পেশা যখন রান্নাবান্না

পেশা যখন রান্নাবান্না - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

মজাদার খাবার খেতে কে না ভালোবাসে? কিন্তু সবাই কি পারে সুস্বাদু খাবার তৈরি করতে? এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ রাঁধুনি। দিনভর হরেক রকমের মুখরোচক খাবার তৈরি করা যেন অনেকের নেশা। আর এই নেশা যদি হয় পেশা, তাহলে কেমন হয় বলুন তো? চলুন জেনে নেয়া যাক পেশাদার বাবুর্চিদের পেশাগত জীবন সম্পর্কে।

বাবুর্চি কেন হবেন?

অধিকাংশ মানুষই এই পেশাকে বেছে নেয় রান্নার প্রতি আবেগ এবং ভালোবাসা থেকে। এছাড়াও এ চাকরিতে রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা। রয়েছে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন হোটেলে ভ্রমণের সুযোগ এবং বিভিন্ন রকমের মুখরোচক খাবারের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ। এই পেশায় আপনি পাবেন হরেক রকমের খাবার নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ এবং রন্ধনশিল্প সম্পর্কে বিস্তৃত জ্ঞান অর্জনের সুযোগ। এর ফলে আপনি  আপনার আগ্রহের জায়গায় সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগও পাচ্ছেন। এটা বলতে কোনো সমস্যা নেই যে, বাবুর্চির পেশায় যতটা না কাজ, তার চেয়ে বেশী ভ্রমণ।

বাবুর্চির চাকরির বিস্তারিত

বাংলাদেশে ইদানীং প্রচুর পরিমাণে রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং রিসোর্ট তৈরী হচ্ছে। ফুড ইন্ডাস্ট্রির এ ব্যাপক প্রসারে বাবুর্চিদের জন্য উন্মোচিত হয়েছে সম্ভাবনার নতুন দ্বার। ভালো বেতনে বাবুর্চিরা চাকরি পেয়ে থাকেন এসব প্রতিষ্ঠানে। বেতন হয়ে থাকে চার অংক থেকে শুরু করে পাঁচ অংক পর্যন্ত।  বিভিন্ন বিয়ে, জন্মদিনের অনুষ্ঠান ইদানীং বেশ বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব অনুষ্ঠানে ভালো অর্থের বিনিময়ে বাবুর্চি রাখা হয়। নিমন্ত্রিত অতিথির উপর ভিত্তি করে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ফি নিয়ে থাকেন বাবুর্চিরা। প্রথমদিকে বাবুর্চিদের কর্মঘন্টা একটু বেশী থাকে, প্রায় ১৪ থেকে ১৬ ঘন্টা। কিন্তু পরবর্তীতে ব্যাপারটি সহনীয় পর্যায়ে চলে আসে। ধীরে ধীরে দক্ষ হয়ে উঠলে কর্মজীবনে অনেক উন্নতি লাভ করা যায়।

বাবুর্চি হওয়ার প্রশিক্ষণ

বাংলাদেশে বাবুর্চি হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কোর্সগুলোর ফি হয়ে থাকে ৬০০০০ থেকে শুরু করে ২০০০০০ টাকা পর্যন্ত। কোর্সগুলো সাধারণত তিন মাস মেয়াদি হয়ে থাকে। বাংলাদেশে রন্ধনবিষয়ক ডিগ্রি নেয়ারও ব্যাবস্থা রয়েছে। ডিগ্রির ক্ষেত্রে রয়েছে ১ বছর মেয়াদি কোর্স। দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে এ বিষয়ে স্নাতক করার জন্য কোন প্রতিষ্ঠান নেই। রন্ধনবিষয়ে স্নাতক করতে হলে যেতে হবে দেশের বাইরে। বিভিন্ন দেশে স্বনামধন্য বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে রয়েছে এ বিষয়ে স্নাতক করার ব্যাবস্থা। ভালো বাবুর্চি হওয়ার জন্য আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দক্ষ কোন বাবুর্চির শিক্ষানবিশ হওয়া। নাহলে রান্নার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলো আয়ত্ত করা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

দক্ষ বাবুর্চির গুণাবলি

একজন ভালো বাবুর্চি হওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে পরিচ্ছন্নতা। যখন আপনি রান্না করেন, তখন যাদের জন্য রান্না করেন তাদের স্বাস্থ্যের নিরাপত্তা আপনার হাতে থাকে। তাই আপনাকে হতে হবে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন এবং রান্না করতে হবে নিরাপদ খাবার। আপনাকে হতে হবে সময়ানুবর্তী। মানুষ রেস্তোরাঁ গুলোতে খাবার অর্ডার করে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে চায় না। তাই জনপ্রিয়তা অর্জনে এবং ক্যারিয়ারে সফল হতে হলে আপনাকে হতে হবে সময়ানুবর্তী। থাকতে হবে সৃজনশীলতা এবং রান্নার প্রতি ভালোবাসা।

পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো

বিভিন্ন সংস্কৃতির সাথে সহজেই পরিচিত হওয়ার সুযোগ থাকার কারণে মানুষের রুচিরও পরিবর্তন হচ্ছে নিয়মিত। তাদের এ রুচির সাথে খাপ খাওয়াতে না পারলে বাবুর্চিরা হারাবেন তাদের গ্রাহক। এজন্য যা করা যেতে পারে তা হল, অনলাইনে খাবারের নিত্যনতুন ভিডিও দেখতে হবে, রান্না সম্পর্কিত ব্লগ পড়তে হবে, বিখ্যাত বাবুর্চিদের রান্নার রেসিপির বই পড়তে হবে, রান্নার প্রতিযোগিতাগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। এভাবে সদা পরিবর্তনশীল ট্রেন্ডগুলোর সাথে তাল না মেলাতে পারলে বাবুর্চি হিসেবে ক্যারিয়ারে সফলতা করা কঠিনই বটে।

স্বনামধন্য বাংলাদেশি বাবুর্চি

বাংলাদেশের বিখ্যাত বাবুর্চিদের মধ্যে রয়েছেন টমি মিয়া, টনি খান, সিদ্দীকা কবির, ফখরুদ্দিন, আব্দুল লতিফ এবং আরো অনেকে। তাঁরা তাঁদের রন্ধনশৈলী দিয়ে নাম কুড়িয়েছেন দেশে এবং বিদেশে। যদি আপনিও একজন স্বনামধন্য বাবুর্চি হতে চান, তাহলে তারা হতে পারেন আপনার আদর্শ।

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।