সহকারী জজ

সহকারী জজ হতে চাইলে - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

বিচার বিভাগ বাংলাদেশ সরকারের একটি স্বাধীন বিভাগ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার স্বচ্ছ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এ বিভাগ প্রতি বছর দক্ষ, যোগ্য ও আইন সম্পর্কে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরীক্ষার মাধ্যমে সহকারী জজ হিসাবে নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের অধীনে এ পরীক্ষা নেয়া হয়।

এক নজরে একজন সহকারী জজ

সাধারণ পদবী: সহকারী জজ
বিভাগ: আইন ও বিচার
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল-টাইম
লেভেল: এন্ট্রি
এন্ট্রি লেভেলে অভিজ্ঞতা সীমা: প্রযোজ্য নয়
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য গড় বেতন: ৳৩০৯৩৫ – ৳৬৮৪৩০
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স সীমা: অনধিক ৩২ বছর
মূল স্কিল: আইন সম্পর্কিত জ্ঞান, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা
বিশেষ স্কিল: যুক্তিসহ বক্তব্য উপস্থাপনে দক্ষতা, গবেষণা করার দক্ষতা

একজন সহকারী জজ কোথায় কাজ করেন?

সাধারণত জেলা পর্যায়ের দেওয়ানি আদালতে কাজ করে থাকেন।

একজন সহকারী জজ কী ধরনের কাজ করেন?

  • দেওয়ানি-ফৌজদারি মামলার বিচার করা;
  • সমস্ত বিবাহবিচ্ছেদ, বিভাজন, গার্হস্থ্য সহিংসতা ও সিভিল মামলার নিষ্পত্তি করা;
  • ফাইলিং ও অনুলিপি প্রস্তুত করা;
  • আদালতের কার্যক্রম সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, আদালতকে আদেশ প্রদান ও আদালতের চিঠিপত্রের প্রতিলিপি লিপিবদ্ধ করা;
  • শিডিউল ট্রায়াল ও আদালতের শুনানির ব্যবস্থাপনা।

একজন সহকারী জজের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

জাতীয়তাঃ প্রার্থীকে বাংলাদেশের নাগরিক অথবা বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ বাংলাদেশের যে কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ন্যূনতম ২য় শ্রেণির স্নাতক (এলএলবি) বা এল.এল.এম ডিগ্রি থাকতে হবে। যেমনঃ

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  • চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শারীরিক যোগ্যতাঃ পদের দায়িত্ব পালনে বাধা তৈরি করি এমন কোন দৈহিক বৈকল্য থাকা যাবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড অথবা মনোনীত মেডিক্যাল অফিসার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

অভিজ্ঞতাঃ আইনজীবী হিসাবে কাজ করার অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। বিজেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে জুডিশিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ট্রেনিং ইন্সটিটিউটে বিভিন্ন মেয়াদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়া যোগদানের পরও দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

একজন সহকারী জজের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • আইন সম্পর্কে ভাল জ্ঞান
  • সঠিক ও যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেয়ার বিচক্ষণতা
  • সততা ও অন্যায়ের সাথে আপোষহীনতার মানসিকতা
  • ধৈর্য

সহকারী জজ হিসাবে নিয়োগ পাবার পদ্ধতি কী?

এ পদে নিযুক্ত হতে হলে আপনাকে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

  • প্রিলিমিনারি পরীক্ষাঃ ১০০ নম্বর (পাশ নম্বরঃ ৫০)
  • লিখিত পরীক্ষায়ঃ ১০০০ নম্বর (পাশ নম্বরঃ গড়ে ৫০%)
  • মৌখিক পরীক্ষাঃ ১০০ নম্বর (পাশ নম্বরঃ ৫০)

একজন সহকারী জজের মাসিক আয় কেমন?

২০১৬ সালের বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস বেতন স্কেলে মূল বেতন ৳৩০৯৩৫ – ৳৬৮৪৩০।

একজন সহকারী জজের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

জেলা পর্যায়ের আদালতে প্রাথমিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদক্রমানুসারে ধীরে ধীরে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি থেকে শুরু করে প্রধান বিচারপতি পর্যন্ত হতে পারেন।

Loading

2 thoughts on “সহকারী জজ

  1. আমি জজ হতে চাই. বর্তমান আমি LLB HONOURS 2ND YEAR এ পড়ি. Islamic University, Kushtia. আমি কি এখন থেকে preparation নিতে পারি. আমার পক্ষে কি appear certificate দিয়ে judge হতে পারবো? প্লিজ বলবেন এটা কীভাবে সম্ভব.

    1. আপনি জজ হতে চাইলে সবচেয়ে ভালো উপায় হবে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা দেয়া। আপনি এর জন্য এখন থেকে প্রস্তুতি নিতে পারেন।

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।