সেলসের দক্ষতা বাড়াবেন যেভাবে

সেলসের দক্ষতা বাড়াবেন যেভাবে - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে প্রতিযোগিতাপূর্ণ চাকরিগুলোর একটি হলো সেলসের কাজ। প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রির দায়িত্বে থাকলে আপনি প্রতিনিয়ত নতুন চ্যালেঞ্জ পাবেন। তাই আপনার সেলসের দক্ষতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এর জন্য দরকার নিয়মিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

সেলসে নতুন বা পুরানো হোন, কয়েকটি উপায় অবলম্বন করে নিজেকে দক্ষ করতে পারবেন এ কাজে।

১. প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে ভালোমতো জানুন।

আপনি যে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি করছেন, তার খুঁটিনাটি জেনে নিন। এর মাধ্যমে আপনি কাস্টমারের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস সংক্রান্ত যেকোন প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হবেন।

অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের একই প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে খোঁজ রাখুন। সেগুলোর ভালো-মন্দ জানা থাকলে কাস্টমারের সাথে কথা বলতে সুবিধা হবে।

২. কাস্টমারের প্রয়োজন ঠিকভাবে বুঝুন।

একজন কাস্টমার যখন কোন প্রোডাক্ট বা সার্ভিস কিনতে চান, তার উদ্দেশ্য হলো কোন একটি সমস্যার সমাধান পাওয়া। তাই আপনার কাস্টমারের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিন। তার প্রয়োজন ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারলে নিজের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের উপকারিতা তুলে ধরা সহজ হবে।

কোন কিছু কেনার ক্ষেত্রে কাস্টমারের বিবেচনায় কিছু ব্যাপার থাকে। যেমন:

  • সমস্যা (উদাহরণ: “ইদানিং অসহ্য গরম পড়েছে।”)
  • সম্ভাব্য সমাধান (উদাহরণ: “একটা ফ্যান/এসি কেনা দরকার।”)
  • সমাধানের মূল্য (উদাহরণ: “কত টাকায় একটা ভালো ফ্যান/এসি কেনা যাবে?”)
  • সমাধানের জায়গা (উদাহরণ: “কোন জায়গা থেকে ফ্যান/এসি কিনলে ভালো হয়?”)
  • শর্ত (উদাহরণ: “ফ্যান/এসিটাকে কমপক্ষে ১ – ২ বছর টিকতে হবে।”)

এসব প্রশ্নের মাধ্যমে আপনি একজন কাস্টমারের প্রয়োজনকে বিশ্লেষণ করতে পারেন।

৩. যোগাযোগের দক্ষতা বাড়ান।

যোগাযোগের মাধ্যমেই আপনাকে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস বিক্রি করতে হবে। সেটা সরাসরি কথাবার্তা দিয়ে হতে পারে। ফোন কলের মাধ্যমে হতে পারে। হতে পারে ইমেইল দিয়েও। যেভাবেই কাস্টমারের সাথে যোগাযোগ হোক না কেন, আকর্ষণীয়ভাবে আপনার বক্তব্য উপস্থাপন করা জরুরি। তাই যোগাযোগের দক্ষতা অর্জন করুন।

৪. কাস্টমারের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তুলুন।

একজন কাস্টমার যদি আপনাকে বিশ্বাসযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য মনে করেন, তাহলে আপনার জন্য সেলস অনেকাংশে সহজ হয়ে আসবে। তাই –

  • কাস্টমারের সাথে ভালো ব্যবহার করুন।
  • কাস্টমারের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
  • কোন ধরনের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস পেলে কাস্টমার সবচেয়ে খুশি হবেন, সে সম্পর্কে প্রশ্ন করুন।
  • ধৈর্য সহকারে কাস্টমারের প্রশ্নের উত্তর দিন।
  • পুরানো কাস্টমার হয়ে থাকলে আগের প্রোডাক্ট বা সার্ভিস নিয়ে তার মতামত জেনে নিন।
  • কোন ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করতে পারলে কাস্টমারকে জানান।

মনে রাখবেন, সেলসের কেন্দ্রবিন্দু হলেন আপনার কাস্টমার। তিনি যে আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তা মার্জিত আচরণ দিয়ে প্রকাশ করুন।

৫. নতুন পদ্ধতি চেষ্টা করুন।

একেক কাস্টমারের সমস্যা একেক রকম। এর সাথে প্রোডাক্ট বা সার্ভিসেও প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসে। তাই বিক্রির ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি সবসময় কাজ করে না। চ্যালেঞ্জিং এ পেশায় সাফল্য পেতে মাথা খাটিয়ে নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করুন। এগুলো কতটুকু কাজ করছে, সে ব্যাপারে নজর দিন। তাহলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবেন।

সেলসের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ – আত্মবিশ্বাস। হুট করে এটি অর্জন করা যায় না। বরং নিয়মিত নিজের স্কিল বাড়ানোর মাধ্যমে আপনি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারবেন। তাই চেষ্টা চালিয়ে যান!

কেন নেবেন ক্যারিয়ার টেস্ট?

  • সরাসরি ইন্টারভিউর কল পেতে
  • সরাসরি চাকরির পরীক্ষা দিতে
  • চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে
  • চাকরির জন্য দরকারি স্কিল অর্জন করতে
ক্যারিয়ার টেস্টে যান

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।