বাংলাদেশে ফাস্ট ফুড ব্যবসার চ্যালেঞ্জ কী কী?

ক্যারিয়ার কন্টেন্ট - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

ফাস্ট ফুড হচ্ছে এমন ধরনের খাবার যা গতানুগতিক খাবার থেকে দ্রুত প্রস্তুত করে পরিবেশন করা সম্ভব। যেমনঃ বার্গার আর ফ্রেঞ্চ ফ্রাইজ। গত এক দশকে এমন খাবারের জনপ্রিয়তা বেড়েছে শহরবাসী মানুষের মধ্যে। ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্টের উপস্থিতি এখন চোখে পড়ার মতো। আপনি যদি এ ইন্ডাস্ট্রির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চান, তাহলে ফাস্ট ফুড ব্যবসার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জেনে রাখতে পারেন।

রেস্টুরেন্টের অবস্থান

যেকোন জায়গায় রেস্টুরেন্ট খুলে ব্যবসায়িকভাবে লাভবান হওয়া যায় না। আপনার সম্ভাব্য কাস্টমাররা সচরাসচর কোথায় ঘুরতে যান, সে ব্যাপারে জানা থাকতে হবে আপনার। ঐ জায়গায় অন্যান্য রেস্টুরেন্ট কেমন সার্ভিস দেয়, তা নিয়েও ভালো ধারণা থাকা প্রয়োজন।

লাইসেন্স ও অনুমতি

ফাস্ট ফুড ব্যবসার জন্য দরকারি সাধারণ কয়েকটি লাইসেন্স ও সার্টিফিকেট হচ্ছেঃ

১) ট্রেড লাইসেন্স
২) ফায়ার লাইসেন্স
৩) ভ্যাট সার্টিফিকেট
৪) হেলথ সার্টিফিকেট

এছাড়া প্রতিষ্ঠানের ধরন আর কার্যক্রমের পরিধির উপর নির্ভর করে অন্যান্য লাইসেন্স ও সার্টিফিকেট সংগ্রহ করার প্রয়োজন হতে পারে।

চাহিদা

কাস্টমারের চাহিদা প্রতিনিয়ত বদলায়। তাই নিজের রেস্টুরেন্টে কোন ধরনের খাবার পরিবেশন করবেন, তা নিয়ে ভালোভাবে পরিকল্পনা করতে হবে আপনাকে। কাস্টমাররা কোন খাবার কী পরিমাণে অর্ডার দিচ্ছেন তার হিসাবে এখানে কাজে লাগতে পারে। এছাড়া বিশেষ সময়ে বিশেষ কোন আইটেম মেন্যুতে যোগ করে তার জনপ্রিয়তা পরীক্ষা করা সম্ভব।

খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতা

যেকোন রেস্টুরেন্টের সুনাম মূলত নির্ভর করে খাবারের মানের উপর। কাস্টমার যদি একবার নিম্নমানের অপরিচ্ছন্ন খাবার পায়, তবে সে পরের বার স্বভাবতই অন্য রেস্টুরেন্টে যাবে। তাই খাবারের মান ও পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে সবসময় বিশেষ মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। যেমন, আপনার রেস্টুরেন্টে যদি বার্গার থাকে, তবে এর রুটি হতে হবে ফ্রেশ আর প্যাটির মাংস হতে হবে রসালো। অন্যদিকে ফ্রাইড চিকেনের ক্ষেত্রে চিকেন হতে হবে যথেষ্ট ম্যারিনেটেড, ক্রিস্পি, জ্যুসি আর ফ্রেশ। আবার পিজ্জার ক্ষেত্রে টপিংস হতে হবে উন্নত মানের। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেয়া স্ট্যান্ডার্ড বজায় রেখে সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশন করাটা জরুরি।

মার্কেটিং

ফাস্ট ফুড ব্যবসা চরম প্রতিযোগিতামূলক একটি ব্যবসা। এ ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে ঠিকভাবে মূল্য নির্ধারণ আর দক্ষ মার্কেটিং নিশ্চিত করতে হবে আপনাকে। এর জন্য বিভিন্ন রকম অফার বা ডিসকাউন্ট দিয়ে তা যথাসম্ভব অভিনব উপায়ে কাস্টমারদের জানিয়ে আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা চালানো দরকার। এক্ষেত্রে বাজেট ব্যবস্থাপনা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

ফাস্ট ফুড ব্যবসার চ্যালেঞ্জ সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন আপনি। এর জন্য আপনাকে ধৈর্য ও ব্যবসায়িক বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে।

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।