাপার নেগেটিভ/ব্লুপ্রিন্ট রেডি করা ও ফর্মা বা অন্যান্য হিসাবসহ একটি সাধারণ হিসাব দেয়া;
  • বই ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলের সাথে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা।

একজন পাবলিশিং এডিটরের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

এ পেশায় হাতে কলমে ও নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে কাজ শেখার সুযোগ প্রচুর। যে কোন বিষয়ে স্নাতক পাশ করলেই এ পেশায় আসা সম্ভব। এজন্য লেখালেখিতে অভিজ্ঞ হলে আর ব্যাকরণ ও সাহিত্য নিয়ে গভীর জ্ঞান থাকা জরুরি। তবে বাংলা বা ইংরেজি সাহিত্য অথবা সাংবাদিকতায় স্নাতক/স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যায়।

একজন পাবলিশিং এডিটরের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • ব্যাকরণ, সাহিত্য আর ভাষাশৈলীর উপর গভীর জ্ঞান;
  • ভালো যোগাযোগের দক্ষতা;
  • দেশী-বিদেশী সাহিত্য নিয়ে ধারণা;
  • বর্তমান সময়ের পাঠকদের চাহিদা বোঝার ক্ষমতা;
  • সময়মতো কাজ শেষ করার মানসিকতা।

কোথায় পড়াশোনা করবেন পাবলিশিং এডিটর হতে চাইলে?

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশন স্টাডিজ বিভাগ খোলা হয়েছে, যা এ পেশা সংশ্লিষ্ট প্রথম কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা, বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্যে অধ্যয়নের সুযোগ আছে।

একজন পাবলিশিং এডিটরের কাজের ক্ষেত্র এবং সুযোগ কেমন?

২০১৮ সালের অমর একুশে বইমেলায় স্টল সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৮০০। বর্তমানে প্রায় এক হাজারের উপরে বই আর লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশনা সংস্থা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি আর শিল্পকলা একাডেমির প্রকাশনা বিভাগেও কাজ করা সম্ভব। তবে এ পেশায় কাজের জন্য যোগ্যতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহলে পরিচিতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশনা সংস্থাগুলো এমন গুরুদায়িত্ব চেনাজানা যোগ্য ব্যক্তিদের দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

একজন পাবলিশিং এডিটরের মাসিক আয় কেমন?

শুরুতে মাসিক উপার্জন ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকার মতো হয়। তবে দুই-এক বছরেই নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারলে বেতন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সিনিয়র ও অভিজ্ঞ হয়ে হবার পর প্রজেক্টভেদে লাভের অংশীদারও হওয়া সম্ভব। লাভজনক প্রকাশনা সংস্থা হলে বেতন আরো বেশি হয়।

ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে একজন পাবলিশিং এডিটরের?

শুরুতে ছোট কোন প্রকাশনাতে কাজ শুরু করে নিজেকে দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে বড় প্রকাশনাতে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। প্রকাশনা ছাড়াও পরবর্তীতে প্রিন্ট মিডিয়াতে কাজ করা সম্ভব।

Loading

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।