সিএ ও এসিসিএর মধ্যে ৫ টি পার্থক্য

সিএ ও এসিসিএর মধ্যে ৫ টি পার্থক্য - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

বর্তমান প্রেক্ষাপটে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি ( সিএ ) একটি জনপ্রিয় ও সম্মানজনক ক্যারিয়ার। উপযুক্ত বেতন এবং চাকরির নিশ্চয়তার কারণে অসংখ্য তরুণের কাছে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এ পেশাটি। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বিধায় অনেকেই চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হবার প্রস্তুতি নেবার কথা ভাবছেন।

হিসাববিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ‘সিএ’ এবং ‘এসিসিএ’- এই দুটি প্রফেশনাল ডিগ্রি বাংলাদেশে জনপ্রিয়। কিন্তু সিএ আর এসিসিএ’র মধ্যকার মূল পার্থক্যগুলো কী কী? নিচের ৫টি পার্থক্যের মাধ্যমে ডিগ্রি দুটি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ফলে ব্যক্তিভেদে কার জন্য কোন ডিগ্রি যুতসই-  সেটা সহজেই অনুধাবন করা যাবে।

১।পূর্ণরূপ

সিএ এর পূর্ণরূপ ‘চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি’ (Chartered Accountancy).

বাংলাদেশে হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে এই ডিগ্রি দিয়ে থাকে আইসিএবি। দ্য ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস বাংলাদেশ এর সংক্ষিপ্ত রূপ আইসিএবি (ICAB)। এটি একটি স্থানীয় ডিগ্রি।

অপরদিকে, অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্টেন্টস এর সংক্ষিপ্ত রুপ এসিসিএ (ACCA)। যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই বৈশ্বিক ডিগ্রি বাংলাদেশের কান্ট্রি অফিসের মাধ্যমে দেশে বসে অর্জনের সুযোগ রয়েছে।  এটি একটি আন্তর্জাতিক ডিগ্রি।

২। লেখাপড়ার খরচ

আইসিএবিতে নিবন্ধন করার ব্যয় ৩০ হাজার টাকা। এই খরচে মাধ্যমে পাঠ্যবই, কোচিং ফি ও গ্রন্থাগার ব্যবহার করা যাবে। সিএ কোর্সের মোট ৩ টি লেভেল। এগুলো হচ্ছে নলেজ লেভেল, অ্যাপ্লিকেশন লেভেল ও অ্যাডভান্স লেভেল। নলেজ লেভেলে পড়তে হবে ৭ টি বিষয়। এই লেভেলে পরীক্ষার জন্য বিষয় প্রতি ফি দিতে হবে ১ হাজার ৩০০ টাকা করে। অ্যাপ্লিকেশন লেভেলেও থাকছে সাতটি বিষয়। অ্যাপ্লিকেশন লেভেলে বিষয় প্রতি ফি ৩ হাজার টাকা। সর্বশেষ অ্যাডভান্স লেভেলে তিনটি পাঠ্য বিষয় ও কেস স্টাডিসহ খরচ হবে ৪৩ হাজার টাকা।

এসিসিএ কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমাইয়া’র বরাতে জানা যায়, এসিসিএ ডিগ্রি শেষ করতে সর্বসাকুল্যে ৪ লক্ষ টাকা খরচ হবে।

৩। ভর্তি পদ্ধতি

সিএ পড়ার জন্য আইসিএবি নিবন্ধিত ফার্মের সাথে যুক্ত হয়ে হাতে কলমে কাজ শুরু করতে হবে। পরবর্তীতে ফার্মের মাধ্যমে আইসিএবিতে শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়া যাবে। দেশে মোট ১৭০টি নিবন্ধিত সিএ ফার্ম আছে।

এসিসিএ ডিগ্রিতে ভর্তি হবার জন্য খাতা কলমে বা অনলাইনে, দুভাবেই পরীক্ষা দেবার সুযোগ আছে। খাতায় পরীক্ষা নেয় ব্রিটিশ কাউন্সিল। অনলাইনে পরীক্ষা দিতে হয় ব্রিটিশ কাউন্সিল, এলসিবিএস ঢাকা ও চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজে।

৪। যোগ্যতা

আইসিএবি এর নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী এসএসসি এবং এইচএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় কমপক্ষে ৯ পয়েন্ট থাকলে এবং একটিতে এ প্লাস থাকলে সে ব্যক্তি সিএ পড়ার যোগ্যতা রাখে। স্নাতক শেষ করার পরেও সিএ পড়া যাবে, সেক্ষেত্রে স্নাতক সহ কমপক্ষে ৭ পয়েন্ট থাকতে হবে।

