নিওন্যাটোলজিস্ট

ক্যারিয়ার কন্টেন্ট - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

শিশুদের সকল সমস্যার সমাধান করে থাকেন একজন পেডেট্রিশিয়ান। তবে নবজাতক শিশুর চিকিৎসা করার জন্য আলাদা ধরনের বিশেষজ্ঞ নিয়োজিত থাকেন যাকে নিওন্যাটোলজিস্ট বলা হয় চিকিৎসাশাস্ত্রে।   

একজন নিওন্যাটোলজিস্ট কোথায় কাজ করেন?

সরকারি পর্যায়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স থেকে শুরু করে টারশিয়ারি পর্যায়ের হাসপাতাল পর্যন্ত সব ধরনের হাসপাতালেই একজন নিওন্যাটোলজিস্ট কাজ করতে পারেন। সরকারি এবং বেসরকারি – দুই ধরনের হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠানেই নিওন্যাটোলজিস্ট নিযুক্ত থাকেন। এটি চিকিৎসাশাস্ত্রের বিশেষায়িত একটি অংশ হওয়ায় বেশ অভিজ্ঞতা ও চিকিৎসাশাস্ত্রের বিশেষায়িত ডিগ্রি প্রয়োজন হয়। এক্ষেত্রে একজন নিওন্যাটোলজিস্টের কর্মক্ষেত্র হতে পারে নিম্নলিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে –

১। যে কোন সরকারি ও জাতীয় হাসপাতাল।

২। শিশুদের সমস্যার জন্য বিশেষায়িত বেসরকারি অথবা স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতাল বা ইন্সটিটিউট ও প্রতিষ্ঠান। যেমন – পেডিহোপ হসপিটাল ফর সিক চিলড্রেন, ইন্সটিটিউট অব চাইল্ড হেলথ অ্যান্ড ড. এম আর খান শিশু হসপিটাল প্রভৃতি।

৩। যে কোন মেডিকেল কলেজ (সরকারি ও বেসরকারি উভয়)।

৪। বাংলাদেশ শিশুস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট।

৫। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

৬। শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট।

৭। ঢাকা শিশু হাসপাতাল।

একজন নিওন্যাটোলজিস্ট কী ধরনের কাজ করেন?

নিওন্যাটোলজিস্ট হিসেবে আপনাকে সাধারণত নিম্নলিখিত কাজগুলো করতে হবে –

১। নবজাতক অর্থাৎ সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুর সমস্যা নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পাদন করতে হয়।

২। নবজাতকের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা, কোন ধরনের ইনফেকশন কিংবা জন্মগত কোন সমস্যা আছে কিনা তা নির্ণয় করতে হয়।

৩। নবজাতক শিশুর বৃক্ক বা কিডনী, হৃদযন্ত্র, লিভার বা যকৃত, ফুসফুস, গলা, পাকস্থলি, বৃহদান্ত্র প্রভৃতি অঙ্গে কোন সমস্যা থাকলে তা নির্ণয় করতে হয় একজন নিওন্যাটোলজিস্টকে।

৪। জটিল সমস্যায় আক্রান্ত নবজাতকের চিকিৎসা করতে হয় এবং সমস্যা সমাধান করতে হয়।

৫। পেডেট্রিশিয়ান বা শিশু বিশেষজ্ঞ এবং ডায়েটিশিয়ান বা নিউট্রিশনিস্টের সাথে সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা আক্রান্ত নবজাতকের পুষ্টির ঘাটতি দূর করেন এবং সমস্যা সমাধানে নিয়োজিত থাকেন একজন নিওন্যাটোলজিস্ট।

৬। কিছু ক্ষেত্রে শিশুর জন্মের আগে কোন সমস্যা দেখা দিলে তা সমাধান করেন একজন নিওন্যাটোলজিস্ট।

৭। শিশুর জন্মের আগে মায়ের দেহে কোন সমস্যা দেখা দিলে তা নির্ণয় করেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

৮। জন্মের পূর্বে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ও সমস্যা দেখভাল করেন একজন নিওন্যাটোলজিস্ট।

৯। প্রদত্ত ডেলিভারি সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুর কোন সমস্যা থাকলে সে সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করেন একজন নিওন্যাটোলজিস্ট। যেমন – এনআইসিইউ (NICU – Neonatal Intensive Care Unit)-এ এ ধরনের সংকটাপন্ন শিশুদের ভর্তি করা হয়ে থাকে এবং সেখানে ফুসফুস, শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্র প্রভৃতি অঙ্গ কৃত্রিম সহায়তার মাধ্যমে সচল রাখেন নিওন্যাটোলজিস্ট।

১০। এছাড়াও নবজাতক শিশুর বাবা-মাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন নিওন্যাটোলজিস্ট এবং মায়ের কোন সমস্যা হলে শিশুর জন্মের পরে তার দেখভাল করেন তিনি।

একজন নিওন্যাটোলজিস্টের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

শুধুমাত্র এমবিবিএস ডিগ্রিপ্রাপ্ত হলেই নিওন্যাটোলজিস্ট হওয়া যায় না। বরং নিওন্যাটোলজি বিষয়ের উপর বিশেষায়িত ডিগ্রি থাকলেই কেবলমাত্র আপনি নিওন্যাটোলজিস্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে নিওন্যাটোলজি বিষয়ে এমডি, এফসিপিএস, এমসিপিএস অথবা ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকলে আপনি নিওন্যাটোলজিস্ট হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন। এ ধরনের এমবিবিএস পরবর্তী কোন ডিগ্রি ছাড়া নিওন্যাটোলজি বিষয়ে বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জন করা যায় না বিধায় এরকম কোন ডিগ্রি ছাড়া নিওন্যাটোলজিস্ট হিসেবে কোথাও নিয়োগ পাওয়া যায় না। নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত পূর্ব অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়অন্যান্য কর্মক্ষেত্রের মত এখানেও অভিজ্ঞতা থাকলে প্রার্থীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

