ফ্যাক্টরি ম্যানেজার

ক্যারিয়ার কন্টেন্ট - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

একজন ফ্যাক্টরি ম্যানেজার সমগ্র উৎপাদন প্রক্রিয়ার তদারকি, বিভিন্ন দলের মধ্যে সমন্বয় এবং সমগ্র ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। কারখানায় সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাপের গুণগত পণ্যের উৎপাদন তিনি নিশ্চিত করে থাকেন।

সাধারণ পদবী:  ফ্যাক্টরি ম্যানেজার/প্রোডাকশন ম্যানেজার/ হেড অফ প্ল্যান্ট

বিভাগ:  ম্যানেজমেন্ট

কর্মস্থলঃ  যে কোন ধরনের উৎপাদনমুখী কারখানা

ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল টাইম

লেভেল: মিড

অভিজ্ঞতা: সহকারী ম্যানেজার পদের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৩-৫ বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়। ম্যানেজার হিসেবে সরাসরি কাজ করতে চাইলে প্রতিষ্ঠানভেদে ৫-১০ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। বড় আকারের কারখানায় ম্যানেজার হিসেবে কাজের জন্য ১০-১৫ বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন

বেতন সীমা: দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণত ৫০-৮০ হাজার টাকা। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে এক থেকে দেড় লাখ টাকা

বয়স সীমা:  ন্যূনতম ৩০ বছর

মূল স্কিল : ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন ব্যবস্থার সার্বিক জ্ঞান, বিশেষক্ষেত্রে প্রকৌশল জ্ঞান

বিশেষ স্কিল:  নেতৃত্বের গুণাবলী, দক্ষ পরিচালক, দলগতভাবে কাজের দক্ষতা, যেকোন পরিস্থিতি সামাল দেবার উপস্থিত বুদ্ধি, নেগোসিয়েশন স্কিল

একজন ফ্যাক্টরি ম্যানেজার কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান বা শিল্পে কাজ করেন?

মাঝারি-বড় মাপের যে কোন ধরনের উৎপাদনমুখী শিল্পকারখানায় একজন ফ্যাক্টরি ম্যানেজার/প্রোডাকশন ম্যানেজার কাজ করেন।

একজন ফ্যাক্টরি ম্যানেজার কী ধরনের কাজ করেন?

  •         সম্পূর্ণ উৎপাদন প্রক্রিয়ার তদারকি করেন
  •         যটতা সম্ভব উৎপাদন ব্যয় কমানোর চেষ্টা করেন
  •         উৎপাদিত পণ্যের গুণগত মান যাচাই করেন এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার গুণমান নির্দিষ্ট করে দেন
  •         প্রতিটি বিভাগে কাজের জন্য সময় নির্ধারণ করে দেন এবং বিভাগগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয় করেন
  •         উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা করেন
  •         উৎপাদন যন্ত্রের নিরাপত্তা এবং রক্ষণাবেক্ষণের তদারকি করেন
  •         প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য বিভাগের সাথে সর্বদা যোগাযোগ রাখেন
  •         কারখানার অন্যান্য ম্যানেজার এবং কর্মকর্তাদের সাথে মিলে উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ করার লক্ষ্যে কাজ করেন
  •         উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তাবিধির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করেন
  •         কারখানার কর্মীদের কর্মক্ষমতার উপর রিপোর্ট তৈরি করেন
  •         প্রয়োজনে কারখানার কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন
  •         শিল্পকারখানা অডিটের সময় প্রয়োজনীয় সাহায্য করেন
  •         কর্মীদের মাঝে শৃঙ্খলা রক্ষা করেন

একজন ফ্যাক্টরি ম্যানেজারের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?

চাকুরিক্ষেত্রে সাধারণত হিউম্যান রিসোর্স/অ্যাকাউন্টিং/ম্যানেজমেন্টে বিবিএ/এমবিএ ডিগ্রিধারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে ফ্যাক্টরি ম্যানেজার পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স/যন্ত্রপ্রকৌশলে ব্যাচেলর ডিগ্রি চাওয়া হয়। টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে সাধারণত টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং/ রেডিমেইড গার্মেন্টসে ব্যাচেলর ডিগ্রিধারীদের সুযোগ দেওয়া হয়।

