সাইকোলজিস্ট ও সাইকোথেরাপিস্টের পার্থক্য

সাইকোলজিস্ট ও সাইকোথেরাপিস্টের পার্থক্য - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

মনোবিজ্ঞান এক সুবিশাল জ্ঞানভান্ডার, এই বিষয়ে লেখাপড়া করে পেশাজীবী হবার সুযোগ অপরিসীম। অনেকগুলো দ্রষ্টব্য পেশা রয়েছে বিজ্ঞানের এই শাখায়, তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি পেশায় নিয়োজিত থাকেন ‘সাইকোলজিস্ট’ আর ‘সাইকোথেরাপিস্ট’। অনেকেই উক্ত পেশা দুটির কাজ সম্পর্কে দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। মনোবিজ্ঞানের এই দুটি পেশার বিচরণক্ষেত্রে অনেকটা সাদৃশ্য থাকলেও তাদের কাজের ধরন আলাদা। বিষয়বস্তুর মিল থাকলেও পেশা দুটির মধ্যে রয়েছে সূক্ষ্ম পার্থক্য। চলুন দেখে নেই সাইকোলজিস্ট এবং  সাইকোথেরাপিস্টের মধ্যে ৫ টি পার্থক্য।

১. পেশার সংজ্ঞায়ন

সাইকোলজিস্ট মূলত একজন মানুষ কীভাবে চিন্তা করে, তার আচরণের ধরন এবং অন্যের সাথে মিথস্ক্রিয়া বা যোগাযোগের প্রক্রিয়া কি- সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন।  বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের আচরণ সংক্রান্ত ঘটনা বিশ্লেষণ করেন একজন সাইকোলজিস্ট। মানুষ কি, কিভাবে কেন চিন্তা করে- সাইকোলজিস্ট সেটাই জানতে চান।

অপরদিকে, সাইকোথেরাপিস্টের কাজ হচ্ছে একজন রোগী বা ক্লায়েন্ট কে মানসিক তথা আবেগতাড়িত সমস্যা বা বৈকল্য থেকে উত্তরণের জন্য সাহায্য করা। ক্ষেত্রবিশেষে সাইকোথেরাপিস্টকে কাউন্সেলর বলা হয়ে থাকে। সাইকোথেরাপিস্ট তার ক্লায়েন্ট কে মানসিক দক্ষতা অর্জন কিংবা অতীত অভিজ্ঞতার  কষ্ট অতিক্রম করতে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা এবং নির্দেশ দেন।

২. কাজের ধরন

সাইকোলজিস্টদেরকে কাজের ধরণ অনুসারে দু ভাগে ভাগ করা যায়। যারা ব্যবহারিক (Practical) কাজ করেন, তারা তাদের পেশাগত জ্ঞান এবং দক্ষতা ব্যবহার করে রোগীদের সাথে কাজ করেন। যারা গবেষক (Researcher), তারা মানব মনের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে নতুন জ্ঞান বিযুক্ত করেন।

সাইকোথেরাপিস্টের কাজকে অতি সরলীকরণ করলে বলা যায় তারা মনের ডাক্তার। বিভিন্ন মানসিক রোগ যেমন বাইপোলার ডিজঅর্ডার, ডিপ্রেশন, দুশ্চিন্তায়  আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাইকোথেরাপিস্টের কাছে আসেন চিকিৎসার জন্য। সাইকোথেরাপিস্ট এক বা একাধিক সেশনের মাধ্যমে ব্যক্তির সমস্যার কথা দ্বিধাহীনভাবে শোনেন, পরিশেষে তাকে সুস্থ করার জন্য পথ বাতলে দেন।

৩. ঔষধ প্রদানের ক্ষমতা

সাইকোলজিস্ট মানসিক বিশ্লেষণ করে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন, কিন্তু কখনও ঔষধ দেয়ার এখতিয়ার রাখেন না। ঔষধ দেয়ার জন্য যে লাইসেন্স প্রয়োজন, তা সাইকোলজিস্টের নেই।

সাইকোথেরাপিস্ট রোগীর চিকিৎসায় কার্যকরী ঔষধ দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। মানসিকভাবে সহায়তার পাশাপাশি একজন ডাক্তারের ন্যায় ঔষধের প্রেসক্রিপশন প্রদান করেন সাইকোথেরাপিস্ট।

৪. রোগী-পেশাজীবীর সম্পর্ক

সাইকোলজিস্টের কাজ মানসিক বিশ্লেষণকেন্দ্রিক। তথাপি সাইকোলজিস্টকে রোগীর সাথে তুলনামূলক কম সময় থাকতে হয়। আচরণ সংক্রান্ত তথ্য আহরণ, নথিভুক্তকরণ, পর্যালোচনা প্রভৃতি কাজে সাইকোলজিস্ট ব্যস্ত থাকেন। গবেষণার স্বার্থে এক বা একাধিক রোগীর সংস্পর্শ প্রয়োজন হলেও এই পেশায় রোগীর উপর সরাসরি কোন প্রভাব থাকে না।

সাইকোথেরাপিস্টের মূল কাজ হচ্ছে রোগীর মুখোমুখি বসে যথাযম্ভব তার মানসিক স্বাস্থ্যের সার্বিক অবস্থা মূল্যায়ণ করা। যতক্ষণ না রোগী তার সমস্যা তুলে ধরতে পারছেন, ততক্ষণ সাইকোথেরাপিস্ট চেষ্টা করে যান মনের অন্দরমহল থেকে অজানা সমস্যার কারণটুকু খুঁজে বের করতে।

৫. শিক্ষাগত যোগ্যতা

সাইকোলজিস্ট হবার জন্য সাইকোলজি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি প্রয়োজন। যেসব সাইকোলজিস্ট গবেষণায় মনোনিবেশ করেন, তারা সচরাচর একাডেমিক ক্ষেত্রেই ক্যারিয়ার গড়েন। যারা ক্লিনিকাল কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, তারা সাইকোলজিতে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

সাইকোলজিস্ট, সাইকিয়াট্রিস্ট অথবা যে কোন মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী সাইকোথেরাপিস্টের পেশায় আসতে পারেন।  তবে এর জন্য সাইকোথেরাপিস্ট সংক্রান্ত বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ অত্যাবশ্যক। অনেক সাইকোথেরাপিস্ট আছেন, যাদের উপরিউক্ত কোন ক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতা নেই, কিন্তু তারা সাইকোথেরাপিস্ট বিষয়ে গভীর এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ নিয়ে সনদপ্রাপ্ত সাইকোথেরাপিস্ট হয়েছেন।

পরিশেষে বলা যায়, সাইকোলজিস্ট আর সাইকোথেরাপিস্ট আপাতদৃষ্টিতে সমার্থক  হলেও আদতে পেশা দুটি আসলে এক নয়।

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।