ভাষা যখন পেশা

ভাষা যখন পেশা - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

মনের ভাব প্রকাশ করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে ভাষা। কিন্তু বিভিন্ন দেশের ভাষা ভিন্ন ভিন্ন হওয়ার কারণে বিঘ্ন ঘটে অন্য ভাষার মানুষের সাথে মনের ভাব আদান প্রদানে। এ সমস্যার সমাধান করা যাদের পেশা, তারাই হচ্ছেন অনুবাদক এবং দোভাষী।

বর্তমান যুগে ব্যবসাক্ষেত্রের প্রসারের কারণে মানুষ আর ভৌগোলিক সীমারেখা দ্বারা আবদ্ধ নেই। মানুষ এখন ভ্রমণপিপাসু এবং ইন্টারনেট নির্ভর হয়ে পড়ছে। এর ফলে বেড়েছে অনুবাদক এবং দোভাষীদের চাহিদা। চলুন জেনে নেয়া যাক অনুবাদক এবং দোভাষী কী এবং তাদের কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে।

দোভাষী বা ইন্টারপ্রেটার

কোন বিষয়বস্তুর উৎসের ভাষা শুনে, বুঝে, মনে রেখে তা নতুন ভাষায় বিবৃতি, প্রশ্ন এবং বক্তব্য হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা যার কাজ, তাকে বলা হয় দোভাষী। তিন ধরণেরদোভাষী রয়েছেঃ

১) সাইমালটেনাস ইন্টারপ্রেটারঃ এরা বক্তা কথা বলার সময় সাথে সাথে তার অনুবাদ করেন।

২) কন্সেকিউটিভ ইন্টারপ্রেটারঃ এরা বক্তার বক্তব্য সম্পন্ন হওয়ার পর তার বার্তার অনুবাদ করেন।

৩) সাইট ট্রান্সলেশন ইন্টারপ্রেটারঃ এরা লিখিত বক্তব্যকে অনুবাদ করে শোনান।

অনুবাদক বা ট্রান্সলেটর

কোন বিষয়কে উৎস ভাষা হতে নতুন ভাষায় লিখিতভাবে অনুবাদ করা যার পেশা, তাকে বলা হয় অনুবাদক। অনুবাদককে খেয়াল রাখতে হয় যেন শ্রোতা তার অনুবাদটি পড়ে তা সহজেই বুঝতে পারে।

অনুবাদক ও দোভাষীর পার্থক্য

যদিও আপাতদৃষ্টিতে এদের মাঝে কোন পার্থক্য আছে বলে মনে হয় না। কারণ এরা খুব ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। তবুও এদের মাঝে পার্থক্য বিদ্যমান। এদের মাঝে পার্থক্যটা হচ্ছে ভাষা অনুবাদের মাধ্যমের ক্ষেত্রে। দোভাষী উৎসের ভাষাকে মৌখিকভাবে অনুবাদ করেন, আর ট্রান্সলেটর অনুবাদ করেন লিখিতভাবে। অনুবাদক এবং দোভাষী উভয়েরই তাদের কাজ করতে প্রয়োজন একাধিক ভাষা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান।

অনুবাদক ও দোভাষী হবার পূর্বশর্ত

পেশাগত অনুবাদক এবং দোভাষী হওয়ার জন্য কিছু দক্ষতা অর্জন করা প্রয়োজনীয়। অনুবাদের উপর ডিপ্লোমা কোর্স করা একজন সফল অনুবাদক কিংবা দোভাষী হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটি সাধারণ ভাষা কোর্স হতে ভিন্ন। অন্তত দুটি ভাষা আয়ত্তে থাকা আবশ্যক। এর মধ্যে একটি হচ্ছে উৎসভাষা এবং অপরটি হচ্ছে লক্ষ্যভাষা। উৎসভাষা হচ্ছে সেই ভাষা, যেই ভাষা থেকে অনুবাদ করতে হবে। আর লক্ষ্যভাষা হচ্ছে সেই ভাষা, যেই ভাষায় অনুবাদটি করতে হবে। হোক সেটা মৌখিক কিংবা লিখিত। অনলাইনে অনুবাদক বা দোভাষীর কাজ করতে হলে প্রয়োজন কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা।

অনুবাদক ও দোভাষী হবার প্রশিক্ষণ

বাংলাদেশের বেশ কিছু প্রশিক্ষণকেন্দ্রে দক্ষ অনুবাদক হওয়ার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। চলুন জেনে নেয়া যাক তাদের মাঝে জনপ্রিয় কয়েকটি সম্পর্কে।

ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট একটি বিশ্বভাষার গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এখানে অন্যান্য প্রোগ্রামের পাশাপাশি দক্ষ অনুবাদক তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

  • আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউট (IML), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, আরবি, স্প্যানিশ, চীনা, জাপানি, জার্মান, ফার্সি, রাশিয়ান
  • ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্সটিটিউট, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  • আলিয়ঁস ফ্রসেজ (Alliance Francaise): ফ্রেঞ্চ
  • গ্যেটে ইন্সটিটিউট (Goethe-Institute Bangladesh): জার্মান
  • ব্রিটিশ কাউন্সিল (British Council): ইংরেজি

অনুবাদক ও দোভাষীদের চাকরি ও কাজ

লেখক, অনুবাদক, শিক্ষক, মেডিক্যাল ট্রান্সক্রিপ্টর, কোর্ট রিপোর্টার, ট্যুর গাইড ইত্যাদি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনুবাদক এবং দোভাষীর চাহিদা রয়েছে। চলুন সংক্ষেপে এদের কাজ সম্পর্কে জেনে নেই।

  • উৎস ভাষার ধারণাকে লক্ষ্যভাষায় সমতুল্য ধারণায় রূপান্তর করা।
  • শব্দকোষ এবং পরিভাষা ডাটাবেজে অনুবাদ করতে প্রয়োজনীয় তথ্য এবং টেকনিক্যাল টার্মস সংকলন করা।
  • কমপক্ষে দুটি ভাষায় কথা বলা, পড়তে পারা এবং সুস্পষ্টভাবে লিখতে পারা। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ব্যবহার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
  • অনুবাদের ক্ষেত্রে মূল ভাষাশৈলী এবং ভঙ্গিমা রক্ষা করা।
  • স্পষ্ট, দ্রুত এবং শুদ্ধভাবে কথা বলতে পারা এবং লিখতে পারা।
  • অনুবাদ করার পূর্বে উভয় ভাষাভাষীদের সংস্কৃতি সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করা। এই জ্ঞান প্রয়োগ করে মূল বার্তাটির একটি সঠিক এবং অর্থপূর্ণ অনুবাদ তৈরি করা।

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।