একজন ফ্যাক্টরি ম্যানেজারের কী কী দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  •         সুষ্ঠ পরিকল্পনা করার এবং সাংগঠনিক দক্ষতা থাকতে হবে
  •         কারখানার উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান থাকতে হবে
  •         প্রতিষ্ঠানের পলিসি এবং উৎপাদন মান সম্পর্কে জানতে হবে
  •         কারখানার কর্মী বা উৎপাদন ব্যবস্থা সংক্রান্ত যে কোন সমস্যার সহজ, উপযুক্ত ও দ্রুত নিষ্পত্তি করতে দক্ষ হতে হবে
  •         উৎপাদন ব্যবস্থা এবং উৎপাদিত পণ্যের খুঁটিনাটি নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে
  •         ভালো যোগাযোগের দক্ষতা এবং নেতৃত্বদানে সক্ষম হতে হবে
  •         সঠিক সময়ে কর্ম সম্পাদন এবং সঠিক দামে সব পণ্যের প্রাপ্তির জন্য নেগোসিয়েশন স্কিল থাকতে হবে
  •         অধিক চাপের মধ্যে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে এবং অবশ্যই পরিশ্রমী হতে হবে
  •         যুক্তিযুক্তভাবে চিন্তা করে যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে

কোথায় পড়াশোনা করবেন ফ্যাক্টরি ম্যানেজার হতে চাইলে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইন্সটিটিউট(IBA) সহ দেশের প্রায় সব সাধারণ সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ গুলোতে বিবিএ/এমবিএ পড়বার সুযোগ আছে

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং(BUTex), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(KUET), ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(DUET), মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-টাঙ্গাইল এ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ আছে। এছাড়া মোট ১৩ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়বার সুযোগ আছে যার মধ্যে আছে আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশবিদ্যালয়(AUST), বিজেএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অন্যতম।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়(BUET), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(KUET), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(RUET), চট্রগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(CUET), ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজি(IUT), আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(AUST), ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস,এগ্রিকালচার এন্ড টেকনোলজি(IUBAT) এ যন্ত্রকৌশলে ব্যাচেলর ডিগ্রি দেওয়া হয়।

একজন ফ্যাক্টরি ম্যানেজারের কাজের ক্ষেত্র ও সুযোগ কেমন?

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ছিল ১৭.৩১ শতাংশ, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে তা ৩২ শতাংশে উন্নিত হয়। বাংলাদেশে বর্তমানে শিল্পবিপ্লব চলছে। পোশাক শিল্প, ঔষধ শিল্প, চামড়া শিল্প, সিমেন্ট শিল্প সহ স্থানীয় বাজারে এখন বহুজাতিক কোম্পানি গুলো উৎপাদন করছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তৈরি হচ্ছে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা(EPZ), বিসিক শিল্প নগরী, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক। এসব কারখানার সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার জন্য ফ্যাক্টরি ম্যানেজার অপরিহার্য। কাজের দেশেই শিল্পায়নের সাথে সাথে ফ্যাক্টরি ম্যানেজার হিসেবে কাজের সুযোগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

একজন ফ্যাক্টরি ম্যানেজারের মাসিক আয় কেমন?

প্রতিষ্ঠানের ধরন এবং যোগ্যতা অনুযায়ী একজন ফ্যাক্টরি ম্যানেজারের বেতনে অনেক ভিন্নতা আছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেতন সাধারণত ৫০-৮০ হাজার টাকা হয়ে থাকে। কিছু বড় আকারের দেশীয় প্রতিষ্ঠানে এক লাখ বা এর থেকে বেশি বেতন দেয়। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেতন সাধারণত এক-দেড় লাখ টাকা। তবে বড় বড় কারখানাগুলোতে যেখানে অধিক দক্ষ ও বহু বছরের অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয় সেখানে বেতন কয়েক লক্ষ টাকা হয়ে থাকে।  

ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে একজন ফ্যাক্টরি ম্যানেজারের?

ফ্যাক্টরি ম্যানেজার অনেক দায়িত্ব প্রাপ্ত একটি পদ। সাধারণত কর্মজীবনের শুরুতে সহকারী প্রকৌশলী বা এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে পদন্নোতির মাধ্যমে প্রথমে সহকারী ফ্যাক্টরি ম্যানেজার এবং পরবর্তীতে ফ্যাক্টরি ম্যানেজার হওয়া সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে কাজে দক্ষ হবার পাশাপাশি ব্যক্তিত্বও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। একজন ফ্যাক্টরি ম্যানেজার হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দিলে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের যে কোন শীর্ষ পদে কাজের সুযোগ পাওয়া সম্ভব।

 

Loading

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।