বিসিএস পরিবার পরিকল্পনা: সহকারী পরিচালক

ক্যারিয়ার কন্টেন্ট - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

জনসংখ্যাবহুল দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ভূমিকা ও কাজ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার পরিকল্পনার কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশ সরকার আলাদাভাবে পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারের অস্তিত্ব রেখেছে। এক্ষেত্রে গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকেন এই ক্যাডারের কর্মকর্তারা।

পরিবার পরিকল্পনা সার্ভিসে নিয়োগ পাওয়ার ধাপগুলো কী কী?

পরিবার পরিকল্পনা সার্ভিসে নিয়োগের ক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে নিম্নলিখিত ধাপগুলো পার করতে হবে –

১। বিসিএস প্রিলিমিনারী লিখিত পরীক্ষায়(২০০ নম্বরের পরীক্ষা) উত্তীর্ণ হতে হবে।

২। এতে উত্তীর্ণ হলে বিসিএস লিখিত পরীক্ষার(৯০০ নম্বরের পরীক্ষা) জন্য বসতে হবে আপনাকে।

৩। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আপনি সরাসরি মৌখিক পরীক্ষার জন্য বিবেচ্য হিসেবে গণ্য হবেনমৌখিক পরীক্ষায়(২০০ নম্বরের পরীক্ষা) যদি আপনি ভালো করতে পারেন সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত ফলাফলে আপনার যে কোন একটি ক্যাডারের জন্য মনোনীত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৪। মৌখিক পরীক্ষার পরে চূড়ান্ত ফলাফলে কোন প্রার্থী কোন্ ক্যাডার পেয়েছেন অথবা নন-ক্যাডার চাকরির জন্য বিবেচ্য হবেন তা উল্লেখ করে দেওয়া হয়।

পরিবার পরিকল্পনা সার্ভিসে যারা নিয়োগ পান তারা সাধারণত কোথায় কাজ করেন?

বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বেশ কয়েকটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছেএক্ষেত্রে একজন সহকারী পরিচালক এই বিভাগগুলোর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকটি কর্মক্ষেত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল –

১। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর।

২। বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়।  

৩। জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়।

৪। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়।  

একজন সহকারী পরিচালক সাধারণত কী ধরনের কাজ করেন?

১। গ্রাম, ইউনিয়ন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা প্রণয়ন করা এবং এ কাজে সহায়তা করা।

২। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে নিয়োজিত থাকলে বার্ষিক পরিবার পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করা।

৩। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ক্ষেত্রে আপনাকে যে ইউনিটে নিয়োগ দেওয়া হবে সেই ইউনিটের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পাদন করা। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে মহাপরিচালকের দপ্তরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা প্রণয়ন কিংবা মহাপরিচালককে কাজে সহায়তা করতে হবে আপনাকে দপ্তরে সহকারী পরিচালকের উপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পন্ন করার মাধ্যমে। আবার অর্থ ইউনিটের ক্ষেত্রে আপনাকে অধিদপ্তরের বাজেট, বার্ষিক খরচ ও পরিকল্পনা ও প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ ও সরবরাহ করার কাজ সম্পন্ন করতে হবে আপনাকে।

৪। আপনার অধীনস্থ কর্মচারীদের সম্মানী, ঐচ্ছিক ছুটিসহ অন্যান্য সমস্যার সমাধান ও সুযোগ-সুবিধার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সামগ্রিক দেখভাল করতে হবে আপনাকে।

৫। পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সমাবেশ, কনফারেন্স বা সম্মেলন, প্রশিক্ষণ প্রভৃতির আয়োজন করার পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কাজ করতে হয় প্রতিষ্ঠানের বাকি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ সমন্বয়ের মাধ্যমে।

৬। সফল পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার পরিবার সংখ্যা, পরিবারের জনসংখ্যা এবং অন্যান্য পরিসংখ্যানভিত্তিক হিসাব সংগ্রহের কাজের সিদ্ধান্ত দিতে হয় যা অনুযায়ী অধীনস্থ কর্মচারীরা কাজ করে থাকেনকিছু ক্ষেত্রে কিছু অস্থায়ী প্রজেক্টও তৈরি করা হতে পারে এক্ষেত্রে।

৭। পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত নাগরিক তৈরির লক্ষ্যে দেশের পাঠ্যপুস্তক এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রয়োজনীয় তথ্য বিতরণের কাজ সম্পন্ন করতে হয়।

একজন সহকারী পরিচালকের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

১। সহকারী পরিচালকের কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে সৎ, মানসিকভাবে দৃঢ় ও বিচক্ষণ হওয়া জরুরি।

২। গ্রাম পর্যায়সহ দেশব্যাপী অশিক্ষিত ও শিক্ষিত উভয় ধরনের নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করতে চাইলে যোগাযোগ সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে যথেষ্ট দক্ষতা থাকতে হবে।  

৩। পরিসংখ্যান ও গবেষণা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা ও জ্ঞান থাকা জরুরি।

৪। বাজেটের মধ্যে কাজ সম্পাদনের ক্ষেত্রে একইসাথে হিসাবে পটু ও মিতব্যয়ী হতে হবে।

৫। অধীনস্থ কর্মচারীদের মনিটর করার ক্ষেত্রে কৌশলী হওয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে।

৬। সাফল্য আনবে এমন প্রজেক্টের পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সৃজনশীল হওয়া জরুরি।

একজন সহকারী পরিচালকের মাসিক আয় কেমন?

৯ম পে স্কেল অনুসারে একজন সহকারী পরিচালকের বেতন ২২,০০০ টাকা।

একজন সহকারী পরিচালকের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

একজন সহকারী পরিচালকের ক্যারিয়ার অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত পদবিন্যাস রয়েছে। আপনি যদি সহকারী পরিচালক হন সেক্ষেত্রে নির্ধারিত পদবিন্যাস অনুযায়ী আপনার ক্যারিয়ার অগ্রসর হবে যথাক্রমে –

১। সহকারী পরিচালক

২। উপপরিচালক

৩। পরিচালক

 

কেন নেবেন ক্যারিয়ার টেস্ট?

  • সরাসরি ইন্টারভিউর কল পেতে
  • সরাসরি চাকরির পরীক্ষা দিতে
  • চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে
  • চাকরির জন্য দরকারি স্কিল অর্জন করতে
ক্যারিয়ার টেস্টে যান

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।