ট্রেডার

ক্যারিয়ার কন্টেন্ট - ক্যারিয়ারকী (CareerKi)

একজন ট্রেডার স্টক মার্কেটে সময়মত অ্যাসেট বাই ও সেল করার মাধ্যমে লাভ করে থাকেন। একজন ট্রেডার বিভিন্ন ফিন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠানে বেতন, চুক্তিগত অনুমোদিত বোনাস বা স্বনির্ভর ব্যক্তি হিসেবে কাজ করে থাকেন। একজন ট্রেডারের কাজ হল স্টক মার্কেটে ট্রেড হওয়া ফিন্যান্সিয়াল ইন্সট্রুমেন্ট, ডেরিভেটিভ মার্কেট ও কমোডিটি এক্সচেঞ্জে শেয়ার বাই ও সেল করা।

সাধারণ পদবী: ট্রেডার

বিভাগ: স্টক মার্কেট/ শেয়ার বিজনেস

প্রতিষ্ঠানের ধরন: ব্রোকার হাউজ

ক্যারিয়ারের ধরন: ফু্ল-টাইম

লেভেল: এন্ট্রি/ মিড

অভিজ্ঞতা সীমা: কাজ ও প্রতিষ্ঠানসাপেক্ষ। অভিজ্ঞতার চেয়ে কাজের উপর দক্ষতা থাকা বেশি জরুরি।

সম্ভাব্য বেতন সীমা: ২৫,০০০ থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বিদেশে কাজের সুযোগ পেলে প্রতি মাসে পাঁচ লক্ষ পর্যন্তও আয় করাও সম্ভব।  

সম্ভাব্য বয়স সীমা:  সাধারণত ৩৫ বছরের মধ্যে

মূল স্কিল:  মার্কেট অ্যানালাইসিস, ফিন্যান্সিয়াল ক্যালকুলেশন

বিশেষ স্কিল:  মার্কেট ইন্সট্রুমেন্ট বোঝা, ডেরিভেটিভ মার্কেট পলিসি সম্পর্কে জ্ঞান রাখা, নিজের ডিসিশনে পোক্ত থাকা

কোন ধরনের শিল্প বা ইন্ডাস্ট্রিতে একজন ট্রেডার কাজ করেন?

একজন ট্রেডার স্টক এক্সচেঞ্জে কাজ করে থাকেন। শেয়ার মার্কেট হলো এমন একটি বাজার যেখানে শেয়ার ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দামের ও মানের শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করে থাকে। শেয়ার ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন ব্রোকার হাউজের মাধ্যমে শেয়ার কেনাবেচা করে থাকেন। এসব শেয়ার কোনো একটি স্টক এক্সচেঞ্জে নিবন্ধিত থাকে।

একজন ট্রেডার কী ধরনের কাজ করেন?

একজন ট্রেডার স্টক এক্সচেঞ্জে বিভিন্ন ইনভেস্টরদের ইনভেস্টমেন্ট স্টক, কারেন্সি বা কমোডিটির মত সেলস ইন্সট্রুমেন্টের মাধ্যমে ক্রয় ও বিক্রয় করে থাকেন। সাধারণত একজন ট্রেডার মার্কেট ও ইনভেস্টারদের ভেতরে সম্পর্ক স্থাপন করে থাকেন। ট্রেডাররা ইনভেস্টরদের কাছে থেকে শেয়ার ক্রয় করে থাকেন। এবং শেয়ারের দাম পড়ে যাওয়ার আগেই তারা অন্য কোন ইনভেস্টরের কাছে শেয়ার বিক্রয় করে লাভ করে থাকেন।

একজন ট্রেডারের কী ধরনের যোগ্যতা থাকতে হয়?

ডেরিভেটিভ মার্কেট সিস্টেমে শেয়ারের দামের ওঠানামার ওপরে ভিত্তি করেই একজন ট্রেডার লাভ করে থাকেন। তাই একজন ট্রেডারের অ্যানালিটিকাল জ্ঞান ভালো থাকা আবশ্যক। মার্কেট স্ট্র্যাটেজি বুঝে ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইজেশন ও ক্যালকুলেশনের মাধ্যমে একজন ট্রেডার শেয়ার ক্রয় ও বিক্রয় করে থাকেন। তাই স্টক এক্সচেঞ্জ, শেয়ার বাজার ও মার্কেট অ্যানালাইসিসের ওপর একজন ট্রেডারের ভালো জ্ঞান থাকা লাগবে।

একজন ট্রেডারের কী ধরনের দক্ষতা ও জ্ঞান থাকতে হয়?

