ফটোগ্রাফার

ফটোগ্রাফার: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

গতানুগতিক চাকরির পরিবর্তে কোন সৃজনশীল পেশায় নিযুক্ত হতে চাইলে, ফটোগ্রাফি অন্যতম একটি মাধ্যম। এই পেশায় যেমন রয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ, তেমনি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের ফটোগ্রাফি ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ।

এক নজরে একজন ফটোগ্রাফার

সাধারণ পদবী:অ্যাসিস্টেন্ট ফটোগ্রাফার/সিনিয়র ফটোগ্রাফার।
বিভাগ:ফাইন আর্টস
প্রতিষ্ঠানের ধরন:সরকারি/বেসরকারি/ফ্রিল্যান্স
ক্যারিয়ারের ধরন:ফুল টাইম/ পার্ট টাইম
লেভেল:এন্ট্রি/মিড
অভিজ্ঞতা সীমা:২ থেকে ৫ বছর
সম্ভাব্য বেতনসীমা:১০০০০-৩০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, চাকরির ক্ষেত্রে
সম্ভাব্য বয়সসীমা:২০ থেকে ৩৫ বছর
মূল স্কিল:আর্টিস্টিক এবং ক্রিয়েটিভ অ্যাবিলিটি, ক্যামেরা অপারেট, লেন্স সিলেকশন, লোকেশন সিলেকশন, লাইটিং ও কম্পোজিশন এবং সাথে একটি ভালো পোর্টফোলিও থাকতে হবে
বিশেষ স্কিল:Adobe Photoshop, Adobe Photoshop Lightroom এর মত এডিটিং সফটওয়্যার ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে। কোন ঘটনা সম্যকভাবে উপলব্ধি করে তা প্রকাশ করার যথাযথ উপায় জানতে হবে

কোন ধরণের প্রতিষ্ঠানে একজন ফটোগ্রাফার কাজ করেন?

ফটোগ্রাফার বিভিন্ন ধরনের হতে পারে, এর উপর নির্ভর করে একজন ফটোগ্রাফার কোন শিল্প বা ইন্ডাস্ট্রি তে নিযুক্ত হতে চান। যেমনঃ পোট্রেট ফটোগ্রাফি, ফ্যাশন ফটোগ্রাফি, ফটো জার্নালিজম, ডকুমেন্ট্রি ফটোগ্রাফি, ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফি, প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি, ওয়েডিং ফটোগ্রাফি, ইভেন্ট ফটোগ্রাফি ইত্যদি। আলাদা আলাদা বিভাগের জন্য বিশেষ স্কিল প্রয়োজন হয়

একজন ফটোগ্রাফার কী ধরনের কাজ করেন?

  • মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন প্রদানের মাধ্যমে ক্লায়েন্টকে আকৃষ্ট করা;
  • বিশ্লেষণ করা ও নির্ধারন করা কীভাবে একটি সাবজেক্ট কে কম্পোজ করা যায়;
  • বিভিন্ন ফটোগ্রাফিক টেকনিক ও ইকুইপমেন্ট এর ব্যবহার;
  • কমার্শিয়াল কোয়ালিটির ফটোগ্রাফ তৈরী করা;
  • ন্যাচারাল ও আর্টিফিশিয়াল লাইট এর ব্যবহার;
  • বিভিন্ন ফটোগ্রাফি সফটওয়্যার এর ব্যবহার করে ছবিকে আরো চমকপ্রদ করা। যেমনঃ Adobe Photoshop, Adobe Photoshop Lightroom;
  • ডিজিটাল ও হার্ড কপি পোর্টফোলিও প্রস্তুত করা, কাজ দেখানোর জন্য;
  • ছবি সংরক্ষণ করা;
  • ফটোসাংবাদিক হিসেবে কোন ঘটনা, ইভেন্ট কাভার করা;

একজন ফটোগ্রাফারের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে নিতে চাইলে অবশ্যই ফটোগ্রাফির উপর ডিপ্লোমা ডিগ্রী থাকতে হবে। যেমন প্রাণ-আরএফএল গ্রপে ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করতে হলে স্নাতক এর পাশাপাশি ফটোগ্রাফির উপর ডিপ্লোমা এবং সাথে ১ থেকে ২ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে

একজন ফটোগ্রাফারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • সৃজনশীল হতে হবে;
  • বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় দক্ষতা;
  • ক্লায়েন্ট বা সাব্জেক্ট এর সাথে কমিউনিকেশন;
  • টাইম ম্যানেজমেন্ট এবং প্রচুর পরিশ্রম করার মানসিকতা;
  • হাত ও চোখের কোঅর্ডিনেশন;
  • নেটওয়ার্কিং;
  • সেলফ মার্কেটিং স্কিল;
  • টেকনিক্যাল স্কিল, যেমনঃ সফটওয়্যার ও ক্যামেরা এবং লাইটিং এর ব্যবহার;
  • ফটোজার্নালিস্টদের অনেক সময় ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হবে।

যে জনরার ফটোগ্রাফি তে নিযুক্ত, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকতে হবে। যেমন প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফার হতে হলে সেই প্রোডাক্ট সম্পর্কে ভাল ধারণা, এবং যে দেশের জন্য প্রোডাক্টটির প্রোমোশন করা হচ্ছে তাদের কালচার ও সাইকোলজি সম্পর্কে জানতে হবে। অথবা ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার হতে চাইলে ভূগোল, প্রাণী ও বন্য পরিবেশ সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকতে হবে। প্রচুর বই পড়ার ও জানার অভ্যাস থাকতে হবে।

কোথায় পড়বেন/শিখবেন ফটোগ্রাফী?

