ব্যবসার ক্ষেত্রে ডাটা: কী ও কেন?

ব্যবসার ক্ষেত্রে ডাটা: কী ও কেন? - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

তথ্যপ্রযুক্তির যুগে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তথ্য বা ডাটার উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে ব্যবসার ক্ষেত্রে ডাটা ছাড়া কার্যকরী ও লাভজনক সিদ্ধান্ত নেয়া কষ্টকর। আপনি যে পেশাতেই যান না কেন, ডাটা নিয়ে আপনার কমবেশি ধারণা থাকা প্রয়োজন। এ লেখায় জেনে নিন ডাটার গুরুত্ব সম্পর্কে।

ডাটা কী?

ল্যাটিন শব্দ ডেটাম (Datum) থেকে ডাটা শব্দের উৎপত্তি। সাধারণভাবে ডাটা বলতে সংখ্যা, শব্দ, পরিমাণ আর পর্যবেক্ষণ বোঝানো। তবে ব্যবসার ক্ষেত্রে ডাটা বলতে মেশিন-রিডেবল তথ্য বোঝায়।

ব্যবসার ক্ষেত্রে ডাটা: ধরন ও ব্যবহার

পার্সোনাল ডাটা: এ ধরনের ডাটা হচ্ছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, যোগাযোগের মাধ্যম এবং অন্যান্য শনাক্তকারী তথ্যাবলি।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পার্সোনাল ডাটা সংগ্রহ করে থাকে। যেমন, ব্যাংকে আপনার অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য দিতে হয়। এগুলো গ্রাহক হিসাবে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠায় কাজে দেয়।

ট্রান্স্যাকশনাল ডাটা: যেকোন পণ্য বা সেবা সংগ্রহের জন্য প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত ট্রান্স্যাকশনাল ডাটা। যেমন, আপনি অনলাইনে কেনাকাটা করার সময় যেসব তথ্য দেন, সেগুলো এ ধরনের ডাটার অন্তর্ভুক্ত।

ওয়েব ডাটা: ওয়েব ডাটা বলতে ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত যেকোন ধরনের তথ্যকে বোঝায়। এ ধরনের ডাটা থেকে ব্যবহারকারীদের আচার-আচরণ ও পছন্দের বিষয় সম্পর্কে জানা যায়। যেমন, আপনি ফেসবুক ব্যবহার করার সময় আপনার প্রতিটা লাইক ডাটা পয়েন্ট হিসাবে কাজ করে।

সেন্সর ডাটা: পারিপার্শ্বিক পরিবেশ থেকে ডিভাইসের মাধ্যমে ইনপুট নিয়ে এ ধরনের ডাটা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। যেমন, আপনার ফোন আপনি কীভাবে ব্যবহার করেন, সে সম্পর্কে ডাটা সংগ্রহ করে সেলফোন কোম্পানিগুলো তাদের ডিভাইসে ফিচার পরিবর্তন করে বা নতুন ফিচার নিয়ে আসে।

ব্যবসার ক্ষেত্রে ডাটা: কেন দরকার হয়?

ব্যবসার ক্ষেত্রে ডাটা সংগ্রহের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে পণ্য বা সার্ভিসের উন্নয়ন ঘটিয়ে মুনাফার পরিমাণ বাড়ানো। এর সাথে আরো যেসব কাজে ডাটা ব্যবহৃত হয়, তার মধ্যে রয়েছে:

  • পণ্য বা সার্ভিসের বিক্রয় সম্পর্কিত হিসাব রাখা;
  • পণ্য বা সার্ভিসের চাহিদা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া;
  • পণ্য বা সার্ভিসের ভবিষ্যৎ দাম নির্ধারণ;
  • গ্রাহকের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা তৈরি;
  • গ্রাহকের পছন্দ-অপছন্দের বিষয় জানতে পারা।

অভ্যন্তরীণ ডাটার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো ডাটা ব্যবস্থাপনা করে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য। এ ডাটা বিশ্লেষণ করে যেকোন প্রতিষ্ঠান লাভ-ক্ষতির হিসাব ও নিজেদের কর্মীদের কাজের মূল্যায়ন করার সুযোগ পায়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেবার সময়ও ডাটার গুরুত্ব অনেক।

Loading

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।