বিসিএস ফরেস্ট্রি: সহকারী বন সংরক্ষক

ক্যারিয়ার কন্টেন্ট - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

বনঅধিদপ্তর বাংলাদেশ সরকারের ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়’ এর অধীনে বাংলাদেশের বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়বদ্ধ একটি সরকারি সংস্থা।১৯৮০সাল নাগাদ মাত্র ১৬%শতাংশ ভূমি বনভূমির মধ্যে ছিল এবং বনগুলি সবগুলিই ঘনবসতিপূর্ণ এবং ঘনবসতিপূর্ণ বায়ুভূমির সমতল থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। বন ও বন্যপ্রাণীর সঠিক সুরক্ষার জন্যে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন দায়ীত্বশীল কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। বিজ্ঞানভিত্তিক এ পেশার বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় ক্যাডার হিসেবে উত্তীর্ণ ফরেস্ট্রি ক্যাডার দ্বারা বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন প্রজেক্ট পরিচালনা ও উন্নয়ন করে থাকে।

সাধারণ পদবী: বিসিএস ক্যাডার(ফরেস্ট্রি)

বিভাগ:বন অধিদপ্তর

প্রতিষ্ঠানের ধরনঃ ‘পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়’ এর আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও বনাঞ্চলের প্রজেক্টগুলোতে।

ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল টাইম

লেভেল: এন্ট্রি

অভিজ্ঞতা: পুর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। বিসিএস ফরেস্ট্রি ক্যাডার হিসেবে উত্তীর্ণ হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ উইং এর নিয়ন্ত্রণাধীন পাঁচটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট রয়েছে যেখানে বিভিন্ন মেয়াদী প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।এছাড়া সিভিল সার্ভিসে যোগদানের পরও দেশে-বিদেশে বিসিএস ক্যাডারদের অসংখ্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

বেতন সীমা: জাতীয় বেতন স্কেলের নবম গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন ৳১৮০০০-৳২২,৫০০। কর্মস্থল অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে শুরুতে মাসিক বেতন ৳৩২,০০০-৳৩৭,০০০।

বয়স সীমা: বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তারিখে বয়স ২১-৩২ বছরের মধ্যে থাকতে হবে

মূল স্কিল : বন ও পরিবেশ বিষয়ক দক্ষতা।

একজন ফরেস্ট্রি ক্যাডার  কী ধরনের সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন?

  •         বন অধিদপ্তর
  •         বাংলাদেশ বন গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএফআরআই)
  •         জেলা বন কর্মকর্তা, উপজেলা বন কর্মকর্তা
  •         বাংলাদেশ বন উন্নয়ন কর্পোরেশন।

একজন ফরেস্ট্রি ক্যাডার কী ধরনের কাজ করেন?

  •         বন অধিদপ্তর বনজসম্পদ উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার সাথে জীববৈচিত্র্য ও Watershed ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ কাজে নিয়োজিত।
  •         সরকারি বনাঞ্চলের তত্বাবধায়ক হিসাবে বনজসম্পদ ও বন্যপ্রাণী রক্ষা ও ব্যবস্থাপনার সাথে বিভিন্ন আইন ও বিধি বিধানের প্রয়োগ করা।
  •         বনের টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা প্রদান।
  •         বন ভিত্তিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন এবং গনমূখী বনায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের প্রতিবেশ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বনের ভূমিকা বৃদ্ধি করা।
  •         জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে অবশিষ্ট প্রাকৃতিক আবাসস্থল রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবক্ষয়িত বনাঞ্চলের পুনরুদ্ধার|
  •         অংশীদারিত্ব ভিত্তিক বন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করণ।সরকারী প্রান্তিক, নতুন জেগে উঠা ভূমি, খাস ভূমি এবং অশ্রেণীভূক্ত বনে দ্রুত বর্ধন ও উচ্চ ফলনশীল প্রজাতির গণমূখী বনায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে আনুভূমিক বৃক্ষাচ্ছাদন সম্প্রসারণ।
  •         সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বনায়নের প্রতি সহায়তা ও উৎসাহ প্রদান। বৃক্ষরোপণ এবং কৃষি বনায়নের বিষয়ে কারিগরি উপদেশ ও সহায়তা প্রদান।
  •         বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ, মরুকরণ রোধ, বন, বন্যপ্রাণী, জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার জন্য সরকার কর্তৃক অনুস্বাক্ষরিত কনভেনশন, চুক্তি এবং প্রটোকল সমূহের প্রতিশ্রুতি পালনে সহায়তা প্রদান।
  •         অবক্ষয়িত বন ও পরিত্যাক্ত ভূমি জনগণের অংশগ্রহণে পুনরুদ্ধার করা।