এসিসিএ এর ডিপ্লোমা কোর্স পর্বটি শুরু করা যাবে এসএসসি পাশ করেই, তবে এইচএসসি পাশ করে আবেদন করাই সমীচীন।  স্নাতক পাশ করে এসিসিএ পড়া যাবে। এ লেভেল এবং ও লেভেল পাশ করা শিক্ষার্থীদের ইংরেজি এবং গণিত থাকাটা জরুরি। বিবিএ/এমবিএ করে আসলে তাকে এসিসিএ এর প্রথম চারটি পর্ব পড়তে হয় না।

৫। দুটি ডিগ্রির তুলনামূলক মূল্যায়ন

সিএ পরীক্ষায় পাশের জন্য পঞ্চাশ শতাংশ নম্বর পাওয়া অপরিহার্য। অপরদিকে এসিসিএ পাশ করার জন্য নির্দিষ্ট নম্বর পেতে হয়। সিএ তে আর্টিকেলশিপ এবং থিউরিটিকাল, দুটো দিকই রয়েছে। এসিসিএ শুধুই থিউরিটিকাল। অতীত প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশে সিএ তুলনামূলক বেশি সমাদৃত। অথচ বৈশ্বিক বাজারের কথা চিন্তা করলে এসিসিএ অধিক গ্রহনযোগ্য ডিগ্রি। তবে সময়ের সাথে সাথে আমাদের দেশেও এসিসিএ এর চাহিদা বাড়ছে।

দেশি ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি, কর্পোরেট হাউজ, প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক প্রতিবেদন এবং আয় ব্যয় বিবরণী তৈরী করার জন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টদের প্রয়োজন। সিএ কিংবা এসিসিএ, উভয় ডিগ্রিধারীরা এই পেশার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন। ডিগ্রিদুটো পড়তে প্রয়োজন কঠোর অধ্যবসায়। চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হতে পারলে রয়েছে সম্মানজনক বেতনে চাকরির সুযোগ।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি ( সিএ ) একটি জনপ্রিয় ও সম্মানজনক ক্যারিয়ার। উপযুক্ত বেতন এবং চাকরির নিশ্চয়তার কারণে অসংখ্য তরুণের কাছে দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এ পেশাটি। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে বিধায় অনেকেই চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হবার প্রস্তুতি নেবার কথা ভাবছেন।

হিসাববিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট ক্যারিয়ার গড়ার জন্য ‘সিএ’ এবং ‘এসিসিএ’- এই দুটি প্রফেশনাল ডিগ্রি বাংলাদেশে জনপ্রিয়। কিন্তু সিএ আর এসিসিএ’র মধ্যকার মূল পার্থক্যগুলো কী কী? নিচের ৫টি পার্থক্যের মাধ্যমে ডিগ্রি দুটি সম্পর্কে একটি সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। ফলে ব্যক্তিভেদে কার জন্য কোন ডিগ্রি যুতসই-  সেটা সহজেই অনুধাবন করা যাবে।

পূর্ণরূপ

সিএ এর পূর্ণরূপ ‘চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি’ (Chartered Accountancy).

বাংলাদেশে হিসাবরক্ষণের ক্ষেত্রে এই ডিগ্রি দিয়ে থাকে আইসিএবি। দ্য ইন্সটিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টস বাংলাদেশ এর সংক্ষিপ্ত রূপ আইসিএবি (ICAB)। এটি একটি স্থানীয় ডিগ্রি।

অপরদিকে, অ্যাসোসিয়েশন অব চার্টার্ড সার্টিফায়েড অ্যাকাউন্টেন্টস এর সংক্ষিপ্ত রুপ এসিসিএ (ACCA)। যুক্তরাজ্যভিত্তিক এই বৈশ্বিক ডিগ্রি বাংলাদেশের কান্ট্রি অফিসের মাধ্যমে দেশে বসে অর্জনের সুযোগ রয়েছে।  এটি একটি আন্তর্জাতিক ডিগ্রি।

