সফটওয়্যার ডেভেলপার

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার: ক্যারিয়ার প্রোফাইল - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

আপনি যদি কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা আইটি বিষয়ের স্নাতক হন, সেক্ষেত্রে সফটওয়্যার ডেভেলপার অথবা সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে আপনার কাজ করার সুযোগ মিলবে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডিপ্লোমা ডিগ্রী যাদের আছে তারাও নিয়োগ পেতে পারেন। সাধারণত আইটি থেকে যারা পাস করেন তাদেরকেই সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এবং সফটওয়্যার ডেভেলপার পদ দুটোকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক ধরা হয়।

এক নজরে একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার

সাধারণ পদবী: সফটওয়্যার ডেভেলপার, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার
বিভাগ: তথ্যপ্রযুক্তি
প্রতিষ্ঠানের ধরন: সরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট ফার্ম/কোম্পানি
ক্যারিয়ারের ধরন: ফুল টাইম, পার্ট টাইম, চুক্তিভিত্তিক
লেভেল: এন্ট্রি, মিড, টপ
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য অভিজ্ঞতা সীমা: ১ – ২ বছর
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বেতনসীমা: ১৫,০০০ – ২০,০০০ টাকা
এন্ট্রি লেভেলে সম্ভাব্য বয়স সীমা: প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ
মূল স্কিল: প্রোগ্রামিং
বিশেষ স্কিল: সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা

একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার কোথায় কাজ করেন?

সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাজের ক্ষেত্র বেশ বৈচিত্র্যময়। একটা সময় ছিল যখন ব্যাংক কিংবা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোয় নিরাপত্তা অথবা তথ্য একটা নির্দিষ্ট জায়গায় জমা রাখার কোন ব্যবস্থা ছিল না। এখন নিরাপত্তা কাঠামো ডিজাইন, তথ্য সংরক্ষণ, উপস্থিতির জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্টের ব্যবস্থা করা – এই জাতীয় বিবিধ কাজে বর্তমানে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এই কারণে একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার বিবিধ ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন। সেক্ষেত্রে একজন সফটওয়্যার ডেভেলপারের বৈচিত্রময় কর্মক্ষেত্রে হতে পারে নিম্নরূপ –

  • আইটি ফার্ম;
  • বিভিন্ন ব্যাংক;
  • বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান;
  • অ্যাপ ডেভেলপার কোম্পানী
  • নিরাপত্তা সহায়ক প্রতিষ্ঠান;
  • ওয়েবসাইট ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান

একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার কী ধরনের কাজ করেন?

সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাজের ধরনেও বেশ বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। এক্ষেত্রে কাজের ধরন প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ হলেও একজন সফটওয়্যার ডেভেলপারকে নিম্নে উল্লিখিত কাজগুলো করতে হতে পারে –

  • ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করা;
  • ই-কমার্সের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান বের করা;
  • প্রতিষ্ঠানের সিস্টেম ডেভেলপ করা;
  • উপস্থিতির জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট, সফটওয়্যার এবং অন্যান্য সিস্টেম ডেভেলপ করা ;
  • প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে তথ্য বিন্যাসের বিষয় মনিটর করা;
  • ফ্লো চার্ট, ডায়াগ্রাম, কোড কমেন্ট বানানো ও কোড ক্লিয়ার করা;
  • ওয়েবসাইটের কোডিং ও প্রোগ্রামিং এর সমস্যাগুলোর সমাধান করা;
  • অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপ করা। কাজটি অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠান যেগুলো বিভিন্ন ধরনের সেবাদানমূলক অ্যাপ বা নতুন কোন সমস্যার সমাধান হিসেবে অ্যাপ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে তাদের জন্য প্রযোজ্য;
  • প্রতিষ্ঠানের সিকিউরিটি সিস্টেম বা নিরাপত্তা কাঠামোর ডিজাইন করা;
  • প্রতিষ্ঠানের তথ্য রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা যাতে কোনভাবে সংরক্ষিত তথ্য প্রতিষ্ঠানের বাইরের কারো হাতে না যায়;
  • বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা এবং সমস্যা বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমাধানের পথ বাতলে দেওয়া;
  • যদি কোনক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বা তথ্যের কোন বিলম্ব বা জটিলতার সৃষ্টি হয় সেই সমস্যার দ্রুত সমাধান করা। এক্ষেত্রে একজন সফটওয়্যার ডেভেলপারের উপস্থিত বুদ্ধি ও সমস্যা সমাধানে পারদর্শিতার ব্যবহার জরুরী।

একজন সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাজ শুধুমাত্র এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সফটওয়্যার ও প্রতিষ্ঠানের ধরনের উপর নির্ভর করে একজন সফটওয়্যার ডেভেলপারের কাজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হতে পারে।

একজন সফটওয়্যার ডেভেলপারের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

আপনি যদি যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন টেকনোলজি অথবা সফটওয়্যার ডেভেলপারিং-এ স্নাতক হন, সেক্ষেত্রে আপনি সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারেন। তবে অন্যান্য কর্মক্ষেত্র থেকে এই ইন্ডাস্ট্রির নিয়োগের ব্যাপারটি একটু আলাদা কারণ এখানে আপনার ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং পূর্বের কাজের নমুনা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার ব্যক্তিগত দক্ষতা বেশ ভালো হয় সেক্ষেত্রে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ডিপ্লোমা ডিগ্রী থাকলেও আপনি নিয়োগ পেতে পারেন। তবে ব্যাপারটি বেশ দুরূহ এবং বিরল।

কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ডিগ্রী কোন প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখা হয় না। বরং নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো একটি নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করে যাতে আপনাকে আপনার প্রোগ্রামিং দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়। এক্ষেত্রে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা যা-ই হোক না কেন আপনি যদি পরীক্ষায় আপনার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে উত্তীর্ণ হতে পারেন সেক্ষেত্রে আপনি সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন প্রতিষ্ঠানগুলোতে। তবে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রী আছে এমন কাউকেই প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়োগ দিতে আগ্রহী থাকে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইনফরমেশন টেকনোলজি কিংবা সফটওয়্যার ডেভেলপারিং-এ স্নাতক ডিগ্রী সবক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নয়। প্রোগ্রামিং-এ দক্ষতাই নিয়োগের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয়। তবে প্রোগ্রামিং নিয়ে নিয়মিত পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান আহরণ ও ডিগ্রী পরীক্ষার প্রয়োজনে এর যথাযথ ব্যবহার জানার কারণে সাধারণত উপরে উল্লেখিত ডিগ্রীপ্রাপ্ত চাকরিপ্রার্থীরাই নিয়োগ পান এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে ভালো করেন।

একজন সফটওয়্যার ডেভেলপারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

  • প্রোগ্রামিং নিয়ে সম্যক ধারণা থাকতে হবে;
  • লজিক তৈরির পরিস্কার ধারণা থাকা আবশ্যক। প্রোগ্রামিং এবং লজিক তৈরি এই দুইটি দক্ষতা একজন ভালো সফটওয়্যার ডেভেলপারের জন্য প্রাথমিক একটি প্রয়োজনীয়তা;
  • আপনার প্রতিষ্ঠান যে ধরনের প্রোগ্রামিং ভাষা বা ল্যাঙ্গুয়েজে কাজ করে সেই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে আপনাকে পরিস্কারভাবে জানতে হবে এবং এই ল্যাঙ্গুয়েজে কাজ করতে পারদর্শী হতে হবে;
  • ডিজাইনের ক্ষেত্রে ডিজাইন প্রিন্সিপালস বা ডিজাইনের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাগুলো জানতে হবে;
  • অ্যালগোরিদম নিয়ে সম্যক ধারণা থাকা জরুরী;
  • একজন সফটওয়্যার ডেভেলপারের জন্য অ্যানালিটিকাল অ্যাবিলিটি বা ঘটনাপ্রবাহের বিশ্লেষণ ক্ষমতা বেশ ভালো হওয়া জরুরী;
  • ডাটা স্ট্রাকচার নিয়ে খুব ভালো ধারণা না থাকলে ডাটা সংরক্ষণের বিষয়টি সঠিকভাবে সম্পাদন করা যায় না। এইক্ষেত্রে ডাটা স্ট্রাকচার বিষয়ে ভালো ধারণা থাকা আবশ্যক।

একজন সফটওয়্যার ডেভেলপারের মাসিক আয় কেমন?

নিয়োগের প্রথম পর্যায়ে একজন সফটওয়্যার ডেভেলপারের মাসিক আয় সাধারণত ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে হয়। এক্ষেত্রে মাসিক আয় কাজসাপেক্ষ হওয়ার পাশাপাশি দক্ষতার উপরেও নির্ভর করে। এই ইন্ডাস্ট্রিতে একটি সুবিধার বিষয় হলো মাসিক আয়ের পরিমাণ বেশ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং যদি দক্ষতা ও কিছু সৃষ্টিশীল সমস্যার সমাধান দেওয়া যায় তাহলে মাসিক আয় ভালো পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। যদি কেউ অসাধারণ দক্ষতা ও সমস্যা সমাধানের পরিচয় দিতে পারে তাহলে দ্রুত পদোন্নতি ও মাসিক আয় বৃদ্ধি পেতে পারে। এক্ষেত্রে একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার মাসিক সর্বোচ্চ দেড় থেকে আড়াই লাখ টাকা সম্মানী পেতে পারেন।

একজন সফটওয়্যার ডেভেলপারের ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে?

এক্ষেত্রে ক্যারিয়ারের গ্রাফ প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। পদোন্নতি ও পদবিন্যাস প্রতিষ্ঠানের ধরন ও প্রতিষ্ঠানের আকারের উপর নির্ভর করে। তবে সাধারণত জুনিয়র সফটওয়্যার ডেভেলপার থেকে নিয়োগের মাধ্যমে এক্ষেত্রে চাকরির শুরু হয়। জুনিয়র সফটওয়্যার ডেভেলপার থেকে ধীরে ধীরে পদোন্নতির মাধ্যমে সর্বোচ্চ চিফ টেকনিক্যাল অফিসার(CTO) পদ পর্যন্ত একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার কাজ করতে পারেন। এক্ষেত্রে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের পদবিন্যাস যথাক্রমে নিম্নরূপ হয় – জুনিয়র সফটওয়্যার ডেভেলপার, সফটওয়্যার ডেভেলপার, সিনিয়র সফটওয়্যার ডেভেলপার, টিম লিড, প্রজেক্ট ম্যানেজার, লিড ইঞ্জিনিয়ার এবং চিফ টেকনিক্যাল অফিসার।

বিশেষ কৃতজ্ঞতা

১. অভিষেক খান, সফটওয়্যার ডেভেলপার, মন্সটার ল্যাব বাংলাদেশ লিমিটেড, জুন ২০১৭ থেকে বর্তমান
২. নূর আহমেদ বিশ্বাস, সফটওয়্যার ডেভেলপার, ওয়েলডেভ বাংলাদেশ লিমিটেড, জুলাই ২০১৭ থেকে বর্তমান

কেন নেবেন ক্যারিয়ার টেস্ট?

  • সরাসরি ইন্টারভিউর কল পেতে
  • সরাসরি চাকরির পরীক্ষা দিতে
  • চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে
  • চাকরির জন্য দরকারি স্কিল অর্জন করতে
ক্যারিয়ার টেস্টে যান

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।