 

একজন ফরেস্ট্রি ক্যাডারের শিক্ষাগত যোগ্যতা কী?

বাংলাদেশ তিনটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফরেস্ট্রি বিভাগে স্নাতক ডিগ্রী দেয়া হয়ঃ

  •         চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
  •         শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
  •         খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

একজন ফরেস্ট্রি ক্যাডারের কী কী দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  •         গবেষণার মাধ্যমে উন্নত ও পরিবেশবান্ধব গাছ সম্পর্কে জানা।
  •         উন্নত ও গৃহস্থালীর জন্য প্রয়োজনীয় গাছ সপর্কে জানা।
  •         পরিবেশেরবান্ধব গাছ লাগানোয় বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
  •         প্রশিক্ষণ প্রদানের দক্ষতা।

বিসিএস পরীক্ষার ধাপ কী কী?

শুরুতে  প্রিলিমিনারি টেস্ট হয় যেখানে ২০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি প্রশ্নে পরীক্ষা হয়। এ ধাপে উত্তীর্ণ হলে ৯০০ নাম্বারের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৯০০ নাম্বাররে মধ্যে ২০০ নাম্বার ফিসারিজ বিভাগের উপর বরাদ্দ থাকে। লিখিত পরীক্ষায় ৫০ ভাগ নাম্বার পাওয়া পরীক্ষার্থীদের ভাইভার জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

একজন ফরেস্ট্রি ক্যাডারের কাজের ক্ষেত্র ও সুযোগ কেমন?

বাংলাদেশের উপজেলা,জেলা, বিভাগীয় পর্যায়ের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়িত প্রজেক্টগুলোতে প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে ফরেস্ট্রি ক্যাডার নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়াও সরকার নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেয়ার মাধ্যমে সুষম পরিবেশ রক্ষা ও দেশ ও মানুষের জন্য বন সম্পদ উন্নয়নে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং ফরেস্ট্রির কাজের ক্ষেত্র ও সুযোগ বৈশ্বিকভাবেও দিন দিন বেড়ে চলেছে।

একজন ফরেস্ট্রি ক্যাডারের মাসিক আয় কেমন?

জাতীয় বেতন স্কেলের নবম গ্রেড অনুযায়ী মূল বেতন ৳১৮০০০-৳২২,৫০০। কর্মস্থল অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে শুরুতে মাসিক বেতন ৳৩২,০০০-৳৩৭,০০০ । পদোন্নতি না হলে এ গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন ৳৫৩০৬০।

ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে একজন ফরেস্ট্রি ক্যাডারের?

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বর্তমানে ফরেস্ট্রি কর্মকর্তার চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলেছে এছাড়াও বেসরকারী সংস্থা যেমন বাংলাদেশ রুরাল এডভান্সমেন্ট কমিটি (ব্র্যাক), প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র প্রভৃতিতে বিভিন্ন প্রজেক্টে কাজের যেমন সুযোগ আছে তেমনি আন্তর্জাতিক সংস্থা এশিয়ান ফরেস্ট কো-অপারেশন অরগানাইজেশন, কমিউনিটি ফরেস্ট্রি অরগানাইজেশন, ওয়ার্ল্ড রেইনফরেস্ট মুভমেন্ট সম্মানের সাথে কাজ করছে।

 

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।