ফটোগ্রাফিতে বিষয়ভিত্তিক বা ডিপ্লোমা কোর্স করিয়ে থাকে যেসব প্রতিষ্ঠান-

  • পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইন্সটিটিউট;
  • কাউন্টার ফটো;
  • বেগার্ট;
  • ঢাকা ইউনিভার্সিটি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি;
  • ওয়েডিং ডায়েরি (ডাব্লিউ ডি) স্কুল অফ ফটোগ্রাফি;
  • আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ।

এছাড়া ঢাকা ফটোগ্রাফি ইন্সটিটিউটে ভিডিওগ্রাফি প্রশিক্ষণ কোর্স ও ডিপ্লোমা কোর্স করানো হয়। আরো রয়েছে ফটোফি, ফ্রাস্টলাইট, চঞ্চল মাহমুদ স্কুল অব ফটোগ্রাফি, প্রিজম,ইন্সটিটিউট অফ ফটোগ্রাফি-চট্রগ্রাম ও জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট এ প্রশিক্ষণের সুযোগ ।

একজন ফটোগ্রাফারের কাজের ক্ষেত্র এবং সুযোগ কেমন?

বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য ফটোগ্রাফার নিয়োগ দিয়ে থাকেন, এসব প্রতিষ্ঠানে মূলত মার্কেটিং সম্পর্কিত কাজ করে থাকে একজন ফটোগ্রাফার। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ইন্সটিটিউট তাদের বিভিন্ন ইভেন্ট এর ছবি তোলার ও প্রচারের জন্য ফটোগ্রাফার নিয়োগ দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ম্যাগাজিনে প্রচুর ফটোসাংবাদিক প্রয়োজন। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের ফার্ম থেকে ছবি বিক্রি করা যায় অনলাইন বা বিভিন্ন ক্লায়েন্ট এর কাছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেক ওয়েডিং ফটোগ্রাফির প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডও গড়ে উঠছে এদেশে। Dream waver, Bibahagraphy, Wedding diary সহ আরও নানা প্রতিষ্ঠান এখন রয়েছে। এছাড়া মূলত ফ্রিল্যান্সার হিসেবে এ পেশায় স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে অনেক। তবে ফ্রিল্যান্সিং এর ক্ষেত্রে একটি ভালো ও বড়মাপের পোর্টফোলিও অনেক জরুরী। চমৎকার একটি পোর্টফোলিও না থাকলে কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে দাড়ায়। যোগ্য হলে ইউনিসেফ, ইউনেস্কো এর মত দাতা সংস্থার বিভিন্ন প্রোজেক্টের কাজও পাওয়া সম্ভব।

একজন ফটোগ্রাফারের মাসিক আয় কেমন?

বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে আয় ১০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। যেমন শাহ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(SUST) প্রশাসন ফটোগ্রাফার পদের জন্য যোগ্যতা অনুযায়ী মাসিক ১২-৩০ হাজার টাকা বেতন দেয় ।
ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফারদের তেমন কোনো ফিক্সড আয় নেই। ৩০/৩৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় হতে পারে।এছাড়া পত্রিকা গুলোতে রয়েছে পার্ট টাইম কাজের সুযোগ। এক্ষেত্রে প্রতিটি নিউজ কাভারেজের জন্য ৫০০-১০০০ পর্যন্ত পাওয়া যায় প্রতিষ্ঠান ও কাজের ধরন অনুযায়ী। ইভেন্ট ফটোগ্রাফারদের ক্ষেত্রে প্রতিটি ইভেন্টের জন্য ৪হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকাও পাওয়া যায়

ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে একজন ফটোগ্রাফারের?

এখন যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছবি। বর্তমান অনলাইন মার্কেটিং এর যুগে প্রোডাক্ট আকর্ষণীয় ভাবে উপস্থাপন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। এইসব কাজের চাহিদা ও পরিধির সাথে সাথে বাড়ছে ফটোগ্রাফারের কাজের সুযোগ। এছাড়াও ওয়েডিং ও সংবাদপত্রে কাজ এর পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণে। ক্যারিয়ার হিসেবে ফটোগ্রাফি এখন অনেক সুনিশ্চিত। একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে রয়েছে পত্রিকা, ম্যাগাজিনগুলোর উচ্চপদে কাজ করার সুযোগ। স্কিল থাকলে ফ্যাশন ফটোগ্রাফার কিংবা ডকুমেন্টারি ফটোগ্রাফার হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন সম্ভব।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা

সালিম সাদমান, ফটোগ্রাফার, ডেইলি স্টার ইয়ুথ

Loading

One thought on “ফটোগ্রাফার

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।