লেখাপড়ার খরচ

আইসিএবিতে নিবন্ধন করার ব্যয় ৩০ হাজার টাকা। এই খরচে মাধ্যমে পাঠ্যবই, কোচিং ফি ও গ্রন্থাগার ব্যবহার করা যাবে। সিএ কোর্সের মোট ৩ টি লেভেল। এগুলো হচ্ছে নলেজ লেভেল, অ্যাপ্লিকেশন লেভেল ও অ্যাডভান্স লেভেল। নলেজ লেভেলে পড়তে হবে ৭ টি বিষয়। এই লেভেলে পরীক্ষার জন্য বিষয় প্রতি ফি দিতে হবে ১ হাজার ৩০০ টাকা করে। অ্যাপ্লিকেশন লেভেলেও থাকছে সাতটি বিষয়। অ্যাপ্লিকেশন লেভেলে বিষয় প্রতি ফি ৩ হাজার টাকা। সর্বশেষ অ্যাডভান্স লেভেলে তিনটি পাঠ্য বিষয় ও কেস স্টাডিসহ খরচ হবে ৪৩ হাজার টাকা।

এসিসিএ কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমাইয়া’র বরাতে জানা যায়, এসিসিএ ডিগ্রি শেষ করতে সর্বসাকুল্যে ৪ লক্ষ টাকা খরচ হবে।

ভর্তি পদ্ধতি

সিএ পড়ার জন্য আইসিএবি নিবন্ধিত ফার্মের সাথে যুক্ত হয়ে হাতে কলমে কাজ শুরু করতে হবে। পরবর্তীতে ফার্মের মাধ্যমে আইসিএবিতে শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হওয়া যাবে। দেশে মোট ১৭০টি নিবন্ধিত সিএ ফার্ম আছে।

এসিসিএ ডিগ্রিতে ভর্তি হবার জন্য খাতা কলমে বা অনলাইনে, দুভাবেই পরীক্ষা দেবার সুযোগ আছে। খাতায় পরীক্ষা নেয় ব্রিটিশ কাউন্সিল। অনলাইনে পরীক্ষা দিতে হয় ব্রিটিশ কাউন্সিল, এলসিবিএস ঢাকা ও চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজে।

যোগ্যতা

আইসিএবি এর নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী এসএসসি এবং এইচএসসি অথবা সমমানের পরীক্ষায় কমপক্ষে ৯ পয়েন্ট থাকলে এবং একটিতে এ প্লাস থাকলে সে ব্যক্তি সিএ পড়ার যোগ্যতা রাখে। স্নাতক শেষ করার পরেও সিএ পড়া যাবে, সেক্ষেত্রে স্নাতক সহ কমপক্ষে ৭ পয়েন্ট থাকতে হবে।

এসিসিএ এর ডিপ্লোমা কোর্স পর্বটি শুরু করা যাবে এসএসসি পাশ করেই, তবে এইচএসসি পাশ করে আবেদন করাই সমীচীন।  স্নাতক পাশ করে এসিসিএ পড়া যাবে। এ লেভেল এবং ও লেভেল পাশ করা শিক্ষার্থীদের ইংরেজি এবং গণিত থাকাটা জরুরি। বিবিএ/এমবিএ করে আসলে তাকে এসিসিএ এর প্রথম চারটি পর্ব পড়তে হয় না।

দুটি ডিগ্রির তুলনামূলক মূল্যায়ন

সিএ পরীক্ষায় পাশের জন্য পঞ্চাশ শতাংশ নম্বর পাওয়া অপরিহার্য। অপরদিকে এসিসিএ পাশ করার জন্য নির্দিষ্ট নম্বর পেতে হয়। সিএ তে আর্টিকেলশিপ এবং থিউরিটিকাল, দুটো দিকই রয়েছে। এসিসিএ শুধুই থিউরিটিকাল। অতীত প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশে সিএ তুলনামূলক বেশি সমাদৃত। অথচ বৈশ্বিক বাজারের কথা চিন্তা করলে এসিসিএ অধিক গ্রহনযোগ্য ডিগ্রি। তবে সময়ের সাথে সাথে আমাদের দেশেও এসিসিএ এর চাহিদা বাড়ছে।

দেশি ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি, কর্পোরেট হাউজ, প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক প্রতিবেদন এবং আয় ব্যয় বিবরণী তৈরী করার জন্য চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্টদের প্রয়োজন। সিএ কিংবা এসিসিএ, উভয় ডিগ্রিধারীরা এই পেশার জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত হন। ডিগ্রিদুটো পড়তে প্রয়োজন কঠোর অধ্যবসায়। চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হতে পারলে রয়েছে সম্মানজনক বেতনে চাকরির সুযোগ।

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।