–   ধৈর্য্যশীল হতে হবে। রিস্ক নিতে শিখতে হবে।

–   সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণ, উন্নয়ন ও টার্গেট এস্টিমেশনের দক্ষতা থাকা লাগবে।

–   স্টক এক্সচেঞ্জ সম্পর্কে ভালো জানা লাগবে।

–   ফিন্যান্সিয়াল ক্যালকুলেশনে দক্ষ হতে হবে।

–   ভালো কমিউনিকেশন স্কিল থাকা প্রয়োজন।

–   ডেরিভেটিভ মার্কেট সম্পর্কে জ্ঞান থাকা লাগবে

–   বিভিন্ন মার্কেট ইন্সট্রুমেন্ট যেমন কারেন্সি, স্টক বা কমোডিটি সম্পর্কে ভালোভাবে জানা লাগবে।

কোথায় পড়শোনা করবেন ট্রেডার হতে চাইলে?

এই পেশায় আসতে হলে মার্কেটিং, ফিন্যান্স, বিজনেস, ইকোনমি, পরিসংখ্যান বা ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের মত বিষয়ের ওপর ব্যাচেলর্স ডিগ্রি থাকা আবশ্যক। বাংলাদেশের প্রায় সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েই এই বিষয়গুলোর ওপর পড়াশোনা করানো হয়। এছাড়া বর্তমানে বিদেশে এই বিষয়গুলোর ওপর পড়তে যাবার সুযোগও প্রচুর। একটু চেষ্টা করলে বিদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কলারশিপের আবেদন করা সম্ভব।

একজন ট্রেডারের কাজের ক্ষেত্র ও সুযোগ কেমন?

একজন ট্রেডার স্টক এক্সচেঞ্জের বিভিন্ন ব্রোকারেজ কোম্পানিতে চাকরি করে থাকেন। কিন্তু মূলত ট্রেডারদের কাজের ক্ষেত্র আরও বিস্তর। অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ফার্মগুলোতে একজন ট্রেডারদের চাহিদা বিস্তর। এছাড়াও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং সেক্টরগুলোতেও ট্রেডারদের চাহিদা রয়েছে। ট্রেডাররা অনেক সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি নির্বিশেষে ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজর হিসেবেও সেবা প্রদান করে থাকেন।

একজন ট্রেডারের মাসিক আয় কেমন?

এই পেশায় আয়ের নির্দিষ্ট কোন সীমা নেই। সবকিছুই নির্ভর করে আপনার কাজের দক্ষতার ওপর। তবে অভিজ্ঞ হয়ে উঠলে এই পেশায় মাসে পঁচিশ হাজার থেকে এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। যদিও বিদেশে একজন পুরোদস্তুর ট্রেডার আরও অনেক বেশি আয় করে থাকেন। আমেরিকায় একজন ট্রেডার গড়ে মাসে ৭,০০০ ডলার পর্যন্ত আয় করে থাকেন।

ক্যারিয়ার কেমন হতে পারে একজন ট্রেডারের?

একজন সফল ট্রেডার একদিকে মোটা অঙ্কের টাকা তো উপার্জন করেনই, সাথে থাকে অলটারনেটিভ জবের বহু অপশন। হেজ ফান্ড বা প্রোপ্রাইটরি ট্রেডিং ফার্মে ট্রেডারদের চাহিদা অনেক বেশি। এছাড়া কর্পোরেট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম, ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়েও ট্রেডারদের প্রচুর চাহিদা। অপরদিকে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান বা ব্যাক্তিনির্বিশেষেও ফিন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে প্রচুর। দেশের বাইরে, বিশেষ করে আমেরিকা, চীন, জাপান, ইউকে বা কানাডার মত দেশগুলোতেও অভিজ্ঞ ট্রেডার হলে কাজের সুযোগ পাওয়া সম্ভব। একজন পুরোদস্তুর ট্রেডার হলে হয়ত আপনি ওয়াল-স্ট্রিটের মত বিশ্ববিখ্যাত জায়গায় করে নিতে পারেন নিজের স্থান।

 

কেন নেবেন ক্যারিয়ার টেস্ট?

  • সরাসরি ইন্টারভিউর কল পেতে
  • সরাসরি চাকরির পরীক্ষা দিতে
  • চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে
  • চাকরির জন্য দরকারি স্কিল অর্জন করতে
ক্যারিয়ার টেস্টে যান

Leave a Reply

আপনার নাম ও ইমেইল ঠিকানা দেয়া আবশ্যক। তবে মতামতের সাথে ইমেইল দেখানো হবে না।