একজন নিওন্যাটোলজিস্টের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

১। নবজাতক শিশুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

২। শিশুর অভিভাবকেরা যাতে কোনভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে না পড়েন কিংবা অযথা চিন্তায় না ভুগেন সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হয়। মায়ের উদ্বিগ্নতা ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

৩। নবজাতক শিশুর শ্বাসকষ্টের সমস্যার যথাযথ চিকিৎসা ও সহায়তা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা থাকতে হবে কারণ সাধারণত শিশুদের শ্বাসকষ্টের সমস্যায়ই আক্রান্ত হতে দেখা যায় বেশি।

৪। নবজাতক শিশুর সব ধরনের সমস্যা নিয়ে সম্যক ধারণা থাকতে হবে।

৫। পেডেট্রিশিয়ান ও নিউট্রিশিয়ানের সাথে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে এবং এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত দক্ষতা থাকতে হবে।

৬। নবজাতকের বাবা এবং মা যাতে শিশুর জন্মগত সমস্যার জন্য নিজেকে দোষারোপ না করেন সে ব্যাপারে তাদের সাথে যোগাযোগ ও সংযোগের ভালো দক্ষতা থাকতে হবে যেন তাদেরকে অবগত করতে পারেন যে সমস্যার উপরে আসলে তাদের হাত নেই কোন।

একজন নিওন্যাটোলজিস্টের মাসিক আয় কেমন?

আপনি যদি একজন নিওন্যাটোলজিস্ট হন সেক্ষেত্রে বেসরকারি খাতে মাসিক সম্মানীর পরিমাণ বাংলাদেশে বেশ ভালো। বেসরকারি ক্ষেত্রে শুরুর দিকে আপনার মাসিক সম্মানী শুরু হতে পারে ৫০০০০ টাকা থেকেসময় ও অভিজ্ঞতার সাথে আপনার মাসিক আয় বেড়ে দুই লাখ টাকা কিংবা তার অধিকও হতে পারে। তবে মাসিক সম্মানীর বিষয়টি কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ।

সরকারি কর্মক্ষেত্রে আপনার মাসিক সম্মানী নির্দিষ্ট করা থাকবে জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ীএক্ষেত্রে আপনার মাসিক সম্মানী শুরু হবে ৬ষ্ঠ স্কেল বা ৪৩০০০ টাকা থেকে।

একজন নিওন্যাটোলজিস্টের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

যে কোন হাসপাতালের ক্ষেত্রে একজন নিওন্যাটোলজিস্টের ক্যারিয়ারের পদবিন্যাস সাধারণত নিম্নলিখিত পদগুলো অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে এগোয় –

১। জুনিয়র কনসালট্যান্ট

সিনিয়র কনসালট্যান্ট

এক্ষেত্রে নিয়োগের পরে আপনার প্রথম পদ হবে জুনিয়র কনসালট্যান্টসাধারণত অল্প অভিজ্ঞতা আছে এবং অন্তত একটি ব্যাচেলর পরবর্তী ডিগ্রি আছে এমন ব্যক্তিদেরকে জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করতে হলে অবশ্যই আপনাকে বিশেষজ্ঞ হতে হবে। কিছু সময় অভিজ্ঞতা লাভের পরে এবং নতুন কোন উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রি লাভের মাধ্যমে আপনি সিনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে পদোন্নতি পাবেন। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের হাসপাতালের জন্যই তা প্রযোজ্য।

মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ শিশুস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কিংবা যে কোন জায়গায় শিক্ষকতার ক্ষেত্রে আপনার পদবিন্যাস সহকারী অধ্যাপক থেকে শুরু হয়ে সহযোগী অধ্যাপক পদে উন্নীত হওয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ অধ্যাপক পর্যন্ত যেতে পারে। নিয়মিত পড়াশোনা করা ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া একজন নিওন্যাটোলজিস্টের জন্য জরুরী।   

কোথায় পড়বেন নিওন্যাটোলজি?

এমবিবিএস ডিগ্রি লাভের পরে বাংলাদেশে বিসিপিএস (বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস) থেকে নিওন্যাটোলজি বিষয়ের উপর এফসিপিএস ডিগ্রি লাভ করা সম্ভব। এছাড়া কয়েকটি সরকারি মেডিকেল কলেজে ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নিওন্যাটোলজি বিষয়ের উপর এই গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী ডিগ্রিগুলো, যেমন – ডিপ্লোমা, এমডি প্রভৃতি দেওয়া হয়ে থাকে। বাংলাদেশ শিশুস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট কিংবা শিশু স্বাস্থ্যের উপর বিশেষায়িত যে কোন ইন্সটিটিউট থেকেও আপনি নিওন্যাটোলজি বিষয়ে ডিগ্রি নিতে পারেন।

 

কেন নেবেন ক্যারিয়ার টেস্ট?

  • সরাসরি ইন্টারভিউর কল পেতে
  • সরাসরি চাকরির পরীক্ষা দিতে
  • চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে
  • চাকরির জন্য দরকারি স্কিল অর্জন করতে
ক্যারিয়ার টেস্টে যান

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।