ফ্যাশন ডিজাইনার

ফ্যাশন ডিজাইনার: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

একজন ফ্যাশন ডিজাইনার পোশাক-পরিচ্ছদের ডিজাইনে মূল ভূমিকা পালন করেন। এ পেশায় কাজ করতে হলে আপনাকে আঁকাআঁকিতে দক্ষ হবার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মানুষের জীবনযাত্রা, চিন্তাভাবনা ও রুচির সাথে পরিচয় থাকতে হবে।

এক নজরে একজন ফ্যাশন ডিজাইনার

সাধারণ পদবী: ফ্যাশন ডিজাইনার
বিভাগ: গার্মেন্টস ও ফ্যাশন
প্রতিষ্ঠানের ধরন: প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি, ফ্রিল্যান্সিং
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম, পার্ট-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড, টপ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা: ১ – ৩ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন: ৳১৫,০০০
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স: ২২ বছর
মূল স্কিল: ক্যাড (CAD), পোশাক-পরিচ্ছদ সম্পর্কিত জ্ঞান, সৃজনশীল চিন্তা করার ক্ষমতা, আঁকাআঁকির দক্ষতা
বিশেষ স্কিল: সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, যোগাযোগের দক্ষতা

একজন ফ্যাশন ডিজাইনার কোথায় কাজ করেন?

  • টেক্সটাইল কোম্পানি বা ফ্যাক্টরি;
  • বিভিন্ন কাপড়ের ব্র্যান্ডের দোকান, যেমনঃ লা রিভ, ক্যাট’স আই;
  • গার্মেন্টস কোম্পানি বা ফ্যাক্টরি;
  • বুটিকের দোকান।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কাজ করার পাশাপাশি বহু ফ্যাশন ডিজাইনার কনসালট্যান্ট হিসাবেও কাজ করে থাকেন।

একজন ফ্যাশন ডিজাইনার কী ধরনের কাজ করেন?

  • পোশাকের নকশা বানানো;
  • পোশাকের রঙ নির্ণয়;
  • পোশাকের ধরন ঠিক করা;
  • একটি নির্দিষ্ট পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে কী ধরনের কাপড় ব্যবহার করা হবে, তা ঠিক করা;
  • পোশাক তৈরিতে আনুমানিক কত খরচ হতে পারে, তার হিসাব তৈরি করা;
  • নমুনা পোশাক তৈরির সময় যাবতীয় কাজের তদারকি করা;
  • চলতি ফ্যাশন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা।

একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ ফ্যাশন ডিজাইনের উপর ডিপ্লোমা বা ব্যাচেলর ডিগ্রিপ্রাপ্ত প্রার্থীরা নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য হবেন।

বয়সঃ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়। সাধারণত আপনার বয়স কমপক্ষে ২২ বছর হতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে বেশি বয়সী ও অভিজ্ঞ প্রার্থীদের নিয়োগ দেয়া হয়।

অভিজ্ঞতাঃ সাধারণত ১ থেকে ৩ বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।

বিশেষ শর্তঃ নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু সময় নারী অথবা পুরুষের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকে। বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে নারীরা অগ্রাধিকার পেতে পারেন।

একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

ডিজাইনের সফটওয়্যার: Adobe Illustrator, Adobe Photoshop, AutoCAD, CorelDRAW

কারিগরি জ্ঞানের পাশাপাশি আপনাকে যোগাযোগে দক্ষ হতে হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করতে পারা জরুরি।

সৃজনশীল পেশা হবার কারণে কাজের পোর্টফোলিও থাকা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে আপনার আঁকাআঁকি ও ডিজাইনের দক্ষতা সম্পর্কে নিয়োগদাতা খুব সহজে পরিষ্কার ধারণা পাবেন।

কোথায় পড়বেন ফ্যাশন ডিজাইনিং?

আমাদের দেশে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্যাশন ডিজাইনের উপর পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে।

  • বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়
  • ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি
  • বিজিএমইএ (BGMEA) ইন্সটিটিউট অফ ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি

একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের মাসিক আয় কেমন?

মাসিক আয় কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। সাধারণত মাসিক বেতন ৳১৫,০০০ – ৳২০,০০০ হয়। বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মাসিক আয় ৫০ হাজার টাকা হতে পারে।

একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

ক্যারিয়ার হিসেবে আমাদের দেশে ফ্যাশন ডিজাইনিং এখনো চ্যালেঞ্জিং। তবে সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতা থাকলে একজন ফ্যাশন ডিজাইনার ম্যানেজার বা সহকারী ম্যানেজার পদে কাজ করার সুযোগ পান।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা: সৈয়দ ফাহিম হাশেমী, ফ্যাব্রিক টেকনোলজিস্ট, রিব লাইন গ্রুপ।

One thought on “ফ্যাশন ডিজাইনার

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।