শিক্ষাবিদ

শিক্ষাবিদ: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

একটি সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে স্বশিক্ষিত এক জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে। আর এ শিক্ষা ব্যবস্থাকে চিন্তা ও গবেষণার মাধ্যমে শিক্ষানীতিতে রূপ দেবার জন্য একজন শিক্ষাবিদ কাজ করেন।

এক নজরে একজন শিক্ষাবিদ

সাধারণ পদবী: শিক্ষাবিদ, শিক্ষা গবেষক
বিভাগ: শিক্ষা
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ফার্ম, কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম, পার্ট-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি, মিড
এন্ট্রি লেভেলে অভিজ্ঞতা সীমা: কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন: ৳২৫,০০০ – কাজ, প্রতিষ্ঠান ও অভিজ্ঞতাসাপেক্ষ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স সীমা: ২৫ – ৩০ বছর
মূল স্কিল: শিক্ষা পদ্ধতি ও নীতি সংক্রান্ত জ্ঞান, গবেষণা করার দক্ষতা
বিশেষ স্কিল: বিশ্লেষণী ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা

একজন শিক্ষাবিদ কোথায় কাজ করেন?

  • শিক্ষা নিয়ে কাজ করা সরকারি প্রতিষ্ঠানে;
  • বেসরকার প্রতিষ্ঠানে, যেমনঃ ব্র্যাক, আশা, ব্রিটিশ কাউন্সিল;
  • বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে।

একজন শিক্ষাবিদ কী ধরনের কাজ করেন?

  • দেশ-বিদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও নীতি নিয়ে গবেষণা করা;
  • সরকারি শিক্ষা নীতি প্রণয়নে পরামর্শ দেয়া;
  • সরকারি পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন কর্মসূচি, শিক্ষা প্রকল্প (যেমনঃ ডিপিএড, সেকাপ,রস্ক, পিইডিপি) ও শিক্ষা জরিপের কাজ করা;
  • বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রকল্প ও কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সহায়তা করা।

একজন শিক্ষাবিদের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউট বা আইইআর শিক্ষা গবেষণায় প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি দিয়ে থাকে। আমাদের দেশে আইইআর থেকে ব্যাচেলর অফ এডুকেশন (বি.এড) ও মাস্টার্স অফ এডুকেশন(এম.এড) ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এ ইন্সটিটিউটের আওতায় একজন শিক্ষার্থী প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা, বিশেষ শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা, এডুকেশন সাইকোলজি, শিক্ষা পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার বিবর্তন ও পাঠ্যসূচি নির্ধারণ নিয়ে শিক্ষা পেয়ে থাকেন। আইইআরের গ্র্যাজুয়েটরা সাধারণভাবে শিক্ষাবিজ্ঞানী নামে পরিচিত হন। যেহেতু এক্ষেত্রে গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, তাই তাদের শিক্ষা গবেষকও বলা হয়ে থাকে।

বয়সঃ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষে বয়সের সীমা নির্ধারিত হয়। সাধারণত আপনার বয়স কমপক্ষে ২২-২৩ বছর হতে হবে।

অভিজ্ঞতাঃ এ পেশায় অভিজ্ঞদের প্রাধান্য রয়েছে। সাধারণত ১-২ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে আসে।

একজন শিক্ষাবিদের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • প্রকল্প কাজের জন্য ভালো যোগাযোগ দক্ষতা;
  • প্রকল্প কাজের গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে জানা;
  • মাঠ পর্যায়ে কাজ করে শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ধারণা রাখা;
  • কম্পিউটারে সাধারণ দক্ষতা।

কোথায় পড়বেন শিক্ষা ও গবেষণা?

বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেয়ার ব্যবস্থা আছেঃ

  • শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়ন ইন্সটিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়;
  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়;
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়;
  • খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়,
  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইডি (শিক্ষা ও উন্নয়ন ইন্সটিটিউট) নামে রয়েছে, তবে সেখানে শুধুমাত্র মাস্টার্স করার সুযোগ আছে। সদ্য আইইআর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরকে শিক্ষা ও গবেষণা অনুষদে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর থেকে ৪ বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অফ এডুকেশন (অনার্স), এক বছর মেয়াদী মাস্টার্স অফ এডুকেশন প্রোগ্রাম, দুই বছর মেয়াদি ইভনিং মাস্টার্স অফ এডুকেশন প্রোগ্রাম, এম. ফিল প্রোগ্রাম ইন এডুকেশন ও পিএইচডি ডিগ্রি দেয়া হয়। অন্যদিকে চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরে ইভনিং মাস্টার্স বাদে বাকি ৩টি ডিগ্রি নেবার সুযোগ রয়েছে।

বিদেশের কোন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়ে দেশে কাজ করার আরো ভালো সুযোগ পেতে পারেন।

একজন শিক্ষাবিদের মাসিক আয় কেমন?

শিক্ষা ও গবেষণা এমন একটি খাত, যেখানে বাঁধাধরা কোন বেতন নেই। যোগ্যতা ও পদের ভিন্নতা অনুযায়ী মাসিক আয় বিভিন্ন রকম। সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তার স্কেল যেমন আছে, তেমনি এর নিচের সারিতেও বিভিন্ন স্কেলের বেতন রয়েছে। এক্ষেত্রে ৩০,০০০-৫্‌০,০০০ টাকা হতে পারে আপনার মাসিক বেতন।

বেসরকারি এনজিওসমূহে পদভেদে ১০,০০০ থেকে ৯০,০০০ টাকা হতে পারে।

একজন শিক্ষাবিদের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

শুরুতেই এ সেক্টরে খুব উঁচু পর্যায়ে কাজের সুযোগ খুব কম। বিভিন্ন প্রকল্পে খণ্ডকালীন কাজ থেকে শুরু হতে পারে আপনার ক্যারিয়ার। আবার সরাসরি সরকারি পদে নিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ধীরে ধীরে সরকারের শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র পদে যাওয়া সম্ভব। পরবর্তীতে দেশের শিক্ষানীতি প্রণয়নের সাথে সরাসরি যুক্ত হবার সুযোগ রয়েছে এখানে।

বেসরকারি ক্ষেত্রে ভাল কাজ পেতে হলে বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা দরকার হয়। আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করলে অভিজ্ঞতার জন্য অনেক সময় দেশের বাইরে কাজের সুযোগ হতে পারে।

